০২:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

যে ‘ইয়েনটাউন’ একদিন ছিল ভবিষ্যৎ, ৩০ বছর পর ৪কে-তে ফিরছে ‘Swallowtail Butterfly’

শুনজি ইওয়াইয়ের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘Swallowtail Butterfly’ মুক্তির ৩০ বছর পর নতুন ৪কে রেস্টোরেশনে আবার প্রেক্ষাগৃহে ফিরেছে। ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটির নতুন সংস্করণের কারিগরি পুনরুদ্ধারের কাজ নিজেই তদারকি করেছেন পরিচালক। সময়ের সঙ্গে ছবিটির গল্প ও জাপানের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বদলে যাওয়ায় পুরোনো এই চলচ্চিত্র এখন যেন হারিয়ে যাওয়া এক যুগের স্মারক হয়ে উঠেছে।

‘Swallowtail Butterfly’ সহজ কোনো ঘরানায় আটকে থাকে না। এতে রূপকথার আবহ, অপরাধকাহিনি এবং কাল্পনিক ব্যান্ডকে ঘিরে কনসার্ট চলচ্চিত্রের উপাদান একসঙ্গে মিশেছে। ছবির পটভূমি এমন এক ভবিষ্যৎ জাপান, যেখানে ইয়েন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রা। ভাগ্যের সন্ধানে আসা অভিবাসীদের ভিড়ে টোকিওর একটি অংশ পরিচিত হয়ে ওঠে ‘ইয়েনটাউন’ নামে।

অভিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের গল্প

ছবির কেন্দ্রে রয়েছে যৌনকর্মী, চোরাচালানকারী এবং পালিয়ে আসা কিশোরী আগেহার মতো একদল প্রান্তিক মানুষ। অর্থের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা শহরে তারা নিজেদের মতো করে টিকে থাকার চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে জাল নোট তৈরির পরিকল্পনায় জড়িয়ে পড়ে।

ইওয়াইয়ের ভাষায়, এটি এমন মানুষদের গল্প, যাদের নিজেদের ছাড়া আর কিছুই নেই। ছবিতে জাপানি চরিত্রের উপস্থিতিও প্রায় নেই। নিজের দেশের মানুষের আত্মতুষ্টি ও অসন্তোষের প্রতি সমালোচনা হিসেবেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান।

ইওয়াই বলেন, প্রান্তিক চরিত্রগুলোর জীবনযাপনও এক ধরনের সম্মানের যোগ্য। তাই তাদের শুধু দুর্দশাগ্রস্ত হিসেবে নয়, যতটা সম্ভব আকর্ষণীয় ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবেই তুলে ধরতে চেয়েছিলেন তিনি।

৩০ বছরের পুরোনো ছবিতে নতুন আলো

৪কে রেস্টোরেশনের কাজ করতে গিয়ে ইওয়াইকে পুরোনো ৩৫ মিমি ও ১৬ মিমি ফিল্মের ফুটেজ একসঙ্গে সামলাতে হয়েছে। তুলনামূলক কম খরচের কারণে ১৬ মিমি ব্যবহার করা হয়েছিল। দুই ধরনের ফিল্মের পার্থক্য মেলাতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত ও দৃশ্যগুলোর সংযোগ মসৃণ করার কাজ করা হয়েছে।

তবে ছবিটিকে নতুন করে বানানো ছিল না ইওয়াইয়ের উদ্দেশ্য। বরং মূল চলচ্চিত্রের সবচেয়ে ভালো বৈশিষ্ট্যগুলো যথাসম্ভব বিশ্বস্তভাবে ফিরিয়ে আনাই ছিল লক্ষ্য।

নতুন সংস্করণটি ১৯৯৬ সালের প্রেক্ষাগৃহের সংস্করণের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে অন্ধকার। এর পেছনেও রয়েছে পুরোনো প্রজেকশন প্রযুক্তির ইতিহাস। নব্বইয়ের দশকে সিনেমা হলগুলো প্রজেক্টরের বাতি দীর্ঘস্থায়ী করতে আলো কমিয়ে রাখত। ফলে ছবিটি তুলনামূলক উজ্জ্বল করে প্রিন্ট করা হয়েছিল। বর্তমান ডিজিটাল প্রজেকশন, ডলবি সিনেমা ও আইম্যাক্সের বেশি স্থিতিশীল এবং শক্তিশালী আলোর কারণে ইওয়াই এবার ছবিটিকে আগের কল্পিত আলোকমাত্রার কাছাকাছি ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন।

