গুগল তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী এআই মডেল আপাতত সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করছে না। প্রতিষ্ঠানটি বুধবার জেমিনাই ফোর আর্গন নামের নতুন এআই মডেল ঘোষণা করে। তবে এটি দেওয়া হচ্ছে শুধু যাচাই করা সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি দলকে। গুগলের আশঙ্কা, হ্যাকাররা মডেলটির অপব্যবহার করতে পারে। মার্কিন সরকারকেও স্বেচ্ছায় আগাম ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। পরীক্ষকদের মতামত নিয়ে পরে বৃহত্তর পরিসরে ছাড়ার কথা ভাবা হবে। কয়েক মাস দেরির পর মডেলটির এই ঘোষণা এল।
গুগলের প্রধান এআই স্থপতি কোরায় কাভুকচুওলু এক ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, এই মাত্রার সক্ষমতা নিরাপদে ছাড়তে ধাপে ধাপে এগোতে হয়। গুগলের দাবি, আর্গন জটিল সফটওয়্যার প্রকৌশল, আইনি ও আর্থিক বিশ্লেষণ এবং সাইবার প্রতিরক্ষায় বিশেষ দক্ষ। গুরুতর সফটওয়্যার ত্রুটি খুঁজে বের করা ও সারানোয় এটি এগিয়ে আছে। গুগল বলছে, পরোক্ষ নির্দেশনার মাধ্যমে কারসাজি ঠেকাতেও মডেলটি আগের চেয়ে বেশি সক্ষম। মডেলটি আগের প্রো সিরিজের চেয়ে আকারে বড়। প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ফিরতেই এটি আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গুগলের ফেয়ারউইন্ড প্রোগ্রামের সদস্যরাই এটি ব্যবহার করতে পারবেন। গুগলের নিজস্ব প্রকৌশলীরা অবশ্য বড় কোড স্থানান্তর ও ত্রুটি সারানোর কাজে এটি ব্যবহার শুরু করেছেন।
ঘোষণাটি এসেছে হোয়াইট হাউসে প্রযুক্তি নেতাদের এক বৈঠকের পরদিন। সেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে বড় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো একটি স্বেচ্ছামূলক চুক্তিতে সই করে। চুক্তিতে নিজেদের এআই ব্যবস্থার ঝুঁকি নিজেরাই তদারকির অঙ্গীকার করা হয়েছে। গুগল জানিয়েছে, সাইবার হামলা কিংবা রাসায়নিক, জৈব ও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সাহায্যের অনুরোধ মডেলটি প্রত্যাখ্যান করবে। মডেল যাতে নির্ধারিত কাজের বাইরে না যায়, সে জন্য আলাদা নজরদারি ব্যবস্থাও আছে। গত জুলাইয়ে ওপেনএআই জানিয়েছিল, তাদের দুটি মডেল একটি পরীক্ষার সুরক্ষিত পরিবেশ ভেঙে বেরিয়ে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে ঢুকে পড়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকে পুরো খাতে সতর্কতা বেড়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন সক্ষমতা ব্যাংক, হাসপাতাল ও সরকারি ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশে কাজে লাগতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য এই সতর্কতা বিশেষ অর্থবহ। ২০১৬ সালে সাইবার হামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়েছিল। দেশের ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা ও সরকারি তথ্যভান্ডার এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অনলাইননির্ভর। শক্তিশালী এআই যেমন আক্রমণকারীর হাতে অস্ত্র হতে পারে, তেমনি রক্ষাকারীর হাতেও ঢাল হতে পারে। প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ কবে পাবে। নতুন এআই মডেল আপাতত মূলত বড় দেশ ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দলের নাগালেই থাকছে। তাই দেশের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা নিজস্বভাবে গড়ে তোলার প্রয়োজন আরও স্পষ্ট হলো।
আর্গনের একটি কারিগরি তথ্য এর ক্ষমতার মাত্রা বোঝায়। মডেলটি এক উত্তরে ১০ লাখ টোকেন পর্যন্ত লিখতে পারে। গুগলের আগের মডেলগুলোর সীমা ছিল ৬৪ হাজার টোকেন। অর্থাৎ এক দফায় প্রায় ১৬ গুণ বেশি লেখা বা কোড তৈরি সম্ভব। বিশাল সফটওয়্যারের পুরো অংশ একবারে নতুন করে লেখার এই ক্ষমতাই নতুন এআই মডেল প্রকাশে গুগলকে এত সতর্ক করেছে।












