চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আগামী দিনের বিশ্বব্যবস্থার গতিপথ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। দুই দেশের অর্থনৈতিক শক্তি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, সামরিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভূমিকার কারণে তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রতিটি পরিবর্তন বিশ্বের অন্য দেশগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলে। ফলে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বিরোধ বাড়লে তার মূল্য শুধু এই দুই দেশকে দিতে হয় না; বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা ও কূটনীতিও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
এই বাস্তবতায় ২০২৬ সালে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের পরপর সফরকে কেবল কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিং সফর করেন। এর কয়েক মাস পর ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। ১১ বছর পর কোনো চীনা প্রেসিডেন্টের যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফর এবং একই ছয় মাসে দুই দেশের রাজধানীতে দুই নেতার উপস্থিতি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
তবে সফরের গুরুত্ব বিচার করতে হলে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের বাইরে তাকাতে হবে। সামরিক অভ্যর্থনা, রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ কিংবা যৌথ সাংস্কৃতিক আয়োজন কূটনীতিতে পারস্পরিক স্বীকৃতি ও সম্মানের বার্তা বহন করে। কিন্তু এসব প্রতীকী পদক্ষেপের প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে দুই সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই সিদ্ধান্ত কতটা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করে, তার ওপর।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু সংঘাত অনিবার্য নয়
চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অন্যতম বড় প্রশ্ন হলো, একটি প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তি এবং দ্রুত উত্থানশীল শক্তি কি দীর্ঘমেয়াদে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করতে পারে? ইতিহাসের একটি বহুল আলোচিত ধারণা হলো, এ ধরনের ক্ষমতার পালাবদল শেষ পর্যন্ত সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়। প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডিসের বিশ্লেষণ থেকে পরিচিত এই ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আলোচনায় ‘থুসিডাইডিস ফাঁদ’ নামে পরিচিত।
কিন্তু ইতিহাসের কোনো প্রবণতাকে অবশ্যম্ভাবী নিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া বিপজ্জনক। রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত, নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গতিপথ বদলে দিতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেই যুদ্ধ হবে, এমন সিদ্ধান্ত আগেভাগে মেনে নেওয়া হলে সংঘাত এড়ানোর রাজনৈতিক উদ্যোগ দুর্বল হয়ে পড়ে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন সম্পর্ককাঠামোর মূল তাৎপর্য এখানেই। দুই দেশের নেতারা কৌশলগত স্থিতিশীলতার ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্যতা ও পারস্পরিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এর লক্ষ্য প্রতিযোগিতা বিলুপ্ত করা নয়; বরং প্রতিযোগিতাকে এমন সীমার মধ্যে রাখা, যাতে তা সরাসরি সংঘাতে রূপ না নেয়।
পারস্পরিক সম্মানের অর্থ হলো একে অন্যের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং উন্নয়নের পথকে স্বীকৃতি দেওয়া। ন্যায্যতার নীতি একতরফা সুবিধা আদায়ের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দেয়। আর পারস্পরিকতার ধারণা বলছে, দুই দেশের উদ্বেগ ও স্বার্থকে সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
এই নীতিগুলো কার্যকর হলে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার বিরোধ মোকাবিলায় একতরফা নিষেধাজ্ঞা কিংবা চাপ প্রয়োগের বদলে আলোচনার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে নীতিগত ঘোষণা বাস্তব আচরণে প্রতিফলিত না হলে এই কাঠামোও কেবল কূটনৈতিক ভাষ্য হয়ে থাকবে।
সমঝোতার স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ার প্রয়োজন
রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে বাণিজ্য, মাদকবিরোধী আইন প্রয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়সহ আটটি বিষয়ে সমঝোতা ও অগ্রগতির কথা উঠে এসেছে। বাণিজ্যবিরোধ কমাতে দুই পক্ষ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যবিষয়ক কর্মপরিসর পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি একটি বাণিজ্য বোর্ড প্রতিষ্ঠা এবং পারস্পরিক শুল্ক হ্রাসের ব্যবস্থা নিয়ে একমত হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় একে অন্যের কাছ থেকে আমদানি করা প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আগের কুয়ালালামপুর বৈঠকে অর্জিত সমঝোতাগুলোও এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এসব পদক্ষেপের তাৎপর্য শুধু শুল্ক কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত আলোচনার জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা থাকলে বিরোধ দেখা দেওয়ার পর দুই দেশের হাতে তা মোকাবিলার একটি নির্দিষ্ট পথ থাকে। ব্যবসায়ী, উৎপাদক ও বিনিয়োগকারীরাও তখন নীতিগত পরিবর্তন সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ধারণা পান। বিপরীতে, প্রতিটি বিরোধ যদি নতুন নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা ব্যবস্থা কিংবা বাণিজ্য বিচ্ছিন্নতার দিকে যায়, তাহলে অনিশ্চয়তার ব্যয় দুই দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও একই ধরনের বাস্তববাদ প্রয়োজন। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই এই প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। প্রযুক্তিগত নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা তাদের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়াতে পারে, কিন্তু প্রযুক্তির নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার প্রশ্নে সহযোগিতার প্রয়োজনও অস্বীকার করা যায় না। পারস্পরিক সক্ষমতা থেকে শেখার সুযোগ বন্ধ করে দিলে উভয় দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মাদক পাচার দমনে যৌথ উদ্যোগ, পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ এবং কৃষি, জলবায়ু, জনস্বাস্থ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও সম্পর্কের বাস্তব ক্ষেত্রগুলোকে সামনে আনে। বড় রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেও এ ধরনের সহযোগিতা বজায় রাখা গেলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর নির্ভরশীল হতে হয় না।
