শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন

জনসংখ্যা তাত্ত্বিক বোনাস কালে আমরা কতটুকু প্রস্তুত

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪, ৮.২৭ এএম

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী

১৯৬০ সালে GlobalVillage শব্দটি পণ্য সভ্যতার এই রমরমা যুগে আমাদেরকে যেমন বিশ্ববাজারে একত্রী ভূত করেছে; অন্যদিকে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।। ঠিক একইভাবে এ সময়ের দুটি শব্দ—Fourth Industrial Revolution এবং Artificial  Intelligence-  মানুষ ও বিশ্বকে কঠিন চ্যলেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এই চ্যালেঞ্জিং বিশ্বের মানুষ হিসাবে আমি আপনার সামনে আমার কিছু কথা তুলে ধরতে চাই: Artificial Intelligence অর্থাৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী আমাদেরকে যন্ত্রের কাছে অসহায় ক্রীড়ণকে পরিণত করবে Fourth Industrial Revolution অর্থাৎ, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব কী আমাদেরকে বেকার করে দিবে?

এই প্রশ্ন দুটির সহজ উত্তর নিজেকে প্রস্তুত করে তোলা। এই প্রস্তুতের মূল লক্ষ্য হবে নিজেকে বিশ্বমাপের একজন জন দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করা।তবে সেটা অবশ্যই বিশ্বের ও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে যেমন করতে হবে তেমনি নিজদেশের পরিবেশ-প্রকৃতি ও -সংস্কৃতির ওপর তার ভিত্তি রাখতে হবে। আর সে জন্য প্রয়োজন শিক্ষা যেন মানুষের সঙ্গে আজীবন জড়িয়ে থাকে তেমন কাজের পরিবেশ ও শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা। কারণ শিক্ষা ব্যবস্থা সব সময়ই মানুষের জীবনের মত চলমান। তাই তাকে প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তন করতে হয়। আর বর্তমানের এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে মানুষের বয়স কিন্তু প্রতি বছরে বাড়ছে না,বাড়ছে প্রতি মুহূর্তে।

২০২৩ সালে প্রণীত নতুন শিক্ষাক্রমের সাফল্যের জন্য এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সাথে পাল্লা দিয়ে চলার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে বর্তমানের এই ভোগবাদী করপোরেট ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়েও যেন একটি দেশ ও মানুষ কেন্দ্রিক নৈতিকতা নিয়ে বড় হয়ে উঠতে পারে সেদিকেই গুরুত্ব দিতে হবে। আবার দেশ কেন্দ্রিকের অর্থ যে তারা কূপমুন্ডুকতা না বোঝে। নিজেকে যেন বিশ্বের যে কোন পরিবর্তন ও সভ্যতার সঙ্গে মেলাতে পারে। বর্তমান পৃথিবীতে শিক্ষার ও দক্ষ মানব সম্পদের এটা কিন্তু মৌলিক চরিত্র হতে হবে। প্রথম শিক্ষা বিদ্যায়তনে পাবে ঠিকই তবে কর্মক্ষেত্র যাতে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হয় সে কাজটি করতে হবে। তাহলে সে নিজেকে প্রতিদিন নতুন মানব সম্পদের অংশ হিসেবে রাখতে পারবে। আর এর জন্যে কোন গৎবাধা মনিটরিং নয় সৃজনশীর মনিটরিং এর ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাহলেই শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষানীতির সফলতা আসবে। শিক্ষা বলতে—জন্ম থেকে কবরে যাওয়া পর্যন্ত—পায়ে হেঁটে হলেও পাড়ি দিতে হবে সুদূর চীনের পথ—এই বাণীর আলোয়।

