০১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হস্তক্ষেপে ঘুরে দাঁড়াল ইয়েন, আরও পদক্ষেপের ইঙ্গিত সিন্ধু পানি চুক্তি: ছয় দশক পর বদলে যাওয়া বাস্তবতায় নতুন হিসাবের সময় ভাঁজযোগ্য আইফোনের উৎপাদন দিনে মাত্র কয়েকশ, বাজারে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা ট্রাম্পের নতুন দাবি: ইউক্রেনকে দেওয়া শত শত বিলিয়ন ডলার ইউরোপের কাছ থেকে ফেরত চান রাশিয়ার নাশকতায় ইউরোপে বাড়ছে সংঘাতের ঝুঁকি, চাপে ন্যাটো ছয় মাসের যুদ্ধে আরও আত্মবিশ্বাসী ইরান, বাড়তে পারে সংঘাত পেন্টাগনে ফাঁস ঠেকাতে ৫০ কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা, ইরান যুদ্ধের তথ্য ঘিরে নজিরবিহীন তদন্ত যে ‘ইয়েনটাউন’ একদিন ছিল ভবিষ্যৎ, ৩০ বছর পর ৪কে-তে ফিরছে ‘Swallowtail Butterfly’

অপমানের অসহ্যভার

  • Sarakhon Report
  • ০৭:০০:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০২৪
  • 171

পৃথিবীর মহাকাব্য গুলির অপমানিতের চরিত্র আঁকার দিক মহাভারতই এগিয়ে।  দৌপদীকে যতটা অপমান করা হয় এতটা অপমানিতের চরিত্র আর কোন মহাকাব্যে নেই।

দ্রৌপদি অগ্নি থেকে জম্ম নেয়া। অর্থ সে ভূমি। তাছাড়া নারী আর ভূমি মূলত একই। দুই-ই ধারণ  ও জম্ম দেয়। দ্রৌপদির অপমানের অর্থ একটি ভূমির অপমান। ওই ভূমিতে যারা সম্মানের সঙ্গে বাস করতে চায় তাদের অপমান।

রাজা ধৃতরাষ্ট্র অন্ধ। তার শত পুত্রের মধ্যে এক পুত্র ছাড়া আর সবাই তখন দুঃশাসনের পথে। পৃথিবীতে সব রাজারই একটি নিয়তি আছে- বেশি ক্ষেত্রে রাজা এক সময়ে গিয়ে অন্ধ হয়ে যায়। আর তখন তার দুঃশাসনের মতো পুত্ররা, শকুনির মত আত্মীয়রা আর তাদের সহযোগীরা যারা কিছুদিন আগে শেয়ালের মতো নিশাচর ছিলো- তারা সকলে সামনে আসে। আর তারা সকলে মিলে রাজার অন্ধত্ব নিয়ে ভূমি আর মানুষকে অপমান করা শুরু করে।

পৃথিবীতে সব থেকে ভারী অপমান। সাধারণ মাথা, শ্রদ্ধেয় শির আর বীরের শীর দাড়ার পক্ষে অপমানের ভার বয়ে চলা সব থেকে কষ্টের। কিন্তু অন্ধ রাজা, শকুনি আত্মীয় আর শিবার মতো সহচররা কখনই বুঝতে পারে না অপমানের তীব্র জালা ও জগদ্দল পাথরের মতো ভারকে।

ভূমিকে অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ্য করতে হয়, মানুষকে অনেক রোগ শোক, অনেক উত্থান- পতন সহ্য করতে হয়। হয়তো এই পথে তাকে কখনও কখনও অন্ধ রাজার অপমানও সহ্য করতে হয়।

রাজা অবশ্য তখন বুঝতে পারে না তাকে ঘিরে চলছে বস্ত্র হরণের মতো অপমান। রজশীলা নারীর মতো সব থেকে পবিত্রতম মানুষদেরকে এই অপমান সহ্য করতে হয়।

তবে অপমানের ভারে কেউ নুয়ে পড়ে না। অজু‍র্নের মতো হয়তো বনবাসে যায়। তবে মনে রাখা দরকার,অর্জুন বনবাসে গেলেও গান্ডীব তার হাতে।  শকুনি, শিবাদের শুধু কুমতলব ছাড়া অন্য কোন শক্তি বা অস্ত্র নেই। তাই ন্যায়ের বা স্বর্গীয় অস্ত্র গান্ডীব যখন ঘুরে দাঁড়ায় তখন কুমতলবের রক্তপান করে অতি সাধারণ ভীমসেন।

