রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধর করেছেন কয়েকজন ব্যক্তি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে কালশী সড়কে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সুপারশপের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সদস্যের নাম মো. সাইমন। তিনি পল্লবী থানার কনস্টেবল। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পল্লবী থানা থেকে মিরপুর-১১ এলাকার দিকে যাওয়ার পথে তিনি হামলার শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি সাইমনকে ঘিরে ধরে মারধর করেন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে সড়কে ফেলে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তাঁরা।
ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি এক পুলিশ সদস্যকে লাঠি দিয়ে মারধর করছেন। এ সময় আশপাশের কয়েকজন তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেন।
আহত পুলিশ সদস্য হাসপাতালে, গ্রেপ্তার ৫
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানান, মিরপুর-১১ এলাকা থেকে শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করার পর তাঁরা কালশীর দিকে সরে যান। ওই সময় পল্লবী থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা মিরপুর-১১-এর দিকে যাচ্ছিলেন। দলছুট অবস্থায় পেয়ে কনস্টেবল সাইমনের ওপর হামলা চালানো হয়।
আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।
তিনি আরও বলেন, মিরপুর-১১ এলাকায় শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের আরও চার সদস্য আহত হয়েছেন।
মিরপুর-১১ এলাকায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ
এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সকাল থেকেই পল্লবী শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে কয়েক হাজার শ্রমিক অবস্থান নেন। তাঁদের অনেকের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়।
একপর্যায়ে শ্রমিকেরা সড়কে নেমে এলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্রমিকদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের ভেতরে বেশ কয়েকজন যাত্রী আটকা পড়েন।