আমরা সাফল্যের MDG গোল অতিক্রম করেছি। এখন মুখোমুখি হয়েছি SDG কর্ম ও পরিকল্পনার ধারাক্রমিক বাস্তবায়নের সংযোগে মাধ্যমে তথাকথিত অভিশপ্ত জনসংখ্যার আধিক্যকে আশীর্বাদে পরিণত করতে পারবো। কিন্তু একটা বিষয় আমার মাথায় ভীষণবাবে ঘুরপাক খায়; আর তা হলো Artificial intelligence- এর দক্ষতার বিষয়। গ্লোবাল ভিলেজখ্যাত বিশ্বে বাংলাদেশ নামক এই ব-দ্বীপ পাড়ার মানুষ আয়েশী, পরনির্ভরশীল, শিক্ষাবিমুখ। আচরিত মজ্জাগত স্বভাসুলভ আয়েশী বৈশিষ্ট্যের মানুষকে কর্মঠ কর্মনিষ্ঠ করার শিক্ষাব্যবস্থা কই? হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য-পুরাতত্ত্ব থেকে আমরা শিখেছি। টোল ও চতুষ্পাঠী থেকে আমরা জ্ঞানার্জন করেছি। ক্রমান্বয়ে আমরা মধুসূদন, বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্র, নজরুল, মেঘনাদ, জগদীশ থেকে আজকের বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা মুজিব বদৌলতে আমরা আজকের স্থানে পৌছেছি। ভুলে গেলে চলবে না, দেশগঠন, জাতিকে পরিচালনের জন্য সর্বক্ষেত্রে উপযুক্ত মানুষ দরকার। পরিপ্রেক্ষিত বিশ্লেষণপূর্বক বলতে চাই: গুণগত শিক্ষার মানোন্নয়নে ইউনেস্কো ঘোষিত SDG (Sustainable Development Goals)-)-এর চতুর্থ অধ্যায়ে সুচারুভাবে উল্লিখিত আছে জীবনব্যাপী শিক্ষার কথা। বিদ্যায়তনিক শিক্ষার উন্নতিসহ মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে বিকাশমান বিজ্ঞান-প্রযুক্তির গ্রহণীয় ধারাবাহিকতায় স্বদেশ-সমাজ-স্বাজাত্যবোধ ও স্বদেশপ্রেম—বিশেষত, দেশপ্রেমের অমর বাণী বুকে নিয়ে ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’র বাণীবন্ধে ‘বিশ্বমানব হবি যদি, কায়মনে বাঙ্গালি হ’—ভবিষ্যদ্রষ্টা কবিগণের দেশপ্রেমমূলক বাণীময় সর্বজনীন শিক্ষার আলোকে মননশীলতা পথে চলতে হবে। আর একারণে বিজ্ঞান শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক-সাংস্কৃতিক-সামাজিক শিক্ষায় শিক্ষিত প্রজন্ম গঠন করতে না-পারলে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার স্বপ্ন ব্যর্থ হবে। উন্নয়নের সাঁকো ধসে পড়বে। মননশীল-সৃজনশীল বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্ম নির্মাণ করে কর্মক্ষম-দক্ষ বাংলাদেশ গঠনের পথ সুগম করা ছাড়া আমাদের গত্যন্তর নাই।

UNFPAÕi  হিসাবে আমরা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা ‘জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বোনাসকাল’ বলেখ্যাত অবস্থানে নির্ণীত সুসময়ে অবস্থান করছি। জনসংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাবের তুল্যমূল্যে আমরা জনসংখ্যার বিস্ফোরোন্মুখ সময়েও বোনাসকালবিশ্বে অবস্থান করছি—এটি আমাদের জন্য আশার কথা  একটি জাতি কয়েকশত বছরে একবার এই জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বোনাসকাল পেয়ে থাকে। জনসংখ্যা-বৃদ্ধিজনিত এই অভিশাপই এখন বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ। একসময়ের সমস্যাই এখন সম্পদে পরিণত হতে যাচ্ছে। কারণ, বর্তমানে বাংলাদেশে বেশির ভাগ মানুষই কর্মক্ষম। ম্যালথাস জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে সমস্যা হিসেবেই আখ্যায়িত করেছেন। ম্যালথাসের জনসংখ্যাতত্ত্ব মতে: জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২…);খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬…)।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে একটি দেশ খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়বে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। ৭১-এ কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ছিল ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। এই ৩০ শতাংশ মানুষের ওপর ভর করে চলত পুরো জাতি  ৩০ শতাংশ মানুষকেই পুরো জাতির চাহিদা পূরণ করতে হতো, ফলে খাদ্যাভাব দারিদ্র ছিলো বিধিলিপি। বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বেশি। ২০০৭ সালেই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সময়কাল ২০৩৯ সাল পর্যন্ত থাকবে। তাই আগামী ১৫ বছর বাংলাদেশের জন্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে দেশ পরিচালনা সব থেকে কঠিন কাজ। কারণ, গাড়ি যখন ফূল স্পীড়ে দেবার সময় আসে তখনই পরিচালনাকারীর মূল দক্ষতা দেখাতে হয়।

