এইচএসসির ফল প্রকাশ হতে পারে চলতি মাসের ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে। এই পাঁচ দিনের যেকোনো একদিন ফল দেওয়ার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হবে। গত সোমবার এ তথ্য জানান ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান। তিনি আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটিরও সভাপতি। ফলে কয়েক লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার শেষ দেখা যাচ্ছে।
এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই। পরীক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধিত ছিল ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে নিয়মিত ও অনিয়মিত দুই ধরনের পরীক্ষার্থীই রয়েছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা ভর্তি প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। অনেক পরিবারে এখন চলছে অপেক্ষার সময়। ফলের তারিখ চূড়ান্ত না হওয়ায় অনেকের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও আছে। পরীক্ষার পর থেকে বোর্ডগুলো খাতা মূল্যায়ন ও ফল তৈরির কাজ করছে। পরীক্ষকদের কাছ থেকে নম্বর জমা নেওয়ার পর তা যাচাই করা হয়। এরপরই ফল প্রকাশের প্রস্তুতি শেষ হয়।
এইচএসসির ফল শিক্ষার্থীদের জীবনে বড় একটি মোড়। এই ফলের ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও প্রকৌশলে ভর্তির আবেদন করা যায়। অনেক ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের যোগ্যতা ঠিক হয় জিপিএ দিয়ে। তাই এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগ্রহ অনেক বেশি। প্রস্তাবিত সময়টি পড়েছে দুর্গাপূজার ছুটি শেষ হওয়ার পরে। ফলে ছুটির পরের সপ্তাহেই ফল হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচিও অনেকটা এই ফলের ওপর নির্ভর করে। ফল দেরিতে এলে ভর্তি প্রক্রিয়াও পিছিয়ে যায়। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী এখন থেকেই বিভিন্ন কোচিং ও অনলাইন প্রস্তুতিতে সময় দিচ্ছে।
ফল জানার জন্য রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর আগে থেকেই হাতের কাছে রাখা ভালো। সাধারণত শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, মোবাইল এসএমএস এবং নিজ নিজ কলেজের মাধ্যমে ফল জানা যায়। এইচএসসির ফল প্রকাশের দিন ওয়েবসাইটে চাপ বেশি থাকে। তাই কিছুটা দেরি হলে ধৈর্য রাখা জরুরি। প্রবাসে থাকা মা-বাবাও অনলাইনে সন্তানের ফল দেখে নিতে পারেন। কোনো তথ্যে ভুল মনে হলে কলেজ বা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। ফল প্রকাশের সময় সাধারণত আগেভাগে জানিয়ে দেওয়া হয়। তাই শিক্ষা বোর্ডের ঘোষণার দিকে নজর রাখা দরকার। ফল দেখার পর নম্বর ও বিষয়ভিত্তিক গ্রেড ভালো করে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। পরে ভর্তির আবেদনে এই তথ্যই কাজে লাগবে।
ফল যা-ই হোক, এটিই জীবনের শেষ কথা নয়। ফলে সন্তুষ্ট না হলে সাধারণত খাতা পুনর্নিরীক্ষার আবেদনের সুযোগ থাকে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিতে অভিভাবকদের সচেতন থাকা দরকার। ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের সামনে যেমন সুযোগ থাকবে, তেমনি অন্যদের জন্যও পথ খোলা থাকবে। এখন অপেক্ষা শুধু মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত ঘোষণার। যারা প্রত্যাশামতো ফল পাবে না, তাদের জন্য কারিগরি শিক্ষা ও নানা পেশাগত প্রশিক্ষণের পথও খোলা আছে। পরিবারের সমর্থন পেলে অনেক শিক্ষার্থী পরের ধাপে আরও ভালো করে। শিক্ষকেরাও এ সময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে পারেন।












