হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট নির্বাচন করছে ইসরায়েল। মঙ্গলবারের এই ভোটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। মধ্যপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীরা ক্ষমতায় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের ফল প্রকাশের পরপরই নতুন সরকার গঠন সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করছে পার্লামেন্টে দলগুলোর আসনসংখ্যা ও জোট গঠনের সমীকরণের ওপর।
নির্বাচনের ফল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পষ্ট হতে পারে। তবে কোনো দল বা জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকার গঠনের আলোচনা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনে অল্প কয়েকটি আসন পাওয়া ছোট দলগুলোও পরবর্তী সরকার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কখন জানা যাবে নির্বাচনের ফল
ইসরায়েলের স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে রাত ১০টায় শেষ হওয়ার কথা। ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর দেশটির টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশ করবে। এতে নির্বাচনের সম্ভাব্য চিত্র সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে। এরপর আনুষ্ঠানিক ভোট গণনার ফল আসতে শুরু করবে।
প্রাথমিক ফলাফলে কোনো পক্ষের স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা গেলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিষ্কার হতে পারে। কিন্তু কোনো দল বা সম্ভাব্য জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি অবস্থান করলে প্রতিটি আসনের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
চূড়ান্ত ভোট গণনা ৩০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ফল প্রকাশ করা হবে ৪ নভেম্বর, অর্থাৎ ভোটের এক সপ্তাহ পর।

১২০ আসনের পার্লামেন্টে জটিল সমীকরণ
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন ১২০টি। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি চার বছর পর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও দেশটিতে আগাম নির্বাচন নতুন ঘটনা নয়।
নেসেটের আসন বণ্টন হয় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে। জাতীয় পর্যায়ে কোনো দলকে অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয় পার্লামেন্টে আসন পাওয়ার জন্য। এবারের নির্বাচনে প্রায় এক ডজন দল এই সীমা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এতগুলো দলের মধ্যে ভোট ভাগ হয়ে গেলে আসন বণ্টনের হিসাব জটিল হয়ে ওঠে। কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনের জন্য অন্য দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন হয়। ফলে ভোটের ফল প্রকাশিত হলেও কোন দল শেষ পর্যন্ত সরকার গঠন করবে, তা নির্ধারণে দর-কষাকষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে।
ইসরায়েলের ইতিহাসে কোনো একক দল একাই পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেনি। তাই দেশটিতে জোট সরকার গঠনই প্রচলিত রাজনৈতিক বাস্তবতা।
সরকার গঠনের দায়িত্ব পাবেন কে
চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তাঁরা কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান, তা জানাবেন প্রেসিডেন্টকে। এরপর যাঁর সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে হবে, তাঁকেই সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন তিনি।
মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য সর্বোচ্চ ৪২ দিন সময় পাবেন। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

জোট গঠনের আলোচনায় ছোট দলগুলোর গুরুত্ব এ কারণেই বেড়ে যায়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করতে তাদের সমর্থন निर्णায়ক হতে পারে। কোনো ছোট দল সরকার গঠনের শর্ত নির্ধারণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সমঝোতা ব্যর্থ হলে কী হবে
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে বিকল্প প্রার্থীকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কোনো সরকার গঠন সম্ভব না হলে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। তত দিন বর্তমান মন্ত্রিসভা অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো দায়িত্ব পালন করবে।
তাই এবারের নির্বাচনের গুরুত্ব শুধু নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকবেন কি না, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভোটের ফলের পাশাপাশি দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতা, ছোট দলগুলোর অবস্থান এবং প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তও নির্ধারণ করবে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কেমন হবে এবং কত দ্রুত দায়িত্ব নিতে পারবে।












