সারাক্ষণ ডেস্ক
পরিবেশ দূষণের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পুরো বিশ্ব। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অংশ হিসেবে ব্র্যাক কর্মীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো জমজমাট ‘ডিক্লাটার মেলা’ বা ‘পুরোনো পণ্যের মেলা’। পরিবেশ দূষণরোধে ব্র্যাকের চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই মেলার আয়োজন করা হয়।
দুই দিনব্যাপী এই মেলাটি অনুষ্ঠিত হয় বুধ ও বৃহস্পতিবার, ১২ ও ১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ব্র্যাক সেন্টারের প্লাজা চত্বরে। জমজমাট এই মেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে ব্র্যাক কর্মীরা নিজেদের ব্যবহৃত পণ্য কেনাবেচা করেন।
মেলায় ছিল নিত্যব্যবহার্য পণ্য থেকে শুরু করে আধুনিক গ্যাজেটসহ নানা কিছুর সমাহার। বিভিন্ন স্টলে জুতো, শাড়ি, পাঞ্জাবি ছাড়াও ছিল বিয়ের গয়না, শিশুদের খেলনা সামগ্রী এবং হস্তশিল্প পণ্য। ছিল পাওয়ার ব্যাংক, হেডফোন, ফিল্ম ক্যামেরা। এমকি দুর্লভ গ্রামোফোন ও রেকর্ড প্লেয়ারও রাখা ছিল বিক্রির জন্য।
ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির পরিচালক ড. মোঃ লিয়াকত আলী এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় টেকসই উন্নয়ন শুধু বৈশ্বিক ইস্যু নয়; ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাধ্যমেও আমরা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারি। পুরোনো জিনিস আবারও ব্যবহার করে বা নতুনভাবে কাজে লাগিয়ে আমরা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাচ্ছি এবং ভবিষ্যতের জন্য আরও ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখছি।”
ব্র্যাক কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত এবং তাদের জন্য আয়োজিত এই ব্যবহৃত পণ্যের মেলাটি ব্র্যাকের চলমান টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরণের উদ্যোগের মাধ্যমে ব্র্যাক তার কর্মীদের দৈনন্দিন জীবনে পণ্য ব্যবহারে আরও সচেতন হতে উৎসাহিত করে যা ব্যক্তিজীবন ও পরিবেশ উভয়ের জন্য উপকারী।
ব্যবহৃত পণ্যের পুনঃব্যবহার পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূরর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর চার বিলিয়ন টনের বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড বাতাসে মিশছে, আর ২০২১ সালে বাংলাদেশের একজন মানুষের গড় কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬২০ কিলোগ্রাম। শুধু এক কিলোগ্রাম পুরোনো কাপড় আবার ব্যবহার করলে প্রায় ২৫ কিলোগ্রাম কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি পোশাক উৎপাদনে গড়ে ২২ কিলোগ্রাম কার্বন নিঃসরণ হয়। ফলে দেখা যাচ্ছে, পণ্য ব্যবহারে সচেতনতা পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।