উন্নয়ন কোনো লোক দেখানো পাশ্চাত্য প্রসূত ‘ম্যাজিক’ নয়; আজকের এই উন্নয়ন স্বাধীন এবং সার্বভৌম বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আত্মাহুতি আকাক্সক্ষাজাত—বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন-সম্ভাবনা-আকাক্সক্ষার বাস্তব বহিঃপ্রকাশ। প্রকাশমান উন্নয়নের উপর দাঁড়িয়ে, ডিজিটাল-অতিক্রান্ত-স্মার্ট অভিমুখী দেশচেতনায় এবং সমাজভাবনায় নিমজ্জিত একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে বলতে চাই, আমাদের ভৌত-অবকাঠামো উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্তিজাত মানবিক বোধ বা প্রজ্ঞা অর্জনরে দাবী এখন সময়ের। অর্থ-বাণিজ্য-বিদুৎ-অবকাঠামো-প্রশাসন-জলবায়ু-পরিবেশসহ বহুমাত্রিক উন্নয়ন হয়েছে, এবং হচ্ছে—একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। তবে তারপরেও বলবো প্রজ্ঞা এখন সময়ের দাবী। কারণ, প্রজ্ঞা ছাড়া উন্নয়নকে শেষ অবধি রক্ষা করা যায় না।

রেমিট্যান্স এবং তৈরিপোশাক শিল্পখাত থেকে আহরিত অর্থশক্তির উপর দাঁড়ানো একটি জনবহুল স্বল্পভূমির দেশে সামাজিক উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে ‘রুপকল্প ২০৪১’—২০২১-২০৪১ আমাকে ভীষণ আশাবাদী করেছে। আমি আমার ক্ষুদ্রজ্ঞানে ভৌত এবং অবকাঠামো উন্নয়ন দেখে চমকিত হই। মেধাবিকাশ, বিজ্ঞানচর্চা, শিক্ষাসংশ্লিষ্ঠ এবং সংস্কৃতিচর্চাগত দীনতায় ভীষণ কষ্ট পাই। একটা সংস্কৃতিবিমুখ ধ্বজাধারী জ্ঞানচর্চাবিহীন ভৌত অবকাঠামো কোনোদিনই সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ নির্মাণের ক্ষেত্রে সুখকর নয়। স্কুল বিল্ডিং, বিশ^বিদ্যালয় ভবন, মসজিদ-মন্দির-গীর্জার সুরম্য অট্টালিকায় সাধনা কিংবা এবাদত করার জন্য প্রকৃত মানুষ দরকার। স্কুলের জন্য শিক্ষিত-প্রশিক্ষিত শিক্ষক, মহাবিদ্যালয়ের জন্য মহান শিক্ষক, বিশ^বিদ্যালয়ের জন্য একনিষ্ঠ সাধক অধ্যাপক, চিকিৎসার জন্য মানবিক ডাক্তার, বিজ্ঞান চর্চার জন্য ধ্যানী বিজ্ঞান শিক্ষক। পরিতাপের বিষয় এই যে, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের দিকে তাকিয়ে আমি অক্সফোর্ডয়ের শিক্ষা ও গবেষণাখ্যাত গ্রাজুয়েট যেমন পেতে পারি না; ঠিক তেমনি পুলিশভবন, সচিবালয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সরকারি-বেসরকারি যে-কোনো অফিসের কাছ থেকেই কী ইউরোপ-আমেরিকান প্রশাসক ও সেবা আশা করা যায়! বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি ইত্যাদির কথা না-হয়, নাইবা বললাম  অক্সফোডতুল্য গ্রাজুয়েট আমরা তখনি আশা করবো, যখন আমরা অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড, কেম্ব্রিজের মতো সহায়তা দিতে সক্ষম হবো—শুধু ব্যাঙের ছাতার মতো প্রতিষ্ঠানিক সীলমোহরযুক্ত কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়-মেডিক্যাল কলেজ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বানালেই চলবে না—শিক্ষা-গবেষণা সুনিশ্চিত করতে হবে—জবাবদিহিমূলক (Know Thyself) শিক্ষা কাঠামোর জন্য বিশে^র সাথে তুলনীয় বেতন-ভাতা নিশ্চিতকরণসহ শিক্ষা-সহায়তা প্রদান করা জরুরি এটা যুগের দাবি। আমরা অধ্যাপক পাবো, প্রশাসক পাবো—কিন্তু প্রকৃত জ্ঞানী, প্রকৃত দেশপ্রেমিক এবং বিশ^মানের ধীমান মানুষ খুঁজে পাবো না। প্রায়োগিক ক্ষেত্রে আমাদের জ্ঞান নীলক্ষেতের গাইড আর কোচিং সেন্টারের গন্ডি থেকে এগিয়ে নেবার পথ খুঁজতে হবে।

