০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী, রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর শুরু নতুন অধ্যায়

ব্রিটেনে আবারও রাজনৈতিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এসেছে। লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তিনি সোমবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দেবেন। মাত্র এক দশকে তিনি হচ্ছেন ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। এই পরিবর্তনের মধ্যেই দেশের অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অভিবাসন সংকটসহ একাধিক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি।

নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন

অজনপ্রিয় হয়ে পড়া কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টি অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে নতুন নেতা হিসেবে বেছে নেয়। স্টারমার মাত্র দুই বছর আগে বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে লেবারকে দীর্ঘ ১৪ বছর পর ক্ষমতায় ফিরিয়েছিলেন। তবে ধারাবাহিক বিতর্ক, নীতিগত পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব ছাড়েন।

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় রাজনৈতিক মুখ হিসেবে পরিচিত। আঞ্চলিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আস্থা ফিরিয়ে আনতে চান।

কঠিন বাস্তবতার মুখে নতুন সরকার

নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মন্থর অর্থনীতি, সরকারি ঋণের উচ্চ ব্যয়, দ্রুত বাড়তে থাকা কল্যাণমূলক ব্যয় এবং অনিয়মিত অভিবাসন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানির দামের অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও সরকারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

বার্নহ্যামের দল জানিয়েছে, সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে উদ্যোগ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ হবে তার অগ্রাধিকার।

প্রথম দিনেই বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত

দায়িত্ব নেওয়ার আগেই বার্নহ্যাম একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। তিনি আগের সরকারের জাতীয় ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রকল্প বাতিল করেছেন। তার মতে, এই প্রকল্পে ব্যয় হওয়ার কথা থাকা অর্থ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং জরুরি জনসেবায় ব্যবহার করা হবে।

এছাড়া নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের দিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

তিন বছরের মধ্যেই দিতে হবে ফল

আগামী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ২০২৯ সালে। ফলে নতুন সরকারের হাতে সময় খুব বেশি নয়। বার্নহ্যাম নিজেই বলেছেন, লেবার পার্টির জন্য এটি সঠিক পথে ফেরার শেষ সুযোগ। তিনি দাবি করেছেন, দেশের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, আবাসন ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই হবে তার সরকারের মূল লক্ষ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী, রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর শুরু নতুন অধ্যায়

০৬:৫৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ব্রিটেনে আবারও রাজনৈতিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এসেছে। লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তিনি সোমবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ দেবেন। মাত্র এক দশকে তিনি হচ্ছেন ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। এই পরিবর্তনের মধ্যেই দেশের অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অভিবাসন সংকটসহ একাধিক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি।

নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন

অজনপ্রিয় হয়ে পড়া কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টি অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে নতুন নেতা হিসেবে বেছে নেয়। স্টারমার মাত্র দুই বছর আগে বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে লেবারকে দীর্ঘ ১৪ বছর পর ক্ষমতায় ফিরিয়েছিলেন। তবে ধারাবাহিক বিতর্ক, নীতিগত পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব ছাড়েন।

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় রাজনৈতিক মুখ হিসেবে পরিচিত। আঞ্চলিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আস্থা ফিরিয়ে আনতে চান।

কঠিন বাস্তবতার মুখে নতুন সরকার

নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মন্থর অর্থনীতি, সরকারি ঋণের উচ্চ ব্যয়, দ্রুত বাড়তে থাকা কল্যাণমূলক ব্যয় এবং অনিয়মিত অভিবাসন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানির দামের অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও সরকারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

বার্নহ্যামের দল জানিয়েছে, সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে উদ্যোগ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ হবে তার অগ্রাধিকার।

প্রথম দিনেই বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত

দায়িত্ব নেওয়ার আগেই বার্নহ্যাম একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। তিনি আগের সরকারের জাতীয় ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রকল্প বাতিল করেছেন। তার মতে, এই প্রকল্পে ব্যয় হওয়ার কথা থাকা অর্থ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং জরুরি জনসেবায় ব্যবহার করা হবে।

এছাড়া নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের দিকেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

তিন বছরের মধ্যেই দিতে হবে ফল

আগামী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ২০২৯ সালে। ফলে নতুন সরকারের হাতে সময় খুব বেশি নয়। বার্নহ্যাম নিজেই বলেছেন, লেবার পার্টির জন্য এটি সঠিক পথে ফেরার শেষ সুযোগ। তিনি দাবি করেছেন, দেশের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, আবাসন ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই হবে তার সরকারের মূল লক্ষ্য।