ভারতের আসামের গুয়াহাটির একটি হোটেলে গুলির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে ঘটনার এক ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হোটেলের ইজারা চুক্তি ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছে পুলিশ।
সোমবার রাত ৯টার দিকে গুয়াহাটির উলুবাড়ি এলাকার সাউথ সারানিয়ায় অবস্থিত বিলাস ইন হোটেলে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত আরেকজনকে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। আহত ষষ্ঠ ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার পার্থ সারথি মহন্ত সোমবার রাতে জানান, ঘটনার এক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে আটক করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা একটি লাইসেন্স করা .৩২ বোরের পিস্তল জব্দ করেছে পুলিশ।
পুলিশ কমিশনার বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্ত চলছে। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, হোটেলের ইজারা চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থেকেই গুলির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
নিহতদের চারজন হোটেলমালিকের পরিবারের সদস্য। পঞ্চম ব্যক্তি হোটেলমালিকের একই গ্রামের বাসিন্দা। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ষষ্ঠ ব্যক্তিও ওই একই গ্রামের বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ইজারা ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের তদন্ত

পুলিশ কমিশনার স্পষ্ট করেছেন, অভিযুক্ত গগৈ ভাড়াটে হামলাকারী নন। প্রাথমিক তদন্তে হোটেলের ইজারা চুক্তি ঘিরে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে বিরোধের প্রকৃতি এবং তা কীভাবে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এ ঘটনায় আগে কোনো মামলা বা প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর) দায়ের হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও পুলিশের কাছে তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন মহন্ত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধের বিষয়ে আগে কোনো এফআইআর দায়েরের তথ্য পুলিশের জানা নেই।
ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে পুলিশ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করছে। জব্দ করা আগ্নেয়াস্ত্র এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে রেখে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগে তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গুলির ঘটনায় ছয়জন আক্রান্ত হওয়ার পর পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইজারা ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, তদন্তে এখন সেটিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।