জলবায়ু ও পরিবেশ উন্নয়ন ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ একটি প্রয়োজনীয় এবং ভবিষ্যদিশারী পরিকল্পনা। প্রকৃত মানুষ তৈরি করতে না পারলে নদী দূষিত হতেই থাকবে। বিল নষ্ট হয়ে জলা শুকিয়ে যাবে। হাওর বিলীন হবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। রুপকল্প নির্মাণের উদ্দেশ্য মানুষ; রুপকল্পের ভবিষ্যত নির্ভর করে সুশৃঙ্খল মানবিক শিক্ষার উপর। সেদিক বিবেচনায় রেখে; অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের দিশার পাশাপাশি রুচিসম্পন্ন সুশৃঙ্খল জাতি তৈরির দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনার যুথবদ্ধ প্রয়াস ও পরিকল্পনার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে সঠিক বিষয়ে দৃষ্টিপাত করা উচিত। ‘জি আই ইউ’ কৌশলগত উদ্দেশ্যের অংশ হিসাবে স্বাস্থ্য ও শিক্ষখাত সংস্কারমূলক কাজ করে যাচ্ছে—এক্ষেত্রে আমি আশাবাদী। তবে জবাবদিহিমূলক প্রশাসন ব্যবস্থা উন্নয়নের এই কর্ম তখনি পরিপূরক হিসাবে কাজ করবে, যখন আমরা প্রশিক্ষিত জবাবদিহিমূলক, দেশপ্রেমিক জাতি তৈরি করতে পারবো  স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ জবাবদিহিমূলক প্রশাসনব্যবস্থা তখনি গড়ে উঠবে যখন নির্মোহ, পরিচ্ছন্ন, সংস্কৃতিমান, দেশপ্রেমিক মানুষ তৈরি হবে। এই মানুষ তৈরির অন্যতম জায়গা—স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, লাইব্রেরি, বিশ^বিদ্যালয়, খেলার মাঠ এবং স্বাধীন ও সর্বভৌম বাংলাদেশের সবুজ প্রান্তর। এগুলোকে নষ্ট করে অর্থাৎ শিকড় কেটে গাছের মাথায় পানি ঢেলে লাভ নেই। ভালো ছাত্র হলেই চলবে না, সিভিল সার্ভেন্ট হতে হলে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি,মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ ভলো মানুষ হতে হবে—ভালো মানুষের বিকল্প নাই।

