০২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নতুন ব্রিটিশ সরকার: প্রথম দিনেই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশটির রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে জনপ্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার ভাবমূর্তি নিয়ে তিনি ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করেছেন। তবে নতুন দায়িত্বের শুরুতেই তাকে অর্থনীতি, জনসেবা, অভিবাসন, প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো কঠিন সব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম প্রবেশের সময় কর্মীদের করতালিতে স্বাগত জানানো হয় বার্নহ্যাম ও তার স্ত্রীকে। এরপর তিনি সরাসরি মন্ত্রিসভা কক্ষে গিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের কাজ শুরু করেন। নতুন প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে কর্মীদের মধ্যেও তার ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের ধরন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

মানুষের কাছাকাছি থাকার রাজনীতি

ম্যানচেস্টারের মেয়র থাকাকালে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন বার্নহ্যাম। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও সেই অবস্থান বদলাবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।

তার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানীয় সরকারকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া। জাতীয়ভাবে সংগৃহীত করের অর্থ স্থানীয় নেতাদের হাতে তুলে দিয়ে তারা যেন নিজেদের এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যয় করতে পারেন—এমন ব্যবস্থার পক্ষে তিনি অবস্থান করছেন।

এই চিন্তার প্রতিফলন হিসেবে ম্যানচেস্টারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি নতুন শাখাও চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে লন্ডনকেন্দ্রিক প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

Burnham promises 'circuit breaker' moment for UK as he becomes PM | Labour | The Guardian

জনসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তায় বড় পরিকল্পনা

বার্নহ্যামের দীর্ঘদিনের অন্যতম অগ্রাধিকার সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থা। তিনি জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার আদলে একটি জাতীয় পরিচর্যা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ধারণার কথা বহুবার বলেছেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই পুরো পরিকল্পনা ঘোষণা না করে বিদ্যমান পর্যালোচনা দ্রুত শেষ করার দিকে তিনি এগোচ্ছেন বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

কল্যাণভাতা নিয়েও নতুন সরকারের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সুবিধাভোগীদের দায়ী না করে সরকারি ব্যয় কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন বার্নহ্যাম। কিছু ক্ষেত্রে ভাতা পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত শর্ত আরোপের সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি।

অর্থনীতি নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বার্নহ্যামের সামনে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি হতে পারে অর্থনীতি। যুক্তরাজ্যের ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও জনসেবায় অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন রয়েছে।

বার্নহ্যাম আয়কর, মূল্য সংযোজন কর ও জাতীয় বিমা নিয়ে আগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার কথা বলেছেন। তবে স্থানীয় করব্যবস্থায় পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও সামনে এসেছে। বিশেষ করে সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে বেশি কর নেওয়ার বিষয়টি বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পরিণত হতে পারে।

অভিবাসন নীতিতেও পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত

A very quick guide to new prime minister Andy Burnham and his policies

অভিবাসন ইস্যুতেও নতুন প্রধানমন্ত্রী আগের সরকারের নীতিগুলো নতুন করে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ পেতে অভিবাসীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আবার ভাবছেন বলে জানিয়েছেন।

বিশেষ করে পরিচর্যা খাতে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা যায় কি না, সেটিও বিবেচনায় রয়েছে।

ট্রাম্প-পুতিন প্রশ্নে সতর্ক বার্নহ্যাম

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বার্নহ্যামের অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে কম। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগের মতো প্রশ্নে তার উত্তরেও সতর্কতার ছাপ দেখা গেছে।

ট্রাম্পকে তিনি বিশ্বাস করেন কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি। পুতিন ফোন করলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন সরকারের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।

জনপ্রিয়তার পর এবার কঠিন বাস্তবতা

বার্নহ্যামের রাজনৈতিক যোগাযোগের ধরনও আগের সরকারের তুলনায় আলাদা। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা এবং ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বিষয় সামনে আনার মাধ্যমে তিনি জনগণের কাছে সহজে পৌঁছাতে চাইছেন। তার পোষা কুকুর থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পছন্দের নানা বিষয়ও জনসমক্ষে এসেছে।

Andy Burnham becomes new UK PM after meeting King Charles

তবে জনপ্রিয়তা দিয়ে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। প্রতিরক্ষা ব্যয়, সরকারি ঋণ, জনসেবা, অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মতো বিষয়ে তাকে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তার বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা রূপ পায়।

সামনে কঠিন পরীক্ষা

বার্নহ্যাম নিজেও জানেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সব জায়গায় করতালি মিলবে না। তিনি এমন একটি রাজনৈতিক সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন, যখন জনগণের মধ্যে সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে হতাশা রয়েছে।

তার লক্ষ্য শুধু জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত হওয়া নয়, বরং বাস্তব পরিবর্তন আনা। এখন সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা তাকে কতটা সাহায্য করে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় তিনি কতটা কার্যকর হন, সেটিই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম নতুন ব্রিটিশ সরকারের নেতৃত্বে এসেছেন পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে। কিন্তু অর্থনীতি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাকে এখন প্রমাণ করতে হবে, জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বাস্তব শাসনক্ষমতার সমন্বয় তিনি কতটা করতে পারেন।

বার্নহ্যামের সামনে তাই করতালির চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে কাজের পরীক্ষা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নতুন ব্রিটিশ সরকার: প্রথম দিনেই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

