সন্দীপন, তুমি কেমন আছো?
তোমার খবর নিতে আমার প্রতি মুহূর্তে ইচ্ছে করে
এ মিথ্যে বলব না।
তবে মাঝে মাঝে মনে পড়ে।
মনে পড়ে তুমি অনেক বড় হতে চেয়েছিলে-
আমরা যখন পলাশের বনে কিশোরী হাতে
রেখছি হাত, কাটিয়েছি অনেক পড়ন্ত বিকেল
তুমি তখন বইয়ে মুখ গুঁজে থাকতে।
শিক্ষকরা তোমাকে অনেক ভালো ছেলে বলত-
আমরা কজন একবার লুকিয়ে সারা রাত পদ্মার চরে
কাটিয়েছিলাম, রাজলক্ষ্মী, সোমা, কাবেরী, নাসরিন,
এমনকি ফোর্থ ইয়ারের রাধাবৌদি, আর কলেজের
সব থেকে সুন্দরী ফারিন আপা বারবার আমাদের কাছে
শুনেছিল সে রাতের কাহিনি-
নাসরিন বলেছিল, মাঝরাতের পদ্মার বাতাস কি খুব কাঁদে!
নাসরিনের গলার স্বর গভীর রাতের পদ্মার বাতাসের চেয়েও
আরও তীক্ষ্ণতায় আঘাত করেছিল আমাদের বুকে-
নাসরিনের সে মুখ পদ্মার ঢেউয়ের মতো এখনো মনে পড়ে।
তোমার একবারও ইচ্ছে হয়নি সে রাতের গল্প শোনার।
আমি একবার ট্রেনে ঘুমিয়ে পড়ে গন্তব্য ছাড়িয়ে চলে গিয়েছিলাম
অনেক দূরে- তারপর সারাদিন ঘোরাঘুরি করে
ফিরেছিলাম তিন দিন পরে-
প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসগুলো বাদ গিয়েছিল-
কিন্তু বোটানির স্যার খুব খুশি হয়েছিলেন-
তার জন্য আমি নিয়ে এসেছিলেম, চিনি না এমন কিছু ঘাস।
ঘাসের কথা শুনে তুমি হেসেছিলে সন্দীপন।
আচ্ছা সন্দীপন, প্রবাসের মাটিতে তুমি এখন কত বড়?
রেল স্টেশনের সেই লম্বা শিমুল গাছটির মাথা কি তুমি ছাড়িয়ে গিয়েছ?
তুমি তো কোনো দিন আমাদের মতো ইচ্ছে করে
ভেজোনি শিমুল গাছের নিচে-
আমাদের সঙ্গে যারা ভিজেছিল –
তারা অনেকেই বড় বড় দাপুটে অফিসার হয়েছিল, জানো কি?
তাদের সেই সরকারি ভাবটা এখনো আছে চলায়, বলায়।
পলাশের বাগানের সেই কিশোরী হাতগুলোর লক্ষ্মীশ্রী
এখন শুধুই স্মৃতি-
তুমিও যেমন আর কিশোর থাকতে পারোনি- পারিনি আমিও
ওরাও তো আর কেউ কিশোরী ছিল না-
বর্ষার জলে ভেজা ওদের পায়ের পাতাগুলো আর হয়তো সবুজ ঘাস ছিল না।
আচ্ছা সন্দীপন, মাঠের কচি ঘাসের সঙ্গে কী দাপটে পাল্লা দিত
এক একটা কিশোরী পায়ের পাতা-
তুমি কেমন করে না দেখে পারতে!
