চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা সামাল দিতে নতুন কৌশল গ্রহণের পথে এগোচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। দীর্ঘদিন ধরে চীনের পণ্য আমদানি, ইউরোপের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল ইউরোপে। এবার সেই উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন অর্থনৈতিক চাপ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্স ও জার্মানি একসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
গত ৫ অক্টোবর ইউরোপীয় কমিশনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দেশ দুটি প্রস্তাব করেছে, কোনো দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরোপ করা বাণিজ্যিক শাস্তির জবাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিলে ইইউ যেন দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে। চিঠিতে সরাসরি চীনের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য যে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলা করা, তা ইউরোপের নীতিনির্ধারকদের কাছে স্পষ্ট।
আগামী ১৫ অক্টোবরের সম্মেলনে ইউরোপের অন্য নেতারা ফ্রান্স ও জার্মানির এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানাবেন কি না, তা নির্ধারিত হওয়ার কথা। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্যিক বিরোধের ক্ষেত্রে আরও দ্রুত ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগ পেতে পারে। তবে শুধু শুল্ক বাড়ানো বা পাল্টা নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ফ্রান্স ও জার্মানির অবস্থানে পরিবর্তন
চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক কীভাবে পরিচালনা করা উচিত, তা নিয়ে ইউরোপের দুই প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য ছিল। ফ্রান্স চীনা পণ্যের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে শুল্ক ও অন্যান্য বাণিজ্যিক বাধা আরোপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, চীনে বিপুল পরিমাণ পণ্য বিক্রি করে এমন জার্মানির শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এত দিন তুলনামূলকভাবে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
এই মতপার্থক্যের কারণে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি অনেক সময় অসংগতিপূর্ণ হয়েছে। একদিকে ইউরোপীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে চীনের বিশাল বাজারে প্রবেশাধিকার ধরে রাখার স্বার্থও উপেক্ষা করা যায়নি।
কিন্তু পরিস্থিতি এখন বদলাচ্ছে। চীনা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কম দামের পণ্যের ব্যাপক সরবরাহ এবং ইউরোপের নিজস্ব উৎপাদন খাতের ওপর চাপ জার্মানির শিল্পাঞ্চলকে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ফলে ফ্রান্স ও জার্মানি এখন আগের তুলনায় কঠোর অবস্থানের দিকে এগোচ্ছে।
তবে তাদের প্রস্তাবের অর্থ এই নয় যে ইউরোপ চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করতে চায়। বরং লক্ষ্য হলো, চীন যেন অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতাকে রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সেই সক্ষমতা তৈরি করা।
চীনের রপ্তানি ও ইউরোপের শিল্পে বাড়তি চাপ
চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্যিক ভারসাম্য গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে। ২০০০ সালে, চীনের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগ দেওয়ার এক বছর আগে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ইইউর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশের সমান।
বর্তমানে সেই অনুপাত বেড়ে প্রায় ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থমূল্যে এটি প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ইউরোর কাছাকাছি, যা মার্কিন ডলারে প্রায় ১১০ কোটি ডলার।
এই ব্যবধান শুধু বাণিজ্য পরিসংখ্যানের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইউরোপের উৎপাদনশিল্পের ভবিষ্যৎ, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা।
চীন বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক গাড়ি, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল, বায়ুবিদ্যুৎ টারবাইন, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য শিল্পপণ্য ইউরোপের বাজারে পাঠাচ্ছে। এসব পণ্যের অনেকগুলোই এমন খাতে প্রতিযোগিতা তৈরি করছে, যেখানে একসময় ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর শক্তিশালী অবস্থান ছিল।
