দেশে চলতি বছর ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৯২০ জন। ১১ অক্টোবর পর্যন্ত বছরের মোট ভর্তি ছিল ৯৯ হাজার ২৭৫ জন, মৃত্যু ৩০৩ জন। অক্টোবরের শুরু থেকে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজারের মতো রোগী ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
এ বছর সবচেয়ে খারাপ গেছে সেপ্টেম্বর। ওই এক মাসেই ভর্তি হয়েছিলেন ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন, মারা যান ১৪৮ জন। অক্টোবরেও চাপ কমেনি। মাসের প্রথম আট দিনেই মৃত্যু হয় ৪৯ জনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ৬ অক্টোবর পর্যন্ত মোট মৃত্যুর ৫২.৩ শতাংশই নারী। এলাকাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়, এরপর খুলনা বিভাগে।
এবার ডেঙ্গু শুধু রাজধানীর সমস্যা নয়। ১১ অক্টোবরের হিসাবে এক দিনে ভর্তি দুই হাজার ১৯৩ রোগীর অর্ধেকের বেশি ছিলেন ঢাকা বিভাগের বাইরে। খুলনা বিভাগে ৩০৪ জন, চট্টগ্রামে ২৯৩ জন আর বরিশালে ২৩৬ জন ভর্তি হন সেদিন। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে এই চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
গত বছর সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন, মারা যান ৪১৩ জন। চলতি বছরের ভর্তির সংখ্যা এখন সেই মোট সংখ্যার খুব কাছে। বর্তমান গতি থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই তা গত বছরকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। দেশে সবচেয়ে ভয়াবহ বছর ছিল ২০২৩ সাল, তখন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ভর্তি হন এবং মারা যান এক হাজার ৭০৫ জন।
ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি কমাতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় এডিস মশার প্রজনন ঠেকানো। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব বা ফেলে রাখা পাত্রে জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়ে আসছেন চিকিৎসকেরা। জ্বর হলে দেরি না করে পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়াই নিরাপদ। শীত নামার আগে পর্যন্ত এই সতর্কতা ধরে রাখতে হবে।












