০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

অভিবাসনই অর্থনীতির ভরসা? স্পেনের সাহসী সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক

ইউরোপজুড়ে জনসংখ্যা সংকট ও শ্রমিকের ঘাটতির মধ্যে অভিবাসন নীতিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে স্পেন সরকার। কেন্দ্র-বামপন্থী প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছে, দেশটিতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধ মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সরকার মনে করছে, অর্থনৈতিক লাভ ও শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল দেবে।

অর্থনীতির চাপে নীতি বদল

বিশ্বের বহু ধনী দেশ বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যায় ভুগছে। একদিকে অভিবাসন বাড়ালে অর্থনীতি শক্তিশালী হয়, কর রাজস্ব বাড়ে এবং কমতে থাকা শ্রমশক্তির ঘাটতি পূরণ হয়। অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে অভিবাসন অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়, যা ভোটার অসন্তোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই স্পেন ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। ইউরোপে দেশটির জন্মহার অন্যতম কম এবং স্থানীয় শ্রমশক্তি দ্রুত কমছে। তাই সরকার মনে করছে, অভিবাসীদের বৈধতা দিলে তারা আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে যুক্ত হবে এবং কর দেবে, যা রাষ্ট্রের জন্য লাভজনক।

বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা

তবে সিদ্ধান্তটি সর্বমহলে সমর্থন পায়নি। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, নতুন নীতি জনসেবার ওপর চাপ বাড়াবে এবং জাতীয় পরিচয়ের জন্য হুমকি হতে পারে। বিশেষ করে ডানপন্থী রাজনীতিতে এই ইস্যু বড় বিতর্ক তৈরি করেছে।

তবুও সরকার ব্যবসায়ী মহল ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সমর্থন পেয়েছে, যা নীতিটি বাস্তবায়নে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান কী বলছে

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর স্পেনে সৃষ্ট নতুন চাকরির প্রায় ৪০ শতাংশই পূরণ করেছেন অভিবাসীরা। গবেষণায় দেখা গেছে, অতীতে বৈধতা পাওয়া অভিবাসীরা অনানুষ্ঠানিক কম মজুরির কাজ ছেড়ে ভালো বেতনের চাকরিতে ঢুকেছেন এবং প্রতি বৈধকৃত অভিবাসী থেকে বছরে প্রায় চার হাজার ইউরো অতিরিক্ত কর রাজস্ব এসেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসীরা স্থানীয়দের সঙ্গে নয়, বরং অন্য অভিবাসীদের সঙ্গেই বেশি প্রতিযোগিতায় জড়ান, ফলে স্থানীয় কর্মসংস্থানের ওপর চাপ তুলনামূলক কম পড়ে।

অভিবাসীর জীবনের বাস্তবতা

পেরু থেকে আসা মারিতা গনসালেস নামের এক অভিবাসী দুই সন্তান নিয়ে স্পেনে এসে বয়স্কদের দেখাশোনার কাজ করছেন। মাসে প্রায় ৭৫০ ইউরো আয় করলেও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় স্থিতিশীল জীবন পাচ্ছেন না। তার ভাষায়, তারা সাহায্য নিতে নয়, কাজ করতে এসেছেন—কিন্তু কাজের জন্য প্রয়োজন বৈধতা।

সরকার বলছে, এ ধরনের মানুষকে বৈধ কাঠামোর মধ্যে আনাই আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনীতির জন্য বেশি উপকারী।

সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের বার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, জনমত অনেকটাই নির্ভর করে মানুষ মনে করে কি না যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে আছে। স্পেনের ক্ষেত্রে অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার তুলনামূলক কম এবং অনেক অভিবাসী পর্যটক ভিসায় এসে পরে থেকে যান। ফলে সীমান্ত অগোছালো—এমন ধারণা কম তৈরি হয়।

অন্য দেশে কি সম্ভব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পেনের অভিজ্ঞতা পুরোপুরি অন্য দেশে প্রয়োগ করা কঠিন হতে পারে। লাতিন আমেরিকার সঙ্গে ভাষা ও সংস্কৃতিগত মিল দেশটিকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। তবুও অভিবাসনকে অর্থনৈতিক প্রয়োজন হিসেবে তুলে ধরার কৌশল অনেক দেশের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

