০৬:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

অস্ট্রেলিয়ার সুপারমার্কেটে ভুয়া ছাড়ের ফাঁদ, বিভ্রান্তির দায়ে আদালতে দোষী কোলস

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম সুপারমার্কেট চেইন কোলসের বিরুদ্ধে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। দেশটির ফেডারেল আদালত রায়ে বলেছে, কোলস শত শত পণ্যের দাম বাড়িয়ে পরে সেগুলোকে ‘ছাড়’ হিসেবে প্রচার করেছে, যদিও সেই তথাকথিত ছাড়ের মূল্য আগের বিক্রয়মূল্যের চেয়েও বেশি ছিল।

এই ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার প্রতিযোগিতা ও ভোক্তা কমিশন কোলসের বিরুদ্ধে বড় ধরনের জরিমানার দাবি জানিয়েছে। একই অভিযোগে আরেক বড় সুপারমার্কেট প্রতিষ্ঠান উলওয়ার্থসের বিরুদ্ধেও মামলা চলছে।

দাম বাড়িয়ে পরে ‘ছাড়’ দেখানোর অভিযোগ

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ২০২২ ও ২০২৩ সালে কোলস বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ায়। পরে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই বাড়তি দামের ওপর ছাড় দেখিয়ে প্রচারণা চালানো হয়। এতে সাধারণ ক্রেতারা মনে করেন তারা কম দামে পণ্য কিনছেন, যদিও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সেই মূল্য আগের চেয়েও বেশি ছিল।

Coles put commercial interests above its customers – and was caught  red-handed | Supermarkets | The Guardian

বিচারক মাইকেল ও’ব্রায়ান বলেন, কোনো পণ্যের ‘আগের দাম’ বিশ্বাসযোগ্যভাবে দেখাতে হলে সেটি অন্তত ১২ সপ্তাহ সেই দামে বিক্রি হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কোলস সাধারণত চার সপ্তাহের মধ্যেই ছাড়ের বিজ্ঞাপন দিয়েছে, যা প্রকৃত ছাড় হিসেবে গণ্য করা যায় না।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু পণ্যগুলো যথেষ্ট সময় উচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়নি, তাই ছাড়ের দাবিগুলো প্রকৃত বা বিশ্বাসযোগ্য ছিল না।

জরিমানার দাবি নিয়ন্ত্রক সংস্থার

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিযোগিতা ও ভোক্তা কমিশনের চেয়ারম্যান জিনা ক্যাস-গটলিয়েব বলেছেন, এই ধরনের আচরণের জন্য এমন শাস্তি হওয়া দরকার যা শুধু ব্যবসার খরচ হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া না যায়। তার মতে, জরিমানার পরিমাণ এমন হতে হবে যাতে ভবিষ্যতে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের কৌশল নিতে ভয় পায়।

দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় অস্ট্রেলিয়ায় বড় সুপারমার্কেটগুলোর বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ বাড়ছিল। দেশটির মুদি বাজারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করে কোলস ও উলওয়ার্থস।

Coles: Australian supermarket giant misled consumers with fake discounts,  court rules

শেয়ারবাজারেও প্রভাব

রায়ের পর কোলসের শেয়ারের দাম প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে যায়। একই সঙ্গে উলওয়ার্থসের শেয়ারও ১ দশমিক ৯ শতাংশ পড়ে যায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে সুপারমার্কেটগুলোর মূল্যছাড় কৌশল আরও কঠোর নজরদারির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কোলস জানিয়েছে, তারা আদালতের রায় পর্যালোচনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ভবিষ্যতে এমন আইনি জটিলতা এড়াতে মূল্য নির্ধারণের সময়সীমা নিয়ে আরও স্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন হতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

অস্ট্রেলিয়ার সুপারমার্কেটে ভুয়া ছাড়ের ফাঁদ, বিভ্রান্তির দায়ে আদালতে দোষী কোলস

০৪:২৩:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম সুপারমার্কেট চেইন কোলসের বিরুদ্ধে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। দেশটির ফেডারেল আদালত রায়ে বলেছে, কোলস শত শত পণ্যের দাম বাড়িয়ে পরে সেগুলোকে ‘ছাড়’ হিসেবে প্রচার করেছে, যদিও সেই তথাকথিত ছাড়ের মূল্য আগের বিক্রয়মূল্যের চেয়েও বেশি ছিল।

এই ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার প্রতিযোগিতা ও ভোক্তা কমিশন কোলসের বিরুদ্ধে বড় ধরনের জরিমানার দাবি জানিয়েছে। একই অভিযোগে আরেক বড় সুপারমার্কেট প্রতিষ্ঠান উলওয়ার্থসের বিরুদ্ধেও মামলা চলছে।

দাম বাড়িয়ে পরে ‘ছাড়’ দেখানোর অভিযোগ

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ২০২২ ও ২০২৩ সালে কোলস বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ায়। পরে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেই বাড়তি দামের ওপর ছাড় দেখিয়ে প্রচারণা চালানো হয়। এতে সাধারণ ক্রেতারা মনে করেন তারা কম দামে পণ্য কিনছেন, যদিও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে সেই মূল্য আগের চেয়েও বেশি ছিল।

Coles put commercial interests above its customers – and was caught  red-handed | Supermarkets | The Guardian

বিচারক মাইকেল ও’ব্রায়ান বলেন, কোনো পণ্যের ‘আগের দাম’ বিশ্বাসযোগ্যভাবে দেখাতে হলে সেটি অন্তত ১২ সপ্তাহ সেই দামে বিক্রি হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু কোলস সাধারণত চার সপ্তাহের মধ্যেই ছাড়ের বিজ্ঞাপন দিয়েছে, যা প্রকৃত ছাড় হিসেবে গণ্য করা যায় না।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু পণ্যগুলো যথেষ্ট সময় উচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়নি, তাই ছাড়ের দাবিগুলো প্রকৃত বা বিশ্বাসযোগ্য ছিল না।

জরিমানার দাবি নিয়ন্ত্রক সংস্থার

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিযোগিতা ও ভোক্তা কমিশনের চেয়ারম্যান জিনা ক্যাস-গটলিয়েব বলেছেন, এই ধরনের আচরণের জন্য এমন শাস্তি হওয়া দরকার যা শুধু ব্যবসার খরচ হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া না যায়। তার মতে, জরিমানার পরিমাণ এমন হতে হবে যাতে ভবিষ্যতে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের কৌশল নিতে ভয় পায়।

দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় অস্ট্রেলিয়ায় বড় সুপারমার্কেটগুলোর বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ বাড়ছিল। দেশটির মুদি বাজারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করে কোলস ও উলওয়ার্থস।

Coles: Australian supermarket giant misled consumers with fake discounts,  court rules

শেয়ারবাজারেও প্রভাব

রায়ের পর কোলসের শেয়ারের দাম প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে যায়। একই সঙ্গে উলওয়ার্থসের শেয়ারও ১ দশমিক ৯ শতাংশ পড়ে যায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে সুপারমার্কেটগুলোর মূল্যছাড় কৌশল আরও কঠোর নজরদারির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কোলস জানিয়েছে, তারা আদালতের রায় পর্যালোচনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ভবিষ্যতে এমন আইনি জটিলতা এড়াতে মূল্য নির্ধারণের সময়সীমা নিয়ে আরও স্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন হতে পারে।