০৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

আফগানিস্তানে প্রত্যাবর্তন: বিস্ফোরণে দুই পা হারানো এক আলোকচিত্রী আবার ফিরে এলেন সেই গ্রামে

সেই দিনের স্মৃতি

নিউইয়র্ক টাইমসের আলোকচিত্রী জোয়াও সিলভা ২০১০ সালের ২৩ অক্টোবর আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের দেহ-ই কুচাই গ্রামে একটি ল্যান্ড মাইনে পা রাখেন। মুহূর্তেই বিস্ফোরণে তিনি দুই পা হারান। মার্কিন সেনাদের সঙ্গে মাইন অপসারণ অভিযানের ছবি তুলছিলেন তিনি। ধুলো আর ধোঁয়ার মেঘের ভেতর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তিনটি ছবি তুলতে পারলেও পরে আর ক্যামেরা ধরে রাখতে পারেননি।
সঙ্গে থাকা সহকর্মীরা তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান, মেডেভাক হেলিকপ্টারে তোলেন। ওয়াশিংটনের ওয়াল্টার রিড আর্মি মেডিকেল সেন্টারে প্রায় ১৯ মাস চিকিৎসার পর তিনি বেঁচে ফিরলেও যুদ্ধক্ষেত্রের আলোকচিত্রে আর ফেরা হয়নি।

গ্রামে প্রত্যাবর্তন

প্রায় ১৫ বছর পর, ২০২৫ সালের মে মাসে সিলভা আবার ফিরলেন সেই একই গ্রামে। এবার ভিন্ন এক পরিবেশ। যুদ্ধ শেষ, গ্রাম শান্ত। স্থানীয় প্রবীণ হাজি মুহাম্মদ জারিফ বললেন, “আগে আমরা শুধু বেঁচে থাকতাম, জীবন উপভোগ করতে পারতাম না। এখন নিরাপত্তা আছে, তাই বুঝতে পারছি আমরা সত্যিই জীবিত।”
তিনি সিলভাকে নিয়ে গেলেন সেই স্থানে, যেখানে তার পা উড়ে গিয়েছিল। কিন্তু পুরোনো ধ্বংসস্তূপ আর নেই। তার জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে লাল রঙে ভরা এক ডালিমের বাগান। ধ্বংসের মাটিতে নতুন জীবনের চিহ্ন দেখে সান্ত্বনা পেলেন সিলভা।

যুদ্ধের ছাপ ও নতুন বাস্তবতা

যুদ্ধের সময় মার্কিন সেনারা যে চৌকিটি দখল করেছিল, এখন সেটি তালেবানের নিয়ন্ত্রণে। আফগানিস্তানের ইসলামী আমিরাতের পতাকা উড়ছে সেখানে। ২০ বছরের যুদ্ধ শেষ হলেও স্মৃতি রয়ে গেছে বিস্ফোরণ-দেয়ালে, ভেঙে ফেলা সামরিক ঘাঁটির ভগ্নাংশে। তবে সেসব জায়গায় এখন গ্রামবাসী নতুন ঘরবাড়ি তুলছে।
গ্রামে এখন প্রাণের সঞ্চার। দুই শতাধিক পরিবারের শিশুদের হাসি ভরে রেখেছে স্কুল, তরুণরা ক্রিকেট খেলছে সেই মাঠে, যেখানে একসময় মার্কিন হেলিকপ্টার নামত। দোকান, মোটরসাইকেল মেরামতের গ্যারেজ আর কৃষিজীবী মানুষের ব্যস্ততা মিলিয়ে নতুন রূপ নিচ্ছে দেহ-ই কুচাই।

মানুষের গল্প

সিলভা পুরোনো পরিচিত কৃষক হাজি মুহাম্মদ জানের সঙ্গে আবার দেখা করলেন। জান তার ডালিম বাগান বড় করেছেন, তবে বললেন জীবনের কষ্ট রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য বন্ধ হওয়া, নিষেধাজ্ঞা আর আফিম চাষে নিষেধাজ্ঞার কারণে তরুণদের বেকারত্ব বাড়ছে, চুরি-ডাকাতির প্রবণতা বেড়েছে।
এক প্রতিবেশী কৃষক শের আহমদ সিলভার হাতে এক গুচ্ছ ফুল দিলেন। তিনি বললেন, “আগে আমরা তোমাদের জন্য আইইডি পুঁততাম। এখন ফুল দিচ্ছি।” এই প্রতীকী পরিবর্তনকে সিলভা দেখলেন শান্তির অঙ্গীকার হিসেবে।

এক দীর্ঘ যাত্রার সমাপ্তি

যে জায়গায় তিনি একসময় মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেখানেই আবার দাঁড়াতে পারলেন কৃত্রিম অঙ্গের সাহায্যে। যুদ্ধে ধ্বংসের স্মৃতি থেকে আজকের শান্ত গ্রামের বাস্তবতা তাকে উপলব্ধি করাল— তিনি ফিরে এসেছেন অনেক দূর, যদিও আফগানিস্তানের সামনে এখনও দীর্ঘ পথ বাকি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

