ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটিতে প্রায় ৩০ কোটি শিক্ষার্থী স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। গত গ্রীষ্মে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং শিক্ষা খাতের নানা অনিয়ম নিয়ে ব্যাপক আলোচনার পর এখন ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার অবকাঠামো, শিক্ষার মান, শিক্ষক সংকট এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিক্ষার অসামঞ্জস্য—সবই সামনে এসেছে।
৬ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে একটি শিক্ষার্থী হোস্টেল ধসে প্রাণহানির ঘটনাও শিক্ষা খাতে অব্যবস্থাপনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। একই সময়ে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি দেশজুড়ে বিভিন্ন স্কুলের দুরবস্থার ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরতে সমর্থকদের উৎসাহিত করেছে। ফলে ভারতের স্কুলগুলোর শ্রেণিকক্ষ, ভবন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার মান নিয়ে মানুষের দৃষ্টি আরও তীব্র হয়েছে।
তবে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা শুধু ভাঙাচোরা ভবন বা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর গভীরে রয়েছে দীর্ঘদিনের একটি কাঠামোগত সংকট। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ামিনি আইয়ারের ভাষায়, পুরো ব্যবস্থাটি অনেক শিক্ষার্থীর জন্য যেন একটি ‘দুর্ভোগের যন্ত্র’ হয়ে উঠেছে।
ভারতে বিশ্বের অন্যতম কঠিন ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষা রয়েছে। প্রতি বছর কোটি কোটি শিক্ষার্থী সীমিতসংখ্যক ভালো বিশ্ববিদ্যালয়, পেশাগত প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি চাকরির সুযোগের জন্য প্রতিযোগিতা করে। এ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পরিবারগুলোকে বেসরকারি কোচিং, স্কুল ও কলেজের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা পূরণ হয় না।
আজম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্নাতকদের মাত্র ৭ শতাংশ এক বছরের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চাকরি পান। বিপুলসংখ্যক তরুণকে এরপর দীর্ঘ সময় বেকার থাকতে হয়। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া মানুষের সংখ্যা এবং উপযুক্ত চাকরির সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
তবে শুধু দুর্বল শিক্ষা ব্যবস্থাকেই ভারতের কর্মসংস্থান সংকটের প্রধান কারণ বলা যায় না। দুর্বল শাসনব্যবস্থা, বেসরকারি খাতের ওপর নানা বিধিনিষেধ এবং ব্যবসা পরিচালনার জটিলতাও নতুন চাকরি তৈরিতে বড় বাধা। কিন্তু শিক্ষার দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান দিয়েগোর কার্তিক মুরলিধরন বলেন, ভারত অনেক ক্ষেত্রে ‘দক্ষতার বদলে ডিগ্রিধারী মানুষ তৈরি করছে’।
স্কুলে ভর্তি বাড়লেও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন
ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা গত কয়েক দশকে দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। ১৯৯০ সালে দেশটির প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেত না। এখন প্রাথমিক শিক্ষার বাইরে থাকা শিশুর হার প্রায় ২ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ স্কুলে যাওয়ার সুযোগ অনেক বেড়েছে।
কিন্তু শিক্ষার্থী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক জায়গায় শিক্ষার মান ধরে রাখা যায়নি। ২০২২ সালে গ্রামীণ স্কুলগুলোতে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণির পাঁচজন শিশুর মধ্যে প্রায় তিনজন দ্বিতীয় শ্রেণির একটি লেখা ঠিকমতো পড়তে পারছিল না।
এরপর কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কয়েকটি রাজ্যে শিক্ষকরা শিশুদের মৌলিক পড়াশোনা, লেখা ও গণনার দক্ষতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেছেন। তারপরও বহু স্কুলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় প্রাথমিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। ফলে পরবর্তী শ্রেণিতে উঠলেও অনেক শিক্ষার্থী নতুন বিষয় শেখার প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করতে পারে না।
