০১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা যুদ্ধ থামছে না কেন? অপরাধ যখন ধর্মের পরিচয় পায় ঝলমলে শিল্পে আত্মভালোবাসার বার্তা দিচ্ছেন সারা শাকিল শতায়ু বাবা-মায়ের সন্তানদের আয়ু ও সুস্বাস্থ্যের সম্ভাবনা বেশি শিক্ষিত, দক্ষ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণদেরই ফাঁদে ফেলছে মানবপাচারকারীরা পাকিস্তান-রাশিয়া সম্পর্ক: অবহেলিত হলেও কেন বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ, সুযোগ নিয়ে থাকছে প্রশ্ন গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য, জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে হচ্ছে না

অফিসকেন্দ্রিক জীবনযাপন ও স্ট্রেস একসঙ্গে বাড়াচ্ছে ডায়াবেটিসের বিস্তার

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি—বিশেষত কর্মজীবী মানুষের মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে দেশে প্রায় ১৩ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, আর ধরা না পড়া রোগীদের মিলিয়ে সংখ্যা ছাড়িয়ে যেতে পারে ২ কোটি। নগরের অফিসকেন্দ্রিক জীবনযাপনে অনেকে ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসে ভুগলেও চাকরি হারানোর ভয় বা সামাজিক লজ্জার কারণে অনেকেই বিষয়টি গোপন রাখেন। এতে জটিলতা আরও বাড়ে।

চিকিৎসকদের মতে, দেশের অফিস ও কারখানার দৈনন্দিন ছক ডায়াবেটিসের জন্য প্রায় ‘পারফেক্ট’ পরিবেশ তৈরি করে। দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে থাকা, অনিয়মিত খাবার, চিনি-যুক্ত পানীয়, ফাস্টফুড নির্ভরতা এবং মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। গবেষণা বলছে, বিশ্বজুড়ে এখন অধিকাংশ ডায়াবেটিস রোগীর বয়স কর্মজীবী পর্যায়ে; বাংলাদেশও সেই ধারার বাইরে নয়।

 

Diabetes Management:10 Ways To Prevent Blood Sugar Spikes

কর্মজীবীরা নাশতা না করে বের হন, দুপুরের খাবার মিটিংয়ের কারণে পিছিয়ে যায়, ক্ষুধা সামলাতে ভাজাপোড়া আর মিষ্টি পানীয় ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। বেশিরভাগ অফিসেই হাঁটার সুযোগ বা ব্যায়ামের জন্য স্থান নেই। অনেকে লজ্জার কারণে গোপনে ইনসুলিন নেন বা রক্তে শর্করা পরীক্ষা করেন। এই পরিস্থিতিতে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত কঠিন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিত হাঁটা, সুষম খাবার, চাপ কমানো ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতের ডায়াবেটিসের বড় অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু এর জন্য প্রতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জরুরি। অফিসে ছোট হাঁটার বিরতি, স্বাস্থ্যকর ক্যানটিন মেনু, বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা—এসব কার্যক্রম কর্মীদের স্বাস্থ্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মস্থল-কেন্দ্রিক স্বাস্থ্য উদ্যোগই এই নীরব মহামারীকে নিয়ন্ত্রণে আনার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা

অফিসকেন্দ্রিক জীবনযাপন ও স্ট্রেস একসঙ্গে বাড়াচ্ছে ডায়াবেটিসের বিস্তার

১০:০০:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি—বিশেষত কর্মজীবী মানুষের মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে দেশে প্রায় ১৩ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, আর ধরা না পড়া রোগীদের মিলিয়ে সংখ্যা ছাড়িয়ে যেতে পারে ২ কোটি। নগরের অফিসকেন্দ্রিক জীবনযাপনে অনেকে ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসে ভুগলেও চাকরি হারানোর ভয় বা সামাজিক লজ্জার কারণে অনেকেই বিষয়টি গোপন রাখেন। এতে জটিলতা আরও বাড়ে।

চিকিৎসকদের মতে, দেশের অফিস ও কারখানার দৈনন্দিন ছক ডায়াবেটিসের জন্য প্রায় ‘পারফেক্ট’ পরিবেশ তৈরি করে। দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে থাকা, অনিয়মিত খাবার, চিনি-যুক্ত পানীয়, ফাস্টফুড নির্ভরতা এবং মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। গবেষণা বলছে, বিশ্বজুড়ে এখন অধিকাংশ ডায়াবেটিস রোগীর বয়স কর্মজীবী পর্যায়ে; বাংলাদেশও সেই ধারার বাইরে নয়।

 

Diabetes Management:10 Ways To Prevent Blood Sugar Spikes

কর্মজীবীরা নাশতা না করে বের হন, দুপুরের খাবার মিটিংয়ের কারণে পিছিয়ে যায়, ক্ষুধা সামলাতে ভাজাপোড়া আর মিষ্টি পানীয় ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। বেশিরভাগ অফিসেই হাঁটার সুযোগ বা ব্যায়ামের জন্য স্থান নেই। অনেকে লজ্জার কারণে গোপনে ইনসুলিন নেন বা রক্তে শর্করা পরীক্ষা করেন। এই পরিস্থিতিতে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত কঠিন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিত হাঁটা, সুষম খাবার, চাপ কমানো ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতের ডায়াবেটিসের বড় অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু এর জন্য প্রতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জরুরি। অফিসে ছোট হাঁটার বিরতি, স্বাস্থ্যকর ক্যানটিন মেনু, বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা—এসব কার্যক্রম কর্মীদের স্বাস্থ্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মস্থল-কেন্দ্রিক স্বাস্থ্য উদ্যোগই এই নীরব মহামারীকে নিয়ন্ত্রণে আনার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।