বিদেশী নানান পরামর্শ এবং আঞ্চলিক-রাজনৈতিক ক্ষমতা টেকসইকরণ-কলায় অবৈজ্ঞানিক অদূরদর্শী উন্নয়নের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে হাওর, নদী, জলাশয় এবং দ্বীপাঞ্চল। অযাচিত-অনাকাক্ষিত-অসময়োচিত বন্যায় নিমজ্জিত হাওরাঞ্চলের মানুষ। খরা, বন্যা, সাইক্লোন, পরিবেশ-প্রতিবেশ-প্রকৃতি এবং উপকূলীয় জীবন ও জনপদ। উন্নয়নকামী-সমন্বয়হীন সরিকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং এলাকাভিত্তিক মোড়লিপনার দিশাহীন সর্বনাশের শিকার বাংলার হাওর এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জীবনমান। বিলীনপ্রায় উপকূলীয় সবুজবেষ্টনী এবং মৎস্য-প্রজননক্ষেত্র এবং আমার জানামতে, পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ স্বাদুপানির মৎস্যাধার। বিলীন হতে চলেছে স্বাদুপানি এবং লোনাপানির মাছ। উপকূলীয় অঞ্চল—কক্সবাজার থেকে সুন্দরবন; আমাদেরকে আলিঙ্গন করে একথাই বলতে চায়: সমন্বয়হীন অপরিকল্পিতভাবে আমাকে ধ্বংস করোনা, আমি বহু সংগ্রাম করে বঙ্গোপসাগরের পেট চিরে তোমাদের ব-দ্বীপের আলো জলে বাঁচতে এবং বাঁচাতে এসেছিলাম; তোমরা আমাকে নির্মূল কোরোনা।

মিরসরাইয়ের ম্যানগ্রোভ বন, সোনাদিয়া দ্বীপ, মাতারবাড়ির পরিবেশ-প্রকৃতি আজ কান্নাকীর্ণ বুকে আমাদের দিকে তাকায়। অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে বিপুল পরিমাণ পলল-প্রবাহিত নদী—ফেনী, মাতামুহুরী, বাঁকখালী, সাঙ্গু আজ অবরুদ্ধপ্রায়। বিলীনপ্রায় কুতুবদিয়া দ্বীপ, বিলীন হতে চলেছে বিশ্বখ্যাত সুন্দরবন  অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে ইলিশসহ অন্যান্য মৎস্যহীন নদীমেখলা বাংলাদেশ। মেঘনার মোহনা থেকে উজানের দিকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার নদীময় বাংলাদেশকে প্রকৃতির সাথে সঙ্গতি রেখে, লোভ এবং অতিলোভী মুনাফাকারীদের হাত থেকে রক্ষা করে মৎস্যাধার তৈরি করা সম্ভব—গড়ে উঠবে শিল্প, পূরণ হবে মৎস্য প্রোটিনের অভাব, কমে যাবে রোগ-বালাই, সৃষ্টি হবে কর্মক্ষেত্র গঠিত হবে ভাতে-মাছে বাঙালির কর্মক্ষম সুঠাম দেহ—আমাদের পূর্বপুরুষের মতো এই সোনার বাংলায়।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনেরর ফলে শীর্ষ ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় অবস্থান করছে বাংলাদেশ:

১. জলবায়ু পরিবর্তন;

২. প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রাদুর্ভাবজনিত দেশ;

৩. জনসংখ্যার আধিক্য এবং

৪. ক্ষতিগ্রস্ত দেশ;

দেশটি ক্ষতি মোকাবিলায় বা অভিযোজনের জন্য এরই মধ্যে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে—এই সমস্ত নির্ণায়ক বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট: বাংলাদেশে একাধারে সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা সমস্যা, হিমালয়ের বরফ গলার কারণে নদীর দিক পরিবর্তন, বন্যা ইত্যাদি সব দিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রাও অনেক বেশি। তাই উল্লিখিত চারটি মানদন্ডেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় শীর্ষে।

