রাশিয়া থেকে আসা পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম সেনাবাহিনীর পাহারায় পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে। শনিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে জ্বালানিবাহী বহরটি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তার পর রূপপুরের ইউরেনিয়াম চালান নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাল।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার পর বিশেষ কার্গো বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে চালানটি গ্রহণ করেন। শনিবার সকাল ৭টার দিকে তিনটি বিশেষ লরিতে জ্বালানি নিয়ে বহরটি পাবনার পথে রওনা দেয়। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বহরের সঙ্গে ছিলেন। বহর চলার সময় মহাসড়কের একটি লেন খালি রাখা হয়।
এই চালানের জ্বালানি দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক চাহিদা মেটাবে। একই সঙ্গে প্রথম ইউনিটে নতুন করে জ্বালানি ভরার কাজেও এটি ব্যবহার হবে। প্রকল্পের প্রশাসনপ্রধান গোলাম মাহবুব জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে মোট নয়টি ফ্লাইটে জ্বালানি আসবে। এসব চালানে থাকবে ২০০টির বেশি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি, যার ১৬৩টি দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য। শনিবারের বহরটি ছিল এই ধাপের প্রথম চালান। রূপপুরের ইউরেনিয়াম চালান আসলে ২৪ সেপ্টেম্বর আসার কথা ছিল। কিন্তু আকাশপথের অনুমতি না মেলায় সেটি পিছিয়ে যায়।
রূপপুর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। পদ্মার তীরে ঈশ্বরদী উপজেলায় রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় কেন্দ্রটি নির্মাণ হচ্ছে। দুই ইউনিট মিলিয়ে এর সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রতিটি ইউনিটের সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের জ্বালানি এসেছিল ২০২৩ সালে। চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে তেল ও গ্যাস আমদানিতে বড় ধাক্কা খেয়েছে দেশ। আমদানিনির্ভর জ্বালানির বাইরে নিজস্ব বড় বিদ্যুৎ উৎসের প্রশ্নে তাই রূপপুর বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এখন নজর বাকি আট চালানের দিকে। ডিসেম্বরের মধ্যে সবগুলো নির্বিঘ্নে এলে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রয়োজনীয় জ্বালানি দেশে চলে আসবে। তবে আকাশপথের অনুমতি নিয়ে সেপ্টেম্বরের মতো জটিলতা আবার দেখা দিলে সময়সূচি পিছিয়ে যেতে পারে। রূপপুরের ইউরেনিয়াম চালান সময়মতো শেষ হওয়া তাই প্রকল্পের পরবর্তী ধাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।












