বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ এবার ৮৪তম অবস্থানে রয়েছে। ২০২৬ সালের সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ১৯ দশমিক ২। এই স্কোর নিয়ে দেশটি ক্ষুধার মাঝারি শ্রেণিতে পড়েছে। সদ্য প্রকাশিত সূচকটি তৈরি করেছে আইরিশ সংস্থা কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড ও জার্মান সংস্থা ভেল্টহুঙ্গারহিলফে। প্রতিবছর এই সূচকে দেশগুলোর ক্ষুধা পরিস্থিতি তুলনা করা হয়। সূচকে অপুষ্টি, শিশুর উচ্চতা ও ওজন এবং শিশুমৃত্যুর তথ্য একসঙ্গে মেলানো হয়। তাই এটি শুধু খাবারের অভাব নয়, পুষ্টির মানও তুলে ধরে।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান মিশ্র। নেপাল ১৪ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে ৭২তম, অর্থাৎ বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। ভারত ২৪ দশমিক ১ স্কোর নিয়ে রয়েছে ১০০তম অবস্থানে। পাকিস্তান ২৫ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে ১০৬তম। ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই রয়েছে গুরুতর শ্রেণিতে। এই সূচকে স্কোর যত কম, ক্ষুধা পরিস্থিতি তত ভালো ধরা হয়। শূন্য থেকে ১০-এর নিচে স্কোরকে কম এবং ১০ থেকে ১৯ দশমিক ৯-কে মাঝারি ধরা হয়। অর্থাৎ ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের ক্ষুধা পরিস্থিতি ভালো। তবে প্রতিবেশী নেপালের তুলনায় এখনো পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।
সূচকটি তৈরি হয় চারটি মাপকাঠি দিয়ে। বাংলাদেশে জনসংখ্যার ৮ দশমিক ২ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২৪ শতাংশ খর্বকায়, মানে বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম। একই বয়সী শিশুদের ১২ দশমিক ৯ শতাংশ কৃশকায়, অর্থাৎ উচ্চতার তুলনায় ওজন কম। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার ৩ শতাংশ। ২০০০ সালে খর্বকায় শিশুর হার ছিল ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ, যা এখন নেমে এসেছে ২৪ শতাংশে। খর্বকায়তা দীর্ঘ সময়ের অপুষ্টির চিহ্ন। আর কৃশকায়তা সাধারণত হঠাৎ খাদ্যসংকট বা অসুখের ফল।
এবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে ক্ষুধা আবার বাড়ছে। এর পেছনে যুদ্ধ ও সংঘাত, জলবায়ুর ধাক্কা এবং অর্থনৈতিক সংকটকে দায়ী করা হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এই তিনটি ঝুঁকিই চেনা। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও খরা প্রায় প্রতিবছর ফসল আর আয়ের ক্ষতি করে। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে সবার আগে চাপে পড়ে নিম্ন আয়ের পরিবার। তখন শিশুর পাতে পুষ্টিকর খাবার কমে যায়। এই কারণে খাদ্য সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল গ্রামের অনেক পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তাও বিদেশে থাকা স্বজনের আয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ মাঝারি শ্রেণিতে থাকলেও গুরুতর শ্রেণির সীমা খুব দূরে নয়। সূচকে ২০ থেকে ৩৪ দশমিক ৯ স্কোরকে গুরুতর ধরা হয়। বাংলাদেশের স্কোর সেই সীমা থেকে মাত্র শূন্য দশমিক ৮ পয়েন্ট নিচে। খর্বকায় শিশুর হার কমাতে দেশ বড় সাফল্য দেখিয়েছে। কিন্তু কৃশকায় শিশুর হার এখনো উদ্বেগজনক। বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ সামনে এগোতে হলে মা ও শিশুর পুষ্টিতে আরও মনোযোগ দিতে হবে। এর মানে, বড় কোনো ধাক্কা এলে পরিস্থিতি আবার খারাপ হওয়ার ঝুঁকি আছে। বিশেষ করে খাদ্যের দাম ও আয়ের চাপ বাড়লে এই ঝুঁকি বাড়ে। সূচকটি তাই নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি সতর্কবার্তাও।