The Japan Times on X: "Shunji Iwai's "Swallowtail Butterfly" turned  immigrant life in 1990s Japan into a wild, dystopian pop fantasia. In a  newly restored 4K release, its vision of outsiders and

ইয়েনের উত্থান থেকে পতনের স্মারক

ছবিটির কাহিনির পেছনে ছিল তৎকালীন জাপানের শক্তিশালী ইয়েন। ১৯৯৫ সালে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মূল্য রেকর্ড ৭৯ দশমিক ৫-এ উঠেছিল। সেই সময়ের বাস্তবতা থেকেই ইওয়াই এমন এক কাল্পনিক জাপানের গল্প লিখেছিলেন, যেখানে অভিবাসীরা অর্থনৈতিক সম্ভাবনার আশায় দেশটিতে ছুটে আসে।

কিন্তু আজকের দুর্বল ইয়েনের বাস্তবতায় সেই কল্পজগৎ ভিন্ন অর্থ বহন করছে। ইওয়াইয়ের মতে, মুক্তির সময় দর্শক ছবিটিকে বর্তমানের প্রতিফলন হিসেবে দেখেছিলেন। এখন সেটি কয়েক দশক আগের একটি সময়ের বাস্তব দলিলের মতো অনুভূত হয়।

তবু ছবিটিকে তিনি হতাশার গল্প হিসেবে দেখতে চান না। বরং কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও মানুষের টিকে থাকার শক্তি ও মর্যাদাই এর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। সেই ভাবনাকে প্রতীকীভাবে ধারণ করে ছবির থিম গানের একটি চিত্র—‘তুমি যে আকাশের দিকে তাকাও, সেটি অবিশ্বাস্য রকম নীল।’

‘Swallowtail Butterfly’ বর্তমানে জাপানের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

যে ‘ইয়েনটাউন’ একদিন ছিল ভবিষ্যৎ, ৩০ বছর পর ৪কে-তে ফিরছে ‘Swallowtail Butterfly’

১২:৩৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুনজি ইওয়াইয়ের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘Swallowtail Butterfly’ মুক্তির ৩০ বছর পর নতুন ৪কে রেস্টোরেশনে আবার প্রেক্ষাগৃহে ফিরেছে। ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটির নতুন সংস্করণের কারিগরি পুনরুদ্ধারের কাজ নিজেই তদারকি করেছেন পরিচালক। সময়ের সঙ্গে ছবিটির গল্প ও জাপানের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বদলে যাওয়ায় পুরোনো এই চলচ্চিত্র এখন যেন হারিয়ে যাওয়া এক যুগের স্মারক হয়ে উঠেছে।

‘Swallowtail Butterfly’ সহজ কোনো ঘরানায় আটকে থাকে না। এতে রূপকথার আবহ, অপরাধকাহিনি এবং কাল্পনিক ব্যান্ডকে ঘিরে কনসার্ট চলচ্চিত্রের উপাদান একসঙ্গে মিশেছে। ছবির পটভূমি এমন এক ভবিষ্যৎ জাপান, যেখানে ইয়েন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রা। ভাগ্যের সন্ধানে আসা অভিবাসীদের ভিড়ে টোকিওর একটি অংশ পরিচিত হয়ে ওঠে ‘ইয়েনটাউন’ নামে।

অভিবাসী ও প্রান্তিক মানুষের গল্প

ছবির কেন্দ্রে রয়েছে যৌনকর্মী, চোরাচালানকারী এবং পালিয়ে আসা কিশোরী আগেহার মতো একদল প্রান্তিক মানুষ। অর্থের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা শহরে তারা নিজেদের মতো করে টিকে থাকার চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে জাল নোট তৈরির পরিকল্পনায় জড়িয়ে পড়ে।