চীনের সমালোচকেরা অভিযোগ করেন, সরকারি ভর্তুকি এবং তুলনামূলকভাবে কম মূল্যমানের মুদ্রার সুবিধা কাজে লাগিয়ে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে কৃত্রিমভাবে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারছে। এর ফলে ইউরোপের উৎপাদকদের পক্ষে একই দামে পণ্য বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তবে সব চীনা পণ্যের কম দামকে শুধু ভর্তুকির ফল হিসেবে দেখা যায় না। উৎপাদনের ব্যাপকতা, উন্নত সরবরাহব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং বিপুল শিল্পভিত্তিও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ কম রাখতে সাহায্য করে। ফলে ইউরোপের জন্য চ্যালেঞ্জটি শুধু বাণিজ্যিক নিয়ম প্রয়োগের নয়; নিজেদের শিল্পকে আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলারও।
বিরল খনিজ থেকে ওষুধ—নির্ভরতার ঝুঁকি
ইউরোপের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা চললেও গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপকরণ ও কাঁচামালের জন্য ইউরোপের বহু প্রতিষ্ঠানকে সেই চীনের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।
গত বছর চীন বিরল মৃত্তিকা খনিজের রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এসব খনিজ আধুনিক প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ। রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কারণে ইউরোপের অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিল্পে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ নিয়ে সংকট তৈরি হয়।
এ ঘটনা ইউরোপকে বুঝিয়ে দিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ যদি একটি দেশের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে, তাহলে সেই দেশ রপ্তানি সীমিত করেই অন্য দেশের শিল্পকে চাপে ফেলতে পারে।
একই ঝুঁকি রয়েছে ওষুধশিল্পেও। চলতি বছরের এপ্রিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইইউ ইনস্টিটিউট ফর সিকিউরিটি স্টাডিজ ৫৬টি সক্রিয় ওষুধ উপাদান এবং সেগুলো তৈরির প্রাথমিক রাসায়নিক উপকরণের সরবরাহ নিয়ে একটি ঝুঁকি মূল্যায়ন করে।
গবেষণায় দেখা যায়, এসব উপাদানের মধ্যে ২০টির ক্ষেত্রে চীন থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে ইউরোপের ওষুধ প্রস্তুতকারকদের গুরুতর সমস্যায় পড়তে হতে পারে। সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক অ্যামোক্সিসিলিন তৈরিতে ব্যবহৃত প্রাথমিক রাসায়নিক উপকরণের ৭০ শতাংশেরও বেশি চীন থেকে আসে।
অর্থাৎ চীনের সঙ্গে বিরোধ বাড়লে তার প্রভাব শুধু গাড়ি বা যন্ত্রপাতির বাজারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ওষুধ উৎপাদন, জনস্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই নির্ভরশীলতা ইউরোপের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক এমন এক সময়ে, যখন বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ ও বাণিজ্যিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ বাড়ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আরও ক্ষমতা দিতে চায় ফ্রান্স ও জার্মানি
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্স ও জার্মানি ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাতে থাকা বাণিজ্যিক ক্ষমতা আরও সক্রিয়ভাবে ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে।
তাদের পরিকল্পনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। প্রথমত, বিদ্যমান বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা শুধু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রয়োজনে পুরো শিল্পখাতের ওপরও প্রয়োগের সুযোগ বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, বাণিজ্যনীতি পরিচালনার প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।
এ ছাড়া কোনো দেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত পাল্টা পদক্ষেপ নিলে দ্রুত জবাব দেওয়ার ক্ষমতাও বাড়াতে চায় দুই দেশ।
এর উদ্দেশ্য হলো, ইউরোপের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট দেশকে সম্ভাব্য পাল্টা ব্যবস্থার পরিণতি বিবেচনা করতে বাধ্য করা।
তবে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর ঐকমত্য, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আইনি ভিত্তি এবং বাস্তবে তা প্রয়োগের সক্ষমতার ওপর।
চীনেরও রয়েছে ইউরোপের ওপর নির্ভরতা
চীনকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী মনে হলেও ইউরোপের সঙ্গে তার সম্পর্ক একতরফা নয়। ইউরোপীয় বাজার চীনের অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কের কারণে অনেক চীনা কোম্পানির জন্য লাভজনকভাবে পণ্য বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ইউরোপের বাজারে প্রবেশাধিকার তাদের জন্য তাই গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে চীনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও শিল্প উপকরণের জন্য ইউরোপের ওপর নির্ভরশীল। উদাহরণ হিসেবে নেদারল্যান্ডসের চিপ তৈরির যন্ত্রপাতি এবং বিমান নির্মাণে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কথা বলা যায়।
এই পারস্পরিক নির্ভরতা ইউরোপকে কিছুটা দর-কষাকষির ক্ষমতা দেয়। কিন্তু সেই ক্ষমতা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হলে ইউরোপকে নিজের দুর্বলতাগুলোও দূর করতে হবে।
কারণ কোনো দেশের ওপর নির্ভরতা থাকলে তাকে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া সহজ, কিন্তু সেই হুমকি বাস্তবায়ন করা কঠিন। চীন থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল বা উপাদান সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে ইউরোপের নিজেদের শিল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
শুধু শুল্ক বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হবে না
ফ্রান্স ও জার্মানির প্রস্তাবের একটি দুর্বল দিক হলো, এতে শুল্ক বাড়ানো ও পাল্টা বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অথচ যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংঘাতে উচ্চ শুল্ক আরোপ করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। শুল্কের কারণে আমদানিকারকদের খরচ বাড়তে পারে, ভোক্তাদের পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে এবং যেসব প্রতিষ্ঠান উৎপাদনের জন্য বিদেশি উপকরণের ওপর নির্ভরশীল, তাদের প্রতিযোগিতার ক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
অর্থাৎ চীনের ওপর চাপ তৈরি করতে গিয়ে ইউরোপ যদি নিজের শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে ফেলে, তাহলে সেই কৌশল শেষ পর্যন্ত উল্টো ফল দিতে পারে।
ইউরোপের জন্য আরও কার্যকর পথ হলো বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা। গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল ও শিল্প উপকরণের জন্য একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে হবে।
এ ক্ষেত্রে ব্রাজিল ও কানাডার মতো দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এসব দেশে ইউরোপের প্রয়োজনীয় বিরল মৃত্তিকা খনিজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রয়েছে। বিকল্প সরবরাহকারী তৈরি করা গেলে চীনের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ভবিষ্যতে কোনো বাণিজ্যিক বিরোধ দেখা দিলে ইউরোপের হাতে আরও বেশি বিকল্প থাকবে।
পাশাপাশি ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা ও নিয়মকানুনের চাপ কমানোর প্রয়োজন রয়েছে। সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করার ব্যয়বহুল বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। নিয়মকানুন সহজ করা গেলে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো আরও দক্ষতার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে।
অর্থনৈতিক প্রতিরোধের আসল শক্তি কোথায়?
ফ্রান্স ও জার্মানির উদ্যোগ ইউরোপের বাণিজ্যনীতিতে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চীনের অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা ইউরোপের জন্য প্রয়োজনীয় হতে পারে। তবে শুধু হুমকি দিয়ে চীনকে নির্ভরতা কমাতে বাধ্য করা যাবে না।
ইউরোপের সামনে মূল কাজ হলো নিজস্ব শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের বিকল্প উৎস তৈরি করা, নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার খুঁজে বের করা এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা।
চীন যদি জানে যে ইউরোপ বিকল্প উৎস থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করতে পারবে, তাহলে রপ্তানি সীমিত করে ইউরোপকে চাপে ফেলার ক্ষমতা অনেকটাই কমে যাবে। বিপরীতে, বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা তৈরি না করে শুধু শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিলে চীন ধরে নিতে পারে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে ইউরোপই আগে সমঝোতায় আসতে বাধ্য হবে।
তাই ইউরোপের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হবে বাণিজ্যিক প্রতিরোধের ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা একসঙ্গে বাড়ানো। পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অস্ত্র হাতে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন যেন কমে আসে, তার জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে।
শেষ পর্যন্ত চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ইউরোপের সাফল্য নির্ভর করবে শুধু কতটা কঠোর শুল্ক আরোপ করা হলো, তার ওপর নয়। বরং ইউরোপ কতটা দ্রুত নিজের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারে, সরবরাহব্যবস্থাকে বৈচিত্র্যময় করতে পারে এবং নিজস্ব শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারে, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।












