প্রস্তাবিত সংশোধিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের খসড়া নিয়ে সংবাদমাধ্যমের আপত্তির মুখে দুটি পর্যালোচনা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার সচিবালয়ে সম্পাদক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা জানান। তিনি বলেন, সাংবাদিককে গ্রেপ্তার বা তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আদালতের পূর্বানুমতির প্রস্তাবটি সরকার যথাযথ ও যৌক্তিক মনে করছে। সাইবার নিরাপত্তা আইন সংশোধনের কাজ তাড়াহুড়া করে শেষ করা হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একটি কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। এই কমিটি সম্পাদক ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবে। অন্যটি গঠন করবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, যেখানে থাকবেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। কমিটিগুলোকে ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সুপারিশ পাওয়ার পর সংশোধিত খসড়া আবার সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এরপর মন্ত্রিসভা ঘুরে তা যাবে সংসদে।
গণমাধ্যমের আপত্তির মূল জায়গা খসড়ায় থাকা ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিধান। সম্পাদক পরিষদ, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স ও নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এই বিধানের বিরোধিতা করেছে। তারা সংবাদমাধ্যমকে আইনের আওতার বাইরে রাখার দাবিও তুলেছে। নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী সতর্ক করে বলেছেন, সংশোধন ছাড়া আইনটি পাস হলে দেশ একটি বিশাল কারাগারে পরিণত হবে। সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, আইন প্রণয়নের সময় বাস্তবে তা কীভাবে প্রয়োগ হয়, সেটিও বিবেচনা করা উচিত।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, সংশোধনের উদ্দেশ্য সাইবার অপরাধ ঠেকানো, তরুণদের সুরক্ষা এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা। গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী ও আইটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও পরামর্শ চলছে। তবে আদালতের পূর্বানুমতির প্রস্তাব এখন পর্যন্ত কেবল সাংবাদিকদের জন্য আলোচনায় এসেছে। আইনটি সাধারণ নাগরিকদের অনলাইন কর্মকাণ্ডেও প্রযোজ্য হওয়ার কথা। ফলে সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারীরা একই সুরক্ষা পাবেন কি না, সেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
কমিটির ১৫ দিনের সময়সীমা শেষ হবে অক্টোবরের মাঝামাঝি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিধান খসড়ায় থাকে নাকি বাদ যায়, সেটিই হবে আপসের প্রথম মাপকাঠি। সংশোধিত খসড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশের পর সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে আবার মতামত দেওয়ার সুযোগ কতটা থাকে, তা সম্পাদক ও সাধারণ নাগরিক দুই পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হবে।