মাধ্যমিক পর্যায়েও একই সমস্যা দেখা যায়। শ্রেণিকক্ষের ছাদে গর্ত বা স্কুল ভবনের দুরবস্থা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার আরও বড় সমস্যা শিক্ষকদের জবাবদিহির ঘাটতি।
রাজ্য সরকারগুলোর পক্ষে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের কার্যকরভাবে জবাবদিহির মধ্যে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর একটি কারণ হিসেবে শিক্ষক ইউনিয়নগুলোর রাজনৈতিক প্রভাবের কথা বলা হয়েছে। ২০২৪ সালে গ্রামীণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গড়ে প্রতি আটটি কর্মদিবসের একটি দিন অনুপস্থিত ছিলেন।
ভারত আন্তর্জাতিক শিক্ষার মান যাচাইয়ের পিসা পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত মাত্র একবার, ২০০৯ সালে অংশ নিয়েছে। ওই পরীক্ষায় পড়া, গণিত ও বিজ্ঞানে ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে ভারতের অবস্থান ছিল নিচের তিনটির মধ্যে।
অভিভাবকদের বেসরকারি স্কুলমুখী হওয়ার প্রবণতা
সরকারি স্কুলের মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় অভিভাবকদের একটি বড় অংশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি ভারতীয় শিশু বেতনভিত্তিক বেসরকারি স্কুলে পড়ছে। অর্থাৎ মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৩৯ শতাংশ। ২০১৫ সালে এই হার ছিল ৩২ শতাংশ।
এর মধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুলের মান ভালো হলেও অধিকাংশই অপেক্ষাকৃত কম খরচের প্রতিষ্ঠান, যেখানে সীমিত আয়ের পরিবারগুলো সন্তানদের পড়ায়। অভিভাবকদের উন্নত শিক্ষার দাবি ইতিবাচক হলেও ব্যাপকভাবে সরকারি স্কুল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আরেকটি প্রভাব রয়েছে। এতে সরকারি স্কুলের মান উন্নত করার জন্য রাজনৈতিক চাপ কমে যেতে পারে।
বেসরকারি শিক্ষা খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে সরকারি ব্যবস্থার দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার পরিবর্তে অনেক পরিবার নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আলাদা পথ খুঁজছে।
উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ বাড়ছে, কিন্তু মান নিয়ে নতুন প্রশ্ন
ভারতের উচ্চশিক্ষা খাতও দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ ভারতীয় শিক্ষার্থী স্কুলের পর উচ্চশিক্ষায় যায়। এক দশক আগে এই হার ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। নিম্নবর্ণের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ার ঘটনাও এই সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখেছে।
তবে এই বাড়তি শিক্ষার্থীদের জায়গা দিতে দেশজুড়ে দ্রুত বেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ। এসবের অনেকগুলো ছোট ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, যেগুলো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়।
দক্ষিণ দিল্লির কম-আইটি ক্যারিয়ার একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠানে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা বছরে প্রায় ৪০ হাজার রুপি পর্যন্ত ব্যয় করছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় ফল না থাকায় তারা এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছে। অনেক পরিবারের জন্য এই অর্থ বড় ধরনের বিনিয়োগ এবং ঝুঁকি।
গত এক দশকে এ ধরনের ১০ হাজারের বেশি কলেজ গড়ে উঠেছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ রয়েছে। আর্থিক সংকটে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক সময় অধিভুক্ত কলেজ থেকে পাওয়া অর্থের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে নিম্নমানের প্রতিষ্ঠানকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার প্রণোদনা কমে যেতে পারে।
সমস্যার আরেকটি দিক হলো, দুর্বল স্কুলশিক্ষা নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী যখন কলেজে প্রবেশ করে, তখন তারা ইতোমধ্যেই পড়াশোনায় কয়েক বছর পিছিয়ে থাকে। এর ফলে শুধু কলেজের মান উন্নত করলেই সমস্যার সমাধান হয় না; পুরো শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিক দুর্বলতা মোকাবিলা করতে হয়।
ডিগ্রি আছে, কিন্তু চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা নেই