আবহমানকাল থেকে এ দেশে ঋতুবৈচিত্র্য বর্তমান। ছয় ঋতুর কারণে দেশটিকে ষড়ঋতুর দেশও বলা হয়ে থাকে। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলে বর্ষা মৌসুম। এ সময় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, যা অনেক সময়ই বন্যায় ভাসিয়ে দেয়। এ ছাড়া মৌসুমি বায়ুপ্রবাহের আগমুহূর্তে কিংবা বিদায়ের পরপরই স্থলভাগে ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো কিংবা সাগরে নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি হয়, যার আঘাতে বাংলাদেশ প্রায় নিয়মিতই আক্রান্ত হয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাবে বাংলাদেশের এই স্বাভাবিক চিত্রটি এখন অনেকখানি বদলে গেছে। তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রস্তর সর্বদিক দিয়ে সংঘটিত এসব পরিবর্তন বাংলাদেশে জলবায়ুগত স্থুল পরিবর্তন সৃষ্টি করেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানিপ্রবাহ শুকনো মৌসুমে স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে না। ফলে নদীর পানির বিপুল চাপের কারণে সমুদ্রের লোনাপানি যতটুকু এলাকাজুড়ে আটকে থাকার কথা ততটুকু থাকে না। পানির প্রবাহ কম থাকার কারণে সমুদ্রের লোনাপানি স্থলভাগের কাছাকাছি চলে আসে  ফলে লবণাক্ততা বেড়ে যায় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুল এলাকায়। কম বৃষ্টিপাতের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার সমস্যা দিন দিন আরো প্রকট হয়ে উঠবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যেই সুন্দরবনের সুন্দরীগাছে ব্যাপক মাত্রায় আগামরা রোগ দেখা দিয়েছে। অনেকে একে মানবসৃষ্ট কারণ উল্লেখ করতে চাইলেও গবেষকরা একে প্রাকৃতিক কারণ হিসেবেই শনাক্ত করেছেন। সুন্দরবনের অন্যান্য গাছও আগামরা ও পাতা কঙ্কালকরণ পোকার আক্রমণের শিকার হচ্ছে। আক্রান্ত হচ্ছে বাইনের বাগানও।

ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট কিংবা নেত্রকোণার কলসিন্দুর অথবা পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়েরা যখন ফুটবল-ভলিবল-ক্রিকেটের মাঠ দাপিয়ে বেড়ায়; বিদেশ থেকে আমাদের জন্য সম্মানের ট্রফি নিয়ে আসে তখন আমি আশাবাদী হয়ে উঠি নারীশিক্ষা-নারীপ্রগতি নারীমুক্তির আলোয়। এই যেমন আপনি এবং সংসদ নেতা আমার সামনে জাজ্বল্যমান উদাহরণ। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে দ্বিধা নাই যে, উদীয়মান তরুণ-তুর্কীদের ন্যুব্জতা আমাকে বিমর্ষ করে তোলে বেশি। স্বাধীন দেশে, স্মার্ট-বাংলাদেশের অভিমুখী যাত্রায় পড়াশুনাবিমুখ এবং স্খলোন্মুখ জাতির যাত্রা থেকে ফেরানোর ক্ষেত্রে টোল-চতুষ্পাটির পণ্ডিতদের মতো বেত্রাঘাত না হলেও নিয়মের নিগড়ে বেঁধে মূল্যবোধ এবং দায়িত্ববোধসম্পন্ন স্বাস্থ্যবান নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে হবে।