ইওয়াইয়ের ভাষায়, এটি এমন মানুষদের গল্প, যাদের নিজেদের ছাড়া আর কিছুই নেই। ছবিতে জাপানি চরিত্রের উপস্থিতিও প্রায় নেই। নিজের দেশের মানুষের আত্মতুষ্টি ও অসন্তোষের প্রতি সমালোচনা হিসেবেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান।

ইওয়াই বলেন, প্রান্তিক চরিত্রগুলোর জীবনযাপনও এক ধরনের সম্মানের যোগ্য। তাই তাদের শুধু দুর্দশাগ্রস্ত হিসেবে নয়, যতটা সম্ভব আকর্ষণীয় ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবেই তুলে ধরতে চেয়েছিলেন তিনি।

৩০ বছরের পুরোনো ছবিতে নতুন আলো

৪কে রেস্টোরেশনের কাজ করতে গিয়ে ইওয়াইকে পুরোনো ৩৫ মিমি ও ১৬ মিমি ফিল্মের ফুটেজ একসঙ্গে সামলাতে হয়েছে। তুলনামূলক কম খরচের কারণে ১৬ মিমি ব্যবহার করা হয়েছিল। দুই ধরনের ফিল্মের পার্থক্য মেলাতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত ও দৃশ্যগুলোর সংযোগ মসৃণ করার কাজ করা হয়েছে।

তবে ছবিটিকে নতুন করে বানানো ছিল না ইওয়াইয়ের উদ্দেশ্য। বরং মূল চলচ্চিত্রের সবচেয়ে ভালো বৈশিষ্ট্যগুলো যথাসম্ভব বিশ্বস্তভাবে ফিরিয়ে আনাই ছিল লক্ষ্য।

নতুন সংস্করণটি ১৯৯৬ সালের প্রেক্ষাগৃহের সংস্করণের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে অন্ধকার। এর পেছনেও রয়েছে পুরোনো প্রজেকশন প্রযুক্তির ইতিহাস। নব্বইয়ের দশকে সিনেমা হলগুলো প্রজেক্টরের বাতি দীর্ঘস্থায়ী করতে আলো কমিয়ে রাখত। ফলে ছবিটি তুলনামূলক উজ্জ্বল করে প্রিন্ট করা হয়েছিল। বর্তমান ডিজিটাল প্রজেকশন, ডলবি সিনেমা ও আইম্যাক্সের বেশি স্থিতিশীল এবং শক্তিশালী আলোর কারণে ইওয়াই এবার ছবিটিকে আগের কল্পিত আলোকমাত্রার কাছাকাছি ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন।

The Japan Times on X: "Shunji Iwai's "Swallowtail Butterfly" turned  immigrant life in 1990s Japan into a wild, dystopian pop fantasia. In a  newly restored 4K release, its vision of outsiders and

ইয়েনের উত্থান থেকে পতনের স্মারক

ছবিটির কাহিনির পেছনে ছিল তৎকালীন জাপানের শক্তিশালী ইয়েন। ১৯৯৫ সালে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মূল্য রেকর্ড ৭৯ দশমিক ৫-এ উঠেছিল। সেই সময়ের বাস্তবতা থেকেই ইওয়াই এমন এক কাল্পনিক জাপানের গল্প লিখেছিলেন, যেখানে অভিবাসীরা অর্থনৈতিক সম্ভাবনার আশায় দেশটিতে ছুটে আসে।

কিন্তু আজকের দুর্বল ইয়েনের বাস্তবতায় সেই কল্পজগৎ ভিন্ন অর্থ বহন করছে। ইওয়াইয়ের মতে, মুক্তির সময় দর্শক ছবিটিকে বর্তমানের প্রতিফলন হিসেবে দেখেছিলেন। এখন সেটি কয়েক দশক আগের একটি সময়ের বাস্তব দলিলের মতো অনুভূত হয়।

তবু ছবিটিকে তিনি হতাশার গল্প হিসেবে দেখতে চান না। বরং কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও মানুষের টিকে থাকার শক্তি ও মর্যাদাই এর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। সেই ভাবনাকে প্রতীকীভাবে ধারণ করে ছবির থিম গানের একটি চিত্র—‘তুমি যে আকাশের দিকে তাকাও, সেটি অবিশ্বাস্য রকম নীল।’

‘Swallowtail Butterfly’ বর্তমানে জাপানের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে।