সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাওয়ার নিয়ম আবার পর্যালোচনা করবে সরকার। দ্বীপে দিনে কতজন যেতে পারবেন, ভ্রমণের মৌসুম কত দিন হবে, তা নতুন করে ভাবা হবে। পর্যটকবাহী জাহাজ কোথা থেকে ছাড়বে, সেটিও পর্যালোচনার তালিকায় আছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সোমবার এ কথা জানান। সচিবালয়ে পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তিনি। পর্যালোচনা শেষে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
বর্তমান নিয়ম ঠিক হয়েছিল ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবরের এক প্রজ্ঞাপনে। সেই নিয়মে নভেম্বর মাসে শুধু দিনে গিয়ে দিনেই ফিরতে হয়। রাতে দ্বীপে থাকার অনুমতি মেলে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে। তখন দিনে গড়ে ২ হাজারের বেশি পর্যটক যেতে পারেন না। ফেব্রুয়ারিতে পর্যটক যাওয়া বন্ধ থাকে। ফলে নভেম্বর থেকে আবার সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাওয়ার কথা। তার আগেই নিয়মগুলো নতুন করে দেখার উদ্যোগ নিল সরকার।
বৈঠকে মন্ত্রী মিন্টু বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় ভালো করে বিবেচনা করতে হবে। দ্বীপটি কতজন মানুষের চাপ সইতে পারে, সেটি প্রথম প্রশ্ন। বর্জ্য কীভাবে সামলানো হবে, নিরাপদ খাবার পানি কোথা থেকে আসবে, তাও দেখতে হবে। সাগরের প্রাণ ও প্রতিবেশের ওপর পর্যটনের প্রভাবও বিবেচনায় থাকবে। পর্যটকের নিরাপত্তা আর যাতায়াত ব্যবস্থাপনাও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করেই পরের সিদ্ধান্ত হবে। বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা ছিলেন। পর্যটন ব্যবসায়ী ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করেই পর্যটন চালাতে হবে।
সেন্ট মার্টিন দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ। তাই এখানে পর্যটনের প্রশ্ন শুধু ব্যবসার নয়, পরিবেশ রক্ষারও। সামুদ্রিক কচ্ছপ, পাখি ও প্রবাল রক্ষার বিধিনিষেধ আগের মতোই বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে। পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম পর্যটকদের কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড স্বীকৃত পোর্টাল থেকে কিউআর কোডসহ ট্রাভেল পাস ও টিকিট কিনতে বলেছেন তিনি। নিষিদ্ধ পলিথিন নিয়ে দ্বীপে যাওয়া যাবে না। একবার ব্যবহারের প্লাস্টিক এড়িয়ে চলতে হবে। পানির জন্য নিজের ফ্লাস্ক সঙ্গে নিতে উৎসাহ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। পরিবেশ রক্ষার নির্দেশনা মেনে চলতেও পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সেন্ট মার্টিনে পর্যটক সীমা নিয়ে দুই দিকেই চাপ আছে। টেকনাফ ও কক্সবাজারের অনেক মানুষের আয় এই মৌসুমের ওপর নির্ভর করে। আবার অতিরিক্ত ভিড়ে দ্বীপের প্রবাল ও সৈকতের ক্ষতি হয়। নতুন সিদ্ধান্তে এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খোঁজার কথা বলছে সরকার। দৈনিক সীমা বাড়লে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন, কিন্তু দ্বীপের ওপর চাপও বাড়বে। সীমা কমলে প্রকৃতি কিছুটা স্বস্তি পাবে, তবে স্থানীয় আয় কমতে পারে। জাহাজ ছাড়ার জায়গা বদলালে যাত্রার খরচ ও সময়েও পরিবর্তন আসতে পারে। যাঁরা এবারের শীতে দ্বীপে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের তাই চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষা করাই ভালো। সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাওয়ার নতুন নিয়ম কবে আসে, সেদিকেই এখন নজর সবার।