নারীস্বাস্থ্য, নারীউন্নয়নের সাথে শিশুস্বাস্থ্য, শিশু-কিশোর তথা জাতির উন্নয়ন একইসূত্রে গাঁথা। ‘তুমি আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে শিক্ষিত দেশ দিবো’—নেপোলিয়নের এই দার্শনিক বাণীর সত্যতা অনিবার্যভাবে সমাজে প্রতিফলন ঘটানো ছাড়া জাতির সর্বৈব উন্নয়ন সম্ভব নয়  টেকনোলজির এই যুগে মাদকমুক্ত-নেশামুক্ত জাতি গঠনের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত—শারীরিক-মানসিক-সাংস্কৃতিক শিক্ষার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বানালেই চলবে না, সুঠাম শরীর গঠনের জন্য খেলার মাঠেরও প্রয়োজন।

দেশে এমন বহু আইন আছে, বাস্তবে যেগুলোর প্রয়োগ দেখা যায় না। প্রকাশ্যে ধূমপানবিরোধী আইন তেমন একটি। প্রকাশ্যে ধূমপান বন্ধে আইন করা হলেও বাস্তবে সেটির প্রয়োগ দুর্লক্ষ্য। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গণপরিবহন, পার্ক, সরকারি-বেসরকারি অফিস, রেস্তোরাঁ, শপিং মলসহ এমন কোনো স্থান নেই যেখানে প্রকাশ্যে ধূমপান করতে দেখা যায় না  ধূমপানের কারণে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ক্ষতির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পরোক্ষ ধূমপানে সবচেয়ে বেশি স্বাথ্য-ঝুঁকিতে পড়ছেন অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুরা। ধূমপান শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, পরিবেশেরও ক্ষতি করছে। ফলে ধূমপান বন্ধে শুধু আইন থাকলেই হবে না, এর প্রয়োগও জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশের ১২টি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী—শিশুদের অধিকাংশের বয়স ছিল ১১ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। এই শিশুদের লালা পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা যায়: গৃহীত ৪৭৯ শিশুর মধ্যে ৪৫৩টি শিশুর লালায় নিকোটিন পাওয়া গেছে—অর্থাৎ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার ৯৫ শতাংশ শিশু।

গবেষণায় ৪৩ শতাংশ শিশু (২০৮ জন) বলেছে: তার পরিবারে কমপক্ষে একজন ধূমপান করে। ২১ শতাংশ শিশু (১০০ জন) বলেছে: তার পরিবারে সদস্যদের ও অতিথিদের ধূমপান নিষেধ। ৮৭ শতাংশ শিশু (৪১৯ জন) বলেছে: তারা সম্প্রতি জনপরিসরে (পাবলিক প্লেস) পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে আছে দোকানে, রাস্তায় পরোক্ষ ধূমপান করা। গবেষকেরা বলছেন, গবেষণাটি এমন একটি দেশে হয়েছে, যে দেশে জনপরিসরে ধূমপানের বিরুদ্ধে আইন আছে। এ ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জাতীয় পেশাগত কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মাহফুজ বলেন, ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলা ছাড়া আমরা শিশুদের পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারব না। ধূমপান ছাড়তে না পারলেও কেউ যেন বাড়িতে ধূমপান না করেন। অন্যদিকে জনপরিসরে কেউ যেন ধূমপান না করতে পারেন, সে জন্য আইনটির যথাযথ প্রয়োগ জরুরি। তামাক জাতীয় দ্রব্য থেকে রাষ্ট্র যে পরিমাণ শুল্ক পায়, রাষ্ট্রের তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় হয় তামাক গ্রহণজনিত রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে।

আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্কতার কথা যতই বলি, সূতিকাগারে আমরা যে প্রভাবে প্রভাবিত তার কুঠুরির বাইরে বের হতে পারিনি—আমরা জাতীয়তাবাদের ভঙ্গুর ও অলীক দেশপ্রেমের অস্থির আবর্তে আবর্তিত হচ্ছি। এও ঠিক এই জাতীয়তাবাদও রেনেসাঁর মতো ইউরোপ থেকে আমদানি—দক্ষিণ এশিয়ার কোন উত্তরাধিকার বা ঐতিহ্য নয়। কোন কিছু আমদানিতে আমার আপত্তি নেই—সে পণ্যের-ধরন যাই হোক। আমার প্রশ্ন পণ্য বা ধারণা কাজে লাগে কি-না? ধারণ করার যোগ্যতা অর্জন করা হয়েছে কি-না? মধ্য যুগের শেষ ভাগে ইউরোপে ভাষা-সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক বেষ্টনির পার্থক্যকে উপলক্ষ্য করে জাতিগত স্বতন্ত্র আর আপন ঐতিহ্য রক্ষার প্রবল জোয়ার দেখা দেয়  মধ্যযুগের শুরুতে বৃহৎ ইউরোপীয় সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিলো তার প্রভাব স্তিমিত হতে থাকে—সৃষ্টি হয় জাতিরাষ্ট্র। রেঁনেসার প্রতাবও এ ক্ষেত্রে কম নয়। কিন্তু মাননীয় স্পিকার, রাষ্ট্রের সর্বত্র—জ্ঞানকাণ্ড এবং বৌদ্ধিক-যৌক্তিক শিক্ষা-সংস্কৃতির দীনতায় আমি শঙ্কিত না হয়ে পারি না। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলছে জ্ঞানহীন সনদ-বিতরণসঞ্জাত অনৈতিক বাণিজ্যিক পরিবেশ। শিক্ষার সাথে গবেষণা, সংস্কৃতির সাথে বোধ ও বোধির বিকাশ একটি জাতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কারণ আর্থিক-ভৌতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে টেকসই বলে প্রচলিত অভিধার ক্ষেত্রে রুচিমান-দায়িত্বশীল নাগরিকের যোগসূত্র অত্যন্ত নিবিড়। সভ্যতার ইতিহাসের আলোকে একথা বলতে দ্বিধা নাই যে, Structural Development অর্থাৎ, অবকাঠামো উন্নয়ন একটা জাতির জন্য, সভ্যতার জন্য প্রয়োজন; তবে অনিবার্য নয়। অবকাঠামো উন্নয়ন যদি বিলাস-ব্যসনের মোড়কে নিপতিত হয়, তবে সেই উন্নয়ন আসল উন্নয়ন নয়। উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনিবার্য হলো সেই দেশ, সেই জাতির শিক্ষা-সংস্কৃতি-বিজ্ঞানসহ সার্বিক মননচর্চার উন্নয়ন—জীবনবোধ এবং সুমার্জিত দায়িত্বশীল আচরণের উন্নয়ন। ৫৪’র নির্বাচন, ৭০’র বিজয়, ৭১’র স্বাধীনতাযুদ্ধ থেকে পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক বিজয়-অর্জন-বর্জন বিশ্লেষণপূর্বক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এবং চেতনার জগতে ব্যাপক দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং ভাগ-উপভাগ পরিলক্ষিত হয়। আশা-হতাশা-প্রত্যাশা-প্রাপ্তির এই জগতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়; মানুষ বিভ্রান্ত হবে এইটাই স্বাভাবিক। এই বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছ জীবনযাপন করাটাও নিয়মিত চর্চা এবং কর্মেরই অংশ—আমরা কেউ পারি, কেউ পারি না। যিনি পারেন তিনি অমর হন তাঁর কর্ম এবং যোগ্যতায়। সমকালে পৃথিবীর বৃহৎ সাম্রাজ্যের মালিক মোগলদের পতনপর বর্তমানের দিকে দৃকপাত করলে একথাই প্রতীয়মান হয় যে, শিক্ষা-সংস্কৃতি-বিজ্ঞান-গবেষণা-উন্নয়ন একই সুতোয় এবং সমানুপাতিক হারে এগিয়ে না গেলে ইমারত ধ্বসে পড়ার সম্ভাবনা বাতুলতা নয়—মোঘলদের পতন এবং টুইন-টাওয়ার ধ্বংসের কাহিনী আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়।

 

লেখক ঃ স্বাধীনতা সংগ্রামী ও প্রবীন  রাজনীতিবিদ , সংসদ সদস্য 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

kjhdf73kjhykjhuhf
© All rights reserved © 2024