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে সামগ্রিকভাবে তাকালে কয়েকটি বড় সমস্যা স্পষ্ট হয়। প্রথমত, দেশটি তার পুরোনো শিক্ষা কাঠামোর অনেকটা এখনো বহন করছে।
স্বাধীনতার শুরুর দিকে ভারতের নেতৃত্বের একটি অংশ মনে করেছিল, সীমিতসংখ্যক ভালো স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে শিল্পায়নের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব। ফলে দীর্ঘদিন গণশিক্ষার তুলনায় অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
আজ ভারতের গণশিক্ষা ব্যবস্থা অনেক বড়। কিন্তু এর ভেতরে এখনো তীব্র বৈষম্য রয়েছে। অল্পসংখ্যক উচ্চমানের প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে তুলনামূলকভাবে সুবিধাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বড় অংশ জায়গা পায়। এর বিপরীতে রয়েছে বিপুলসংখ্যক নিম্নমানের প্রতিষ্ঠান।
আজম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের অমিত বসালের ভাষায়, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা কখনো ‘মাঝারি মানের শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে’ পরিকল্পিত হয়নি। ফলে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থীর প্রয়োজনই অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
দ্বিতীয় বড় সমস্যা হলো শিক্ষার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিকীকরণ। বেসরকারি স্কুলগুলো বছরে আনুমানিক ৩০ বিলিয়ন ডলার এবং কোচিং ব্যবসা ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে বলে ধারণা করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে বড় বাজার তৈরি করেছে।
দরিদ্র পরিবারগুলোও অনেক সময় ভবিষ্যতে ভালো চাকরির নিশ্চয়তা না থাকা সত্ত্বেও নিম্নমানের ডিগ্রির পেছনে অর্থ ব্যয় করে। ভারতের মতো বড় দেশে বেসরকারি শিক্ষাবাজার বাড়লে কঠোর ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। কিন্তু জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্তোষ মেহরোত্রার অভিযোগ, অনেক রাজনীতিক এই খাতকে অর্থ উপার্জনের সুযোগ হিসেবেও দেখেন। অধিভুক্ত কলেজগুলোর মালিকানা ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
তৃতীয় সমস্যা হলো সম্পদের ভুল ব্যবহার। শিক্ষায় বিপুল অর্থ ও সময় ব্যয় হলেও তার অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল সব সময় সেই অনুপাতে পাওয়া যাচ্ছে না।
একটি ডিগ্রি অনেক পরিবারের কাছে শুধু চাকরি পাওয়ার মাধ্যম নয়, সামাজিক মর্যাদার প্রতীকও। নারীদের ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষাকে অনেক সময় ভালো বিয়ের সম্ভাবনা বাড়ানোর উপায় হিসেবেও দেখা হয়। এমনকি কিছু সাধারণ কাজের ক্ষেত্রেও এখন অপ্রয়োজনীয়ভাবে স্নাতক ডিগ্রির শর্ত দেওয়া হচ্ছে।
ফলে ডিগ্রির সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু শ্রমবাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষতা সেই হারে বাড়ছে না।
সংস্কারের চ্যালেঞ্জ পুরো ব্যবস্থাজুড়ে
ভারতের শিক্ষা নিয়ে সাম্প্রতিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপের একটি ফল হলো—বিষয়টি জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার মান, পরীক্ষা, কোচিং, শিক্ষক জবাবদিহি এবং কর্মসংস্থানের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।
কিন্তু স্কুলের একটি ফুটো ছাদ মেরামত করার মতো সহজ নয় এই সংকটের সমাধান। প্রাথমিক শিক্ষায় মৌলিক দক্ষতা নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের জবাবদিহি বাড়ানো, বেসরকারি স্কুল ও কলেজের মান নিয়ন্ত্রণ, উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং ডিগ্রির সঙ্গে চাকরির বাজারের প্রয়োজনীয় দক্ষতার মিল তৈরি করা—সবগুলো ক্ষেত্রেই একসঙ্গে পরিবর্তন দরকার।
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা গত কয়েক দশকে ব্যাপকভাবে বড় হয়েছে। এখন বড় প্রশ্ন হলো, এই বিশাল ব্যবস্থাকে কীভাবে এমন একটি ব্যবস্থায় রূপ দেওয়া যায়, যেখানে শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়, শিক্ষার মান ও কর্মজীবনের প্রস্তুতিও গুরুত্ব পাবে। কারণ শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল-কলেজের দরজা খুলে দেওয়া প্রথম ধাপ; সেই শিক্ষাকে বাস্তব দক্ষতা ও সুযোগে পরিণত করাই আরও বড় চ্যালেঞ্জ।












