০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লু শনাক্ত

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো একটি স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে প্রাণঘাতী এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লু ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া অঙ্গরাজ্যের বিচপোর্ট উপকূলীয় এলাকায় একটি মৃত লম্বা নাকের পশমি সিলের দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন দেশটির কর্তৃপক্ষ।

অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ছে বার্ড ফ্লুর বিস্তার

চলতি বছরের জুনে অস্ট্রেলিয়ায় এইচ৫এন১ ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে দেশটিতে সংক্রমণ বাড়ছে। চলতি মাসেই ভাইরাসটির কারণে প্রথমবারের মতো ব্যাপক সামুদ্রিক পাখির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরিযায়ী পাখির মাধ্যমে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর ভাইরাসটি ধীরে ধীরে দেশটির বিভিন্ন স্থানীয় বন্যপ্রাণীর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে।

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী অ্যাডিলেড থেকে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার দক্ষিণে বিচপোর্ট এলাকায় মৃত সিলটি পাওয়া যায়। প্রাণীটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। অঙ্গরাজ্যের জলসীমায় এ ধরনের সিলের আনুমানিক সংখ্যা এক লাখ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিলটির মৃত্যু অন্য কোনো অসুস্থ বা মৃত সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে না।

প্রাকৃতিক পরিবেশে ছড়ালে বড় ক্ষতির আশঙ্কা

অস্ট্রেলিয়ার কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স বলেছেন, প্রাকৃতিক পরিবেশে এইচ৫ বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়ার পর বড় ধরনের প্রাণীহানি এড়ানো কঠিন। দেশটির প্রধান পশুচিকিৎসা কর্মকর্তা স্কাই ফ্রুয়ানও সিলের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি বলে জানিয়েছেন।

তার মতে, উপকূলের পাথুরে এলাকায় সিলগুলো বন্য পাখির খুব কাছাকাছি বসবাস করে। ফলে তাদের আশপাশের পরিবেশে ভাইরাসের উচ্চমাত্রার উপস্থিতির সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া ছিল বিশ্বের শেষ মহাদেশ, যেখানে বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। তবে দেশটির মূল ভূখণ্ডে ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার আগেই ২০২৫ সালের শেষ দিকে অ্যান্টার্কটিকার কাছাকাছি হিয়ার্ড দ্বীপে এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ভাইরাসের সংক্রমণে ১৩ হাজারের বেশি সিলশাবকের মৃত্যু হয়েছে।

এখনো পোলট্রি খাতে ছড়ায়নি

অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার জানিয়েছে, দেশটির হাঁস-মুরগি বা কৃষি খাতে এখনো এইচ৫এন১ ভাইরাস শনাক্ত হয়নি। তবে শুক্রবার পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ২৯৭টি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বন্য পাখি থেকে অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে ভাইরাসের বিস্তার অব্যাহত থাকলে অস্ট্রেলিয়ার বন্যপ্রাণীর ওপর এর প্রভাব আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লু শনাক্ত

০৭:০১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো একটি স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে প্রাণঘাতী এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লু ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া অঙ্গরাজ্যের বিচপোর্ট উপকূলীয় এলাকায় একটি মৃত লম্বা নাকের পশমি সিলের দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন দেশটির কর্তৃপক্ষ।

অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ছে বার্ড ফ্লুর বিস্তার

চলতি বছরের জুনে অস্ট্রেলিয়ায় এইচ৫এন১ ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে দেশটিতে সংক্রমণ বাড়ছে। চলতি মাসেই ভাইরাসটির কারণে প্রথমবারের মতো ব্যাপক সামুদ্রিক পাখির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরিযায়ী পাখির মাধ্যমে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর ভাইরাসটি ধীরে ধীরে দেশটির বিভিন্ন স্থানীয় বন্যপ্রাণীর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে।

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী অ্যাডিলেড থেকে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার দক্ষিণে বিচপোর্ট এলাকায় মৃত সিলটি পাওয়া যায়। প্রাণীটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। অঙ্গরাজ্যের জলসীমায় এ ধরনের সিলের আনুমানিক সংখ্যা এক লাখ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিলটির মৃত্যু অন্য কোনো অসুস্থ বা মৃত সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে না।

প্রাকৃতিক পরিবেশে ছড়ালে বড় ক্ষতির আশঙ্কা

অস্ট্রেলিয়ার কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স বলেছেন, প্রাকৃতিক পরিবেশে এইচ৫ বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়ার পর বড় ধরনের প্রাণীহানি এড়ানো কঠিন। দেশটির প্রধান পশুচিকিৎসা কর্মকর্তা স্কাই ফ্রুয়ানও সিলের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি বলে জানিয়েছেন।

তার মতে, উপকূলের পাথুরে এলাকায় সিলগুলো বন্য পাখির খুব কাছাকাছি বসবাস করে। ফলে তাদের আশপাশের পরিবেশে ভাইরাসের উচ্চমাত্রার উপস্থিতির সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া ছিল বিশ্বের শেষ মহাদেশ, যেখানে বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। তবে দেশটির মূল ভূখণ্ডে ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার আগেই ২০২৫ সালের শেষ দিকে অ্যান্টার্কটিকার কাছাকাছি হিয়ার্ড দ্বীপে এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ভাইরাসের সংক্রমণে ১৩ হাজারের বেশি সিলশাবকের মৃত্যু হয়েছে।

এখনো পোলট্রি খাতে ছড়ায়নি

অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার জানিয়েছে, দেশটির হাঁস-মুরগি বা কৃষি খাতে এখনো এইচ৫এন১ ভাইরাস শনাক্ত হয়নি। তবে শুক্রবার পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ২৯৭টি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বন্য পাখি থেকে অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে ভাইরাসের বিস্তার অব্যাহত থাকলে অস্ট্রেলিয়ার বন্যপ্রাণীর ওপর এর প্রভাব আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।