ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ‘তেলাপোকা আন্দোলন’-এর দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত বুধবার (২১ অক্টোবর) আদালত এ নির্দেশ দেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি প্রতিবাদস্থলে বিক্ষোভ করার অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। তাঁরা তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনে দলটি সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
গত ১৩ অক্টোবর আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসসহ ১৪ জন দিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে প্রবেশ করতে ব্যারিকেড টপকান। এর এক দিন আগে স্থানটিকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
জন্তর মন্তরে প্রবেশের পর বিক্ষোভকারীরা ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। পরে পুলিশ তাঁদের আটক করে। আদালত প্রথমে তাঁদের পাঁচ দিনের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর গত সোমবার তাঁদের কারাবাসের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়ানো হয়। বুধবার আদালত তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেন বলে আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম লাইভ ল জানিয়েছে।
চলতি মাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে একাধিকবার বিক্ষোভ হয়েছে। ককক্রোচ জনতা পার্টির পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোও এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পাচ্ছে। তাঁদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় এমন পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা ক্ষমতাসীন দলকে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা দিতে পারে।
তবে নির্বাচন কমিশন কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, যেসব ভোটারের নাম ভুলবশত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরা পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করতে পারবেন।
অন্যদিকে, বিজেপি বিরোধীদের বিরুদ্ধে বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অযৌক্তিক প্রশ্ন তুলে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করার অভিযোগ এনেছে।
এদিকে ককক্রোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও পৃথক একটি ঘটনায় আটক করা হয়েছিল। গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করার সময় তাঁকে আটক করা হয়। পরদিন তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে এই আন্দোলন ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।