আফগানিস্তানে প্রত্যাবর্তন: বিস্ফোরণে দুই পা হারানো এক আলোকচিত্রী আবার ফিরে এলেন সেই গ্রামে

০৮:০২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

সেই দিনের স্মৃতি

নিউইয়র্ক টাইমসের আলোকচিত্রী জোয়াও সিলভা ২০১০ সালের ২৩ অক্টোবর আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের দেহ-ই কুচাই গ্রামে একটি ল্যান্ড মাইনে পা রাখেন। মুহূর্তেই বিস্ফোরণে তিনি দুই পা হারান। মার্কিন সেনাদের সঙ্গে মাইন অপসারণ অভিযানের ছবি তুলছিলেন তিনি। ধুলো আর ধোঁয়ার মেঘের ভেতর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তিনটি ছবি তুলতে পারলেও পরে আর ক্যামেরা ধরে রাখতে পারেননি।
সঙ্গে থাকা সহকর্মীরা তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান, মেডেভাক হেলিকপ্টারে তোলেন। ওয়াশিংটনের ওয়াল্টার রিড আর্মি মেডিকেল সেন্টারে প্রায় ১৯ মাস চিকিৎসার পর তিনি বেঁচে ফিরলেও যুদ্ধক্ষেত্রের আলোকচিত্রে আর ফেরা হয়নি।

গ্রামে প্রত্যাবর্তন

প্রায় ১৫ বছর পর, ২০২৫ সালের মে মাসে সিলভা আবার ফিরলেন সেই একই গ্রামে। এবার ভিন্ন এক পরিবেশ। যুদ্ধ শেষ, গ্রাম শান্ত। স্থানীয় প্রবীণ হাজি মুহাম্মদ জারিফ বললেন, “আগে আমরা শুধু বেঁচে থাকতাম, জীবন উপভোগ করতে পারতাম না। এখন নিরাপত্তা আছে, তাই বুঝতে পারছি আমরা সত্যিই জীবিত।”
তিনি সিলভাকে নিয়ে গেলেন সেই স্থানে, যেখানে তার পা উড়ে গিয়েছিল। কিন্তু পুরোনো ধ্বংসস্তূপ আর নেই। তার জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে লাল রঙে ভরা এক ডালিমের বাগান। ধ্বংসের মাটিতে নতুন জীবনের চিহ্ন দেখে সান্ত্বনা পেলেন সিলভা।

যুদ্ধের ছাপ ও নতুন বাস্তবতা

যুদ্ধের সময় মার্কিন সেনারা যে চৌকিটি দখল করেছিল, এখন সেটি তালেবানের নিয়ন্ত্রণে। আফগানিস্তানের ইসলামী আমিরাতের পতাকা উড়ছে সেখানে। ২০ বছরের যুদ্ধ শেষ হলেও স্মৃতি রয়ে গেছে বিস্ফোরণ-দেয়ালে, ভেঙে ফেলা সামরিক ঘাঁটির ভগ্নাংশে। তবে সেসব জায়গায় এখন গ্রামবাসী নতুন ঘরবাড়ি তুলছে।
গ্রামে এখন প্রাণের সঞ্চার। দুই শতাধিক পরিবারের শিশুদের হাসি ভরে রেখেছে স্কুল, তরুণরা ক্রিকেট খেলছে সেই মাঠে, যেখানে একসময় মার্কিন হেলিকপ্টার নামত। দোকান, মোটরসাইকেল মেরামতের গ্যারেজ আর কৃষিজীবী মানুষের ব্যস্ততা মিলিয়ে নতুন রূপ নিচ্ছে দেহ-ই কুচাই।

মানুষের গল্প

সিলভা পুরোনো পরিচিত কৃষক হাজি মুহাম্মদ জানের সঙ্গে আবার দেখা করলেন। জান তার ডালিম বাগান বড় করেছেন, তবে বললেন জীবনের কষ্ট রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য বন্ধ হওয়া, নিষেধাজ্ঞা আর আফিম চাষে নিষেধাজ্ঞার কারণে তরুণদের বেকারত্ব বাড়ছে, চুরি-ডাকাতির প্রবণতা বেড়েছে।
এক প্রতিবেশী কৃষক শের আহমদ সিলভার হাতে এক গুচ্ছ ফুল দিলেন। তিনি বললেন, “আগে আমরা তোমাদের জন্য আইইডি পুঁততাম। এখন ফুল দিচ্ছি।” এই প্রতীকী পরিবর্তনকে সিলভা দেখলেন শান্তির অঙ্গীকার হিসেবে।

এক দীর্ঘ যাত্রার সমাপ্তি

যে জায়গায় তিনি একসময় মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেখানেই আবার দাঁড়াতে পারলেন কৃত্রিম অঙ্গের সাহায্যে। যুদ্ধে ধ্বংসের স্মৃতি থেকে আজকের শান্ত গ্রামের বাস্তবতা তাকে উপলব্ধি করাল— তিনি ফিরে এসেছেন অনেক দূর, যদিও আফগানিস্তানের সামনে এখনও দীর্ঘ পথ বাকি।