তুমি হয়তো সঠিক ছিলে, কারণ ঘাস নয়-
তুমি অনেক উঁচু দালান হতে চেয়েছিলে-
তুমি হয়তো এখন বেইজিং বা শেনজেনের কোনো আকাশছোঁয়া হাইরাইজ বিল্ডিং।
কিন্তু জানো সন্দীপন, তুমি আর আমি এক রুমে থাকলেও
আমি এখনো শুকনো পায়ের পাতা নিয়ে ঘাসের ওপর হাঁটি-
শিমুল, পলাশ গাছগুলো সব কেটে ফেলেছে-
ট্রেন লাইনটা স্মৃতির পাতায়-
তবে ঘাসগুলো এখনো রাস্তার পাশে পাশে বেঁচে আছে।
কখনো নীরব রাতে মনে হয়, আমি কি একাকিই শুধু ওদের সঙ্গে আছি-
আসলে ঘাসের সঙ্গেই মিলে গেলাম!
অথচ কখনো ভাবিনি, ঘাস হব, বাতাস হব – বা কিছু হব।
শুধু দেখেছিলাম ঘাসগুলো ঠিক আমাদের মতো-
বাতাসও দুরন্ত বেগে চলে যায় আমাদের উচ্ছল মনের গতি নিয়ে।
তাই আজ আর তোমাকে কিছু না বলি,
ঘাসগুলোকে বলি, চাঁদনি রাতে তোমরা ভালো থেকো-
বাতাসে একটু পেতে দিয়ো বুক।
সাহিত্য
ঘাসগুলো ভালো থেকো
সন্দীপন, তুমি কেমন আছো?তোমার খবর নিতে আমার প্রতি মুহূর্তে ইচ্ছে করেএ মিথ্যে বলব না।তবে মাঝে মাঝে মনে পড়ে।মনে পড়ে তুমি অনেক বড় হতে চেয়েছিলে-আমরা যখন পলাশের বনে কিশোরী হাতেরেখছি হাত, কাটিয়েছি অনেক পড়ন্ত বিকেলতুমি তখন
Facebook
WhatsApp
X
আরও পড়ুন
সর্বশেষ খবর
একই সপ্তাহে সাইবার হামলার ঝুঁকি, ইন্টারনেটজুড়ে নিরাপত্তা সংকেত
যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞানের নতুন যুগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে গবেষণায় বাড়ছে বেসরকারি বিনিয়োগ
সুদানের এল-ফাশেরে শেষ চিকিৎসকেরা, মৃত্যু আর ধ্বংসের মধ্যেও মানুষের পাশে আদম
খুলনায় ২৪ ঘণ্টায় তিনজনকে গুলি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসে বাড়ছে আতঙ্ক
ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহু–আইজেনকটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা
তরুণ মার্কিন রক্ষণশীলদের কাছে কেন আবার জনপ্রিয় হচ্ছেন রিচার্ড নিক্সন?সর্বাধিক পঠিত
আরও পড়ুন
সর্বশেষ
দৈনিক নিউজলেটার
প্রতিদিন সকালে সেরা ৫টি খবর আপনার ইনবক্সে
বিনামূল্যে সাবস্ক্রাইব করুন · যেকোনো সময় বাতিল করুন
প্রকাশনা
সম্পাদক ও প্রকাশক: স্বদেশ রায়
নিবন্ধন নম্বর: ১৭১
সম্পাদকীয় কার্যালয়
প্রথম তলা, ক্যাপিটা লেক ফ্রন্ট, ব্লক জে, বাড়ি ৬৬,
বনানী রোড ১৮ এক্সটেনশন, ঢাকা ১২১৩
ইমেইল: contact@sarakhon.com / news@sarakhon.com
ফোন: +৮৮০৯৬৩৮১৫৫২২৭
বাণিজ্যিক অফিস
এ-১৩, ১০/এ সেগুনবাগিচা, ঢাকা ১০০০
বিজ্ঞাপন ও প্রশাসনিক যোগাযোগ
admin@sarakhon.com
ফোন: +৮৮০৯৬৩৮১৫৫২২৭
আরও বিভাগ
সম্পাদকীয়
সেবাসমূহ
© ২০২৬ সারাক্ষণ। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।