১২:০৪:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশটির রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে জনপ্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার ভাবমূর্তি নিয়ে তিনি ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করেছেন। তবে নতুন দায়িত্বের শুরুতেই তাকে অর্থনীতি, জনসেবা, অভিবাসন, প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো কঠিন সব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম প্রবেশের সময় কর্মীদের করতালিতে স্বাগত জানানো হয় বার্নহ্যাম ও তার স্ত্রীকে। এরপর তিনি সরাসরি মন্ত্রিসভা কক্ষে গিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের কাজ শুরু করেন। নতুন প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে কর্মীদের মধ্যেও তার ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের ধরন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

মানুষের কাছাকাছি থাকার রাজনীতি

ম্যানচেস্টারের মেয়র থাকাকালে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন বার্নহ্যাম। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও সেই অবস্থান বদলাবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।

তার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানীয় সরকারকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া। জাতীয়ভাবে সংগৃহীত করের অর্থ স্থানীয় নেতাদের হাতে তুলে দিয়ে তারা যেন নিজেদের এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যয় করতে পারেন—এমন ব্যবস্থার পক্ষে তিনি অবস্থান করছেন।

এই চিন্তার প্রতিফলন হিসেবে ম্যানচেস্টারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি নতুন শাখাও চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে লন্ডনকেন্দ্রিক প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

Burnham promises 'circuit breaker' moment for UK as he becomes PM | Labour | The Guardian

জনসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তায় বড় পরিকল্পনা

বার্নহ্যামের দীর্ঘদিনের অন্যতম অগ্রাধিকার সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থা। তিনি জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার আদলে একটি জাতীয় পরিচর্যা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ধারণার কথা বহুবার বলেছেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই পুরো পরিকল্পনা ঘোষণা না করে বিদ্যমান পর্যালোচনা দ্রুত শেষ করার দিকে তিনি এগোচ্ছেন বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

কল্যাণভাতা নিয়েও নতুন সরকারের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সুবিধাভোগীদের দায়ী না করে সরকারি ব্যয় কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন বার্নহ্যাম। কিছু ক্ষেত্রে ভাতা পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত শর্ত আরোপের সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি।

অর্থনীতি নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বার্নহ্যামের সামনে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি হতে পারে অর্থনীতি। যুক্তরাজ্যের ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও জনসেবায় অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন রয়েছে।

বার্নহ্যাম আয়কর, মূল্য সংযোজন কর ও জাতীয় বিমা নিয়ে আগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার কথা বলেছেন। তবে স্থানীয় করব্যবস্থায় পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও সামনে এসেছে। বিশেষ করে সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে বেশি কর নেওয়ার বিষয়টি বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পরিণত হতে পারে।

অভিবাসন নীতিতেও পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত

A very quick guide to new prime minister Andy Burnham and his policies

অভিবাসন ইস্যুতেও নতুন প্রধানমন্ত্রী আগের সরকারের নীতিগুলো নতুন করে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ পেতে অভিবাসীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আবার ভাবছেন বলে জানিয়েছেন।

বিশেষ করে পরিচর্যা খাতে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা যায় কি না, সেটিও বিবেচনায় রয়েছে।

ট্রাম্প-পুতিন প্রশ্নে সতর্ক বার্নহ্যাম

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বার্নহ্যামের অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে কম। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগের মতো প্রশ্নে তার উত্তরেও সতর্কতার ছাপ দেখা গেছে।

ট্রাম্পকে তিনি বিশ্বাস করেন কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি। পুতিন ফোন করলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন সরকারের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।

জনপ্রিয়তার পর এবার কঠিন বাস্তবতা

বার্নহ্যামের রাজনৈতিক যোগাযোগের ধরনও আগের সরকারের তুলনায় আলাদা। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা এবং ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বিষয় সামনে আনার মাধ্যমে তিনি জনগণের কাছে সহজে পৌঁছাতে চাইছেন। তার পোষা কুকুর থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পছন্দের নানা বিষয়ও জনসমক্ষে এসেছে।

Andy Burnham becomes new UK PM after meeting King Charles

তবে জনপ্রিয়তা দিয়ে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। প্রতিরক্ষা ব্যয়, সরকারি ঋণ, জনসেবা, অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মতো বিষয়ে তাকে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তার বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা রূপ পায়।

সামনে কঠিন পরীক্ষা

বার্নহ্যাম নিজেও জানেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সব জায়গায় করতালি মিলবে না। তিনি এমন একটি রাজনৈতিক সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন, যখন জনগণের মধ্যে সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে হতাশা রয়েছে।

তার লক্ষ্য শুধু জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত হওয়া নয়, বরং বাস্তব পরিবর্তন আনা। এখন সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা তাকে কতটা সাহায্য করে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় তিনি কতটা কার্যকর হন, সেটিই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম নতুন ব্রিটিশ সরকারের নেতৃত্বে এসেছেন পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে। কিন্তু অর্থনীতি থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাকে এখন প্রমাণ করতে হবে, জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বাস্তব শাসনক্ষমতার সমন্বয় তিনি কতটা করতে পারেন।

বার্নহ্যামের সামনে তাই করতালির চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে কাজের পরীক্ষা।