অভিবাসনই অর্থনীতির ভরসা? স্পেনের সাহসী সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক

১০:০০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইউরোপজুড়ে জনসংখ্যা সংকট ও শ্রমিকের ঘাটতির মধ্যে অভিবাসন নীতিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে স্পেন সরকার। কেন্দ্র-বামপন্থী প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছে, দেশটিতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধ মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সরকার মনে করছে, অর্থনৈতিক লাভ ও শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল দেবে।

অর্থনীতির চাপে নীতি বদল

বিশ্বের বহু ধনী দেশ বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যায় ভুগছে। একদিকে অভিবাসন বাড়ালে অর্থনীতি শক্তিশালী হয়, কর রাজস্ব বাড়ে এবং কমতে থাকা শ্রমশক্তির ঘাটতি পূরণ হয়। অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে অভিবাসন অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়, যা ভোটার অসন্তোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই স্পেন ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। ইউরোপে দেশটির জন্মহার অন্যতম কম এবং স্থানীয় শ্রমশক্তি দ্রুত কমছে। তাই সরকার মনে করছে, অভিবাসীদের বৈধতা দিলে তারা আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে যুক্ত হবে এবং কর দেবে, যা রাষ্ট্রের জন্য লাভজনক।

বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা

তবে সিদ্ধান্তটি সর্বমহলে সমর্থন পায়নি। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, নতুন নীতি জনসেবার ওপর চাপ বাড়াবে এবং জাতীয় পরিচয়ের জন্য হুমকি হতে পারে। বিশেষ করে ডানপন্থী রাজনীতিতে এই ইস্যু বড় বিতর্ক তৈরি করেছে।

তবুও সরকার ব্যবসায়ী মহল ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সমর্থন পেয়েছে, যা নীতিটি বাস্তবায়নে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

পরিসংখ্যান কী বলছে

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর স্পেনে সৃষ্ট নতুন চাকরির প্রায় ৪০ শতাংশই পূরণ করেছেন অভিবাসীরা। গবেষণায় দেখা গেছে, অতীতে বৈধতা পাওয়া অভিবাসীরা অনানুষ্ঠানিক কম মজুরির কাজ ছেড়ে ভালো বেতনের চাকরিতে ঢুকেছেন এবং প্রতি বৈধকৃত অভিবাসী থেকে বছরে প্রায় চার হাজার ইউরো অতিরিক্ত কর রাজস্ব এসেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসীরা স্থানীয়দের সঙ্গে নয়, বরং অন্য অভিবাসীদের সঙ্গেই বেশি প্রতিযোগিতায় জড়ান, ফলে স্থানীয় কর্মসংস্থানের ওপর চাপ তুলনামূলক কম পড়ে।

অভিবাসীর জীবনের বাস্তবতা

পেরু থেকে আসা মারিতা গনসালেস নামের এক অভিবাসী দুই সন্তান নিয়ে স্পেনে এসে বয়স্কদের দেখাশোনার কাজ করছেন। মাসে প্রায় ৭৫০ ইউরো আয় করলেও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় স্থিতিশীল জীবন পাচ্ছেন না। তার ভাষায়, তারা সাহায্য নিতে নয়, কাজ করতে এসেছেন—কিন্তু কাজের জন্য প্রয়োজন বৈধতা।

সরকার বলছে, এ ধরনের মানুষকে বৈধ কাঠামোর মধ্যে আনাই আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনীতির জন্য বেশি উপকারী।

সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের বার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, জনমত অনেকটাই নির্ভর করে মানুষ মনে করে কি না যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে আছে। স্পেনের ক্ষেত্রে অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার তুলনামূলক কম এবং অনেক অভিবাসী পর্যটক ভিসায় এসে পরে থেকে যান। ফলে সীমান্ত অগোছালো—এমন ধারণা কম তৈরি হয়।

অন্য দেশে কি সম্ভব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পেনের অভিজ্ঞতা পুরোপুরি অন্য দেশে প্রয়োগ করা কঠিন হতে পারে। লাতিন আমেরিকার সঙ্গে ভাষা ও সংস্কৃতিগত মিল দেশটিকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। তবুও অভিবাসনকে অর্থনৈতিক প্রয়োজন হিসেবে তুলে ধরার কৌশল অনেক দেশের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।