পোশাক খাতের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার মালিক ও শ্রমিক পক্ষের কাছে প্রতিনিধির নাম চেয়ে চিঠি পাঠানোর কথা। বুধবার রাতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সেদিনই উত্তরায় কয়েকটি কারখানার শ্রমিক মাসে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে রাস্তায় নামেন। আজমপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করায় দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো মানুষ।
শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব আবদুর রহমান তরফদার বলেন, শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমেছেন, তাই সভা করে প্রতিনিধিদের নাম চেয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। চিঠিতে মালিক ও শ্রমিক পক্ষকে দ্রুত নাম পাঠাতে বলা হবে। আগামী সপ্তাহেই বোর্ড হবে কি না, সে প্রশ্নে তিনি নির্দিষ্ট সময় বলেননি। তার ভাষায়, নামের তালিকা পেলেই দ্রুত পোশাকশ্রমিকের মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে।
বর্তমানে পোশাকশ্রমিকের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রম আইনে প্রতি পাঁচ বছরে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ছিল। গত বছর আইন সংশোধন করে প্রতি তিন বছরে মজুরি পর্যালোচনার বিধান আনা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে শেষ মজুরি বৃদ্ধির তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে। বোর্ডে সদস্য থাকেন ছয়জন। এর মধ্যে চারজন স্থায়ী আর দুজন অস্থায়ী সদস্য, যারা সংশ্লিষ্ট খাতের মালিক ও শ্রমিকের প্রতিনিধিত্ব করেন। মজুরি দর-কষাকষিতে মূল ভূমিকা থাকে এই দুজনেরই।
শ্রমিকনেতারা উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও বলছেন, কাজটি আরও আগে হওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি তৌহিদুর রহমান বলেন, ডিসেম্বর এগিয়ে আসছে, অথচ বোর্ড এখনো হয়নি। তবু সরকার উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। শ্রমিকনেতাদের মতে, ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি ঠিক করতে হলে এখনই আলোচনা শুরু করা দরকার।
গত মাসে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। পুরোপুরি কার্যকর হলে তাদের মাসিক মোট বেতন ৩৩ হাজার টাকা ছাড়াবে। এর পর থেকেই বিভিন্ন খাতে মজুরি বাড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬.১ শতাংশ। তাই পোশাকশ্রমিকের মজুরি বোর্ড এবার মালিকদের সক্ষমতা আর শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, দুটোকেই কীভাবে মেলায়, সেটাই দেখার বিষয়।












