মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়। মন্ত্রণালয় বলছে, বাংলাদেশের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া নীতিগতভাবে ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে নিতে রাজি হয়েছে। অর্থাৎ এই কর্মীদের নিজের পকেট থেকে অভিবাসনের খরচ দিতে হবে না। পাশাপাশি বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতেও রাজি হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই শ্রমবাজার আবার চালুর পথে এটি বড় একটি ধাপ।
তালিকাভুক্ত ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল। আরও আছে ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি। আগস্টের শেষ দিকে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২৫টি এজেন্সি মালয়েশিয়া নিজেই বাছাই করেছে। বাকি ৩১২টি কাজ করবে সহযোগী এজেন্সি হিসেবে। তখন আরও বলা হয়েছিল, বিনা খরচের প্রথম দলটি বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ ভাড়া করা ফ্লাইটে যাবে। দুই দেশের মধ্যে ২০২২ সালে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় এই প্রক্রিয়া চলছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকায় পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারের নজরদারি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এজেন্সির সংখ্যা বেশি হওয়ায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া দাপটও কমতে পারে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার কেন্দ্র নিয়েও সিদ্ধান্ত জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার কেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা এখনো তৈরি হচ্ছে। মন্ত্রণালয় বলছে, কোনো একটি কেন্দ্রকে একচেটিয়া ক্ষমতা দেওয়া হবে না। মালয়েশিয়ার একটি যৌথ প্রতিনিধিদল শিগগির বাংলাদেশে এসে কেন্দ্রগুলো সরেজমিনে দেখবে। তাদের পরিদর্শনের পরই নতুন তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কর্মীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মেডিকেল পরীক্ষা বিদেশ যাওয়ার শুরুর দিকের একটি ধাপ। একটি কেন্দ্রের হাতে সব ক্ষমতা থাকলে খরচ ও সময় দুটোই বাড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই একাধিক কেন্দ্রের ব্যবস্থা কর্মীদের জন্য স্বস্তির খবর হতে পারে।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। বহু বছর ধরে সেখানে নির্মাণ, কারখানা ও কৃষি খাতে বাংলাদেশিরা কাজ করছেন। তবে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ নিয়ে অতীতে উচ্চ খরচ আর দালালের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ বারবার উঠেছে। অনেক কর্মী ধারদেনা করে টাকা দিয়েও সময়মতো যেতে পারেননি। মন্ত্রণালয় বলছে, এবারের উদ্যোগের লক্ষ্য খরচ কমানো, স্বচ্ছতা আনা এবং কর্মীদের আর্থিক চাপ থেকে রক্ষা করা। এজেন্সিগুলোকে দেশের আইন মেনে কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করতে বলা হয়েছে। এই কর্মীদের পাঠানো আয়ে দেশের বহু পরিবারের সংসার চলে। গ্রামের অর্থনীতিতেও এর বড় প্রভাব আছে। তাই এই বাজার স্থিতিশীল থাকা দেশের জন্য জরুরি।
যাঁরা মালয়েশিয়ায় যেতে চান, তাঁদের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো সরকারি ঘোষণার দিকে নজর রাখা। কোন এজেন্সি অনুমোদিত, তা মিলিয়ে না দেখে কাউকে টাকা বা পাসপোর্ট দেওয়া ঠিক হবে না। উপসাগরীয় দেশ, ইউরোপ বা আমেরিকায় থাকা প্রবাসীরাও দেশে থাকা স্বজনদের এ বিষয়ে সতর্ক করতে পারেন। কারণ নতুন সুযোগ এলেই প্রতারকেরাও সক্রিয় হয়ে ওঠে। মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ এবার কতটা স্বচ্ছ হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে সবার। বিনা খরচের ১০ হাজার কর্মী কীভাবে বাছাই হবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনার অপেক্ষা চলছে। এ নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।