জনগণের সম্পর্কও কূটনীতির অংশ
রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক কেবল সরকার ও নেতাদের সিদ্ধান্তে টিকে থাকে না। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়লে ভুল ধারণা, সন্দেহ ও বিদ্বেষ সহজেই জায়গা করে নেয়। অন্যদিকে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসা এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সম্পর্ক রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তি ধরে রাখতে পারে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ইতিহাসে এমন যোগাযোগের বহু উদাহরণ রয়েছে। দুই শতাব্দীর বেশি সময়ের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানি সামরিকবাদের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াই এবং ১৯৭০-এর দশকে পিংপং কূটনীতির মাধ্যমে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের অভিজ্ঞতা দেখায়, রাজনৈতিক দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সি চিন পিং আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ মার্কিন তরুণকে চীনে পড়াশোনা ও ভ্রমণের জন্য স্বাগত জানানোর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। এর আগে পাঁচ বছরে ৫০ হাজার মার্কিন তরুণকে আমন্ত্রণ জানানোর কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ের আড়াই বছর আগেই সম্পন্ন হয়েছিল বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের বিনিময় কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু পর্যটন বা শিক্ষা নয়; বরং একে অন্যের সমাজ, ইতিহাস ও বাস্তবতা সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ তৈরি করা।
জনগণের এই যোগাযোগ সরকারি সম্পর্কের বিকল্প নয়, কিন্তু তা কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভিত্তি। রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক পরিচিতি অতিরঞ্জিত প্রচার এবং একপেশে ধারণার প্রভাব কমাতে পারে।
দ্বিপক্ষীয় স্থিতিশীলতার বৈশ্বিক গুরুত্ব
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের প্রভাব দ্বিপক্ষীয় অর্থনীতি বা নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ, জলবায়ু মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের ওপরও এই সম্পর্কের প্রভাব রয়েছে। দুই দেশ যখন মুখোমুখি অবস্থানে যায়, তখন অন্য রাষ্ট্রগুলোর ওপরও পক্ষ বেছে নেওয়ার চাপ বাড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকে চীনে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ফোরামের নেতাদের বৈঠক এবং যুক্তরাষ্ট্রে জি-২০ নেতাদের সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতির মধ্যে দুই দেশের সমন্বয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্য, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা, জলবায়ু কার্যক্রম ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মতো বিষয়গুলোতে যোগাযোগ বজায় রাখা গেলে বহুপক্ষীয় উদ্যোগের সুযোগ বাড়তে পারে।

চীন এমন একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যেখানে বিভিন্ন রাষ্ট্রের নিজস্ব ভূমিকা থাকবে এবং সমৃদ্ধির সুযোগ ভাগাভাগি করা যাবে। এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্বের ধারণার পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু মতাদর্শগত ও কৌশলগত পার্থক্য থাকা মানেই সহযোগিতার সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। বরং ভিন্ন অবস্থানের মধ্যেও ন্যূনতম অভিন্ন স্বার্থ খুঁজে বের করাই কার্যকর কূটনীতির পরীক্ষা।
ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়নই বড় পরীক্ষা
তবে নতুন কাঠামো নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার কারণ নেই। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়ে মৌলিক মতপার্থক্য রয়ে গেছে। তাই সমঝোতা হওয়ার পরও নতুন বিরোধ দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়।
চীন তার সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নগত স্বার্থকে আলোচনার বাইরে রাখার অবস্থান জানিয়েছে। তাইওয়ান প্রশ্ন, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে বিতর্ক এবং উন্নয়নের অধিকারও দুই দেশের সম্পর্কের সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। এসব প্রশ্নে মতপার্থক্য দূর হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।
প্রকৃত পরীক্ষা শুরু হবে রাষ্ট্রীয় সফর শেষ হওয়ার পর। পরবর্তী সংকটে দুই দেশ কি আলোচনার ব্যবস্থা সচল রাখবে? শুল্ক ও প্রযুক্তি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে কি তারা পূর্বসম্মত নীতির ভিত্তিতে সমাধান খুঁজবে? পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর উদ্যোগ কি বাস্তব নীতিতে প্রতিফলিত হবে? এসব প্রশ্নের উত্তরই নতুন সম্পর্ককাঠামোর কার্যকারিতা নির্ধারণ করবে।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামনে দুটি পথ রয়েছে। একটি হলো অবিশ্বাসের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা বাড়ানো, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপকে অন্য পক্ষের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হবে। অন্যটি হলো নিজেদের স্বার্থ ও মতপার্থক্য অক্ষুণ্ন রেখেও সংঘাতের ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। দ্বিতীয় পথটি সহজ নয়, কিন্তু প্রথম পথের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্যও কম নয়।
দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সফর তাই কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়; বরং একটি সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা। এই দিকনির্দেশনার মূল্য নির্ভর করবে প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং দুই পক্ষ কতটা ধারাবাহিকভাবে পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্যতা ও আলোচনার নীতি মেনে চলে, তার ওপর। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান কেবল সম্মেলনের ঘোষণায় প্রতিষ্ঠিত হয় না। প্রতিদিনের সিদ্ধান্ত, সংকটের মুহূর্তে সংযম এবং বিরোধের মধ্যেও যোগাযোগ বজায় রাখার রাজনৈতিক সদিচ্ছাই একে বাস্তব রূপ দিতে পারে।












