ঐকমত্যের অপেক্ষায় ইসি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে ঐকমত্য কমিশনের।

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের ৯টি প্রস্তাবের বেশ কিছু সুপারিশ আশু বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করে গত ১৯শে মার্চ ইসিকে পাঠিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এগুলো বাস্তবায়নে কত সময় প্রয়োজন এবং এতে আর্থিক সংশ্লেষ আছে কি না, তা ইসিকে জানাতে বলা হয়েছিল।

গত ৩০শে এপ্রিল সংস্কার কমিশনের আশু বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মতামত পাঠিয়েছে ইসি।

নির্বাচনি ব্যবস্থা, সংবিধানসহ রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সরকারের ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক চললেও এখনো চূড়ান্ত ঐকমত্য তৈরি হয়নি।

যে কারণে কিছু কিছু বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আগাম প্রস্তুতি নিলেও সেগুলো একেবারে চূড়ান্তও করা যাচ্ছে না।

“ধরেন ঐকমত্যের ভিত্তিতে এখন যদি সংসদীয় আসনের সীমানায় বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়, তাহলে সীমানা নির্ধারণের কাজ এগিয়ে রাখলেও তো সেটি আর কাজে লাগবে না। আবার যদি ‘না ভোট’ চালু হয় কিংবা ভোটারের বয়স পরিবর্তন করে নতুন আইন হয় তাহলেও নতুন করে আবার অনেক কিছু পরিবর্তন করতে হবে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন বিশ্লেষক জেসমিন টুলী।

এসব কারণে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবার নির্বাচনি রোডম্যাপ প্রস্তুতের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা আরো বাড়বে।

মিজ টুলী বলেন, “নির্বাচনি কর্মপরিকল্পনা তৈরির জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি জরুরি রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য। সব দল মিলে যে সনদ করতে চায়, সেটি যত দ্রুত হবে, তত দ্রুত রোডম্যাপ ও নির্বাচন প্রস্তুতি শুরু করতে পারবে ইসি।”

গত এপ্রিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, ঐকমত্য কমিশনের সংস্কারের দিকে তাকিয়ে থাকবে না নির্বাচন কমিশন। সেজন্য তারা প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছেন।

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ঐকমত্য কমিশনেরও যেমন কাজ চলছে, আমরা আমাদের প্রস্তুতি রাখবো। আমাদের একটা লক্ষ্য আছে সেটি হলো ভোট হবে। আগাম প্রস্তুতি নিতেই হবে আমাদের।”

তবে নির্বাচন কমিশন দাবি করছে, যদি বড় কোনো পরিবর্তন না হয় ইসি যে প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়েছে, সেই প্রস্তুতি দিয়েই সংস্কারের পর নির্বাচন আয়োজনে খুব বেশি বেগ পোহাতে হবে না।