এ কারণে যে কোন দেশের যে কোন রাষ্ট্র পরিচালককে অন্ধ হলেও পাশা খেলায় শুকুনি জিতেছে বলে আনন্দিত হতে নেই। বরং তাকে রক্ষা করতে হয়  দ্রৌপদির বস্ত্র। রক্ষা করতে হয় ভূমি ও মানুষকে অযাচিত অপমানের হাত থেকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর

অপমানের অসহ্যভার

০৭:০০:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০২৪

পৃথিবীর মহাকাব্য গুলির অপমানিতের চরিত্র আঁকার দিক মহাভারতই এগিয়ে।  দৌপদীকে যতটা অপমান করা হয় এতটা অপমানিতের চরিত্র আর কোন মহাকাব্যে নেই।

দ্রৌপদি অগ্নি থেকে জম্ম নেয়া। অর্থ সে ভূমি। তাছাড়া নারী আর ভূমি মূলত একই। দুই-ই ধারণ  ও জম্ম দেয়। দ্রৌপদির অপমানের অর্থ একটি ভূমির অপমান। ওই ভূমিতে যারা সম্মানের সঙ্গে বাস করতে চায় তাদের অপমান।

রাজা ধৃতরাষ্ট্র অন্ধ। তার শত পুত্রের মধ্যে এক পুত্র ছাড়া আর সবাই তখন দুঃশাসনের পথে। পৃথিবীতে সব রাজারই একটি নিয়তি আছে- বেশি ক্ষেত্রে রাজা এক সময়ে গিয়ে অন্ধ হয়ে যায়। আর তখন তার দুঃশাসনের মতো পুত্ররা, শকুনির মত আত্মীয়রা আর তাদের সহযোগীরা যারা কিছুদিন আগে শেয়ালের মতো নিশাচর ছিলো- তারা সকলে সামনে আসে। আর তারা সকলে মিলে রাজার অন্ধত্ব নিয়ে ভূমি আর মানুষকে অপমান করা শুরু করে।

পৃথিবীতে সব থেকে ভারী অপমান। সাধারণ মাথা, শ্রদ্ধেয় শির আর বীরের শীর দাড়ার পক্ষে অপমানের ভার বয়ে চলা সব থেকে কষ্টের। কিন্তু অন্ধ রাজা, শকুনি আত্মীয় আর শিবার মতো সহচররা কখনই বুঝতে পারে না অপমানের তীব্র জালা ও জগদ্দল পাথরের মতো ভারকে।

ভূমিকে অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ্য করতে হয়, মানুষকে অনেক রোগ শোক, অনেক উত্থান- পতন সহ্য করতে হয়। হয়তো এই পথে তাকে কখনও কখনও অন্ধ রাজার অপমানও সহ্য করতে হয়।

রাজা অবশ্য তখন বুঝতে পারে না তাকে ঘিরে চলছে বস্ত্র হরণের মতো অপমান। রজশীলা নারীর মতো সব থেকে পবিত্রতম মানুষদেরকে এই অপমান সহ্য করতে হয়।

তবে অপমানের ভারে কেউ নুয়ে পড়ে না। অজু‍র্নের মতো হয়তো বনবাসে যায়। তবে মনে রাখা দরকার,অর্জুন বনবাসে গেলেও গান্ডীব তার হাতে।  শকুনি, শিবাদের শুধু কুমতলব ছাড়া অন্য কোন শক্তি বা অস্ত্র নেই। তাই ন্যায়ের বা স্বর্গীয় অস্ত্র গান্ডীব যখন ঘুরে দাঁড়ায় তখন কুমতলবের রক্তপান করে অতি সাধারণ ভীমসেন।

এ কারণে যে কোন দেশের যে কোন রাষ্ট্র পরিচালককে অন্ধ হলেও পাশা খেলায় শুকুনি জিতেছে বলে আনন্দিত হতে নেই। বরং তাকে রক্ষা করতে হয়  দ্রৌপদির বস্ত্র। রক্ষা করতে হয় ভূমি ও মানুষকে অযাচিত অপমানের হাত থেকে।