যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে ইতালির বিভিন্ন বড় শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। গত সপ্তাহের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শনিবার, ২৪ অক্টোবর, দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে কঠোর পুলিশি উপস্থিতির মধ্যেও তুরিন, রোম ও বোলোনিয়ায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে মিলানে বিক্ষোভ মূলত শান্তিপূর্ণ ছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অনেক দোকানও বন্ধ রাখা হয়। গত সপ্তাহান্তে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকানোই ছিল এবারের নিরাপত্তাব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিক্ষোভের ডাক

চলতি সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও বিক্ষোভের আহ্বান ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা জোরদার করে এবং বিভিন্ন শহরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে।
গত সপ্তাহের সহিংসতার পর নতুন করে বিক্ষোভের ডাক আসায় পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক ছিল প্রশাসন। বিশেষ করে জনসমাগমপূর্ণ এলাকা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয় অতিরিক্ত ব্যবস্থা।
তবে শনিবারের বিক্ষোভে সব শহরের পরিস্থিতি এক রকম ছিল না। তুরিন, রোম ও বোলোনিয়ায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেলেও মিলানে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। রয়টার্সের সাংবাদিকেরা মিলানে কোনো দোকানে লুটপাট বা সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেননি।
‘অক্টোবর ১৭ আন্দোলন’ ঘিরে আটক
এদিকে শনিবার ইতালির পুলিশ জানিয়েছে, গত সপ্তাহান্তের বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘অক্টোবর ১৭ আন্দোলন’ সংগঠিত করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিলানের পুলিশ সদর দপ্তরে নেওয়া হয়।
তবে আটক ব্যক্তির পরিচয়, তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কিংবা আন্দোলন সংগঠনে তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

গত সপ্তাহের বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পাশাপাশি দোকানপাটে লুটপাট ও সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনা দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। সেই ঘটনার এক সপ্তাহ পর নতুন বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে কর্তৃপক্ষের সতর্ক অবস্থান ও ব্যাপক পুলিশি উপস্থিতি পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে।
ব্যয়বৃদ্ধি ও যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদ
শনিবারের বিক্ষোভের মূল বিষয় ছিল যুদ্ধবিরোধী অবস্থান এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ। ইতালির বড় শহরগুলোতে এই দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে মানুষ রাস্তায় নামেন।
তবে বিক্ষোভকারীদের দাবির বিস্তারিত বিবরণ কিংবা বিভিন্ন শহরে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সম্পর্কে রয়টার্সের প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগের সপ্তাহের তুলনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার আগে থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও কয়েকটি শহরে সংঘর্ষ ঘটে। মিলানে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের এই চিত্র দেখিয়েছে, যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং যুদ্ধবিরোধী অবস্থানকে ঘিরে ইতালিতে নতুন বিক্ষোভের এই পরিস্থিতি গত সপ্তাহের সহিংসতার পর দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থা ও জনপরিস্থিতির ওপর নতুন করে নজর তৈরি করেছে।












