১২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা যুদ্ধ থামছে না কেন? অপরাধ যখন ধর্মের পরিচয় পায় ঝলমলে শিল্পে আত্মভালোবাসার বার্তা দিচ্ছেন সারা শাকিল শতায়ু বাবা-মায়ের সন্তানদের আয়ু ও সুস্বাস্থ্যের সম্ভাবনা বেশি শিক্ষিত, দক্ষ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণদেরই ফাঁদে ফেলছে মানবপাচারকারীরা পাকিস্তান-রাশিয়া সম্পর্ক: অবহেলিত হলেও কেন বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ, সুযোগ নিয়ে থাকছে প্রশ্ন গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য, জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে হচ্ছে না

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মেরকোসুরের ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি, ২৫ বছরের আলোচনার অবসান

দীর্ঘ ২৫ বছরের টানা আলোচনা ও টানাপোড়েনের পর অবশেষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ আমেরিকার জোট মেরকোসুর একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছে। প্যারাগুয়ের আসুনসিওনে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তির পথ খুলে দিল।

চুক্তির মূল লক্ষ্য ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া
এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য দুই অঞ্চলের মধ্যে শুল্ক কমানো এবং পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো। তবে চুক্তিটি কার্যকর করতে হলে এখনো ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সম্মতি প্রয়োজন। পাশাপাশি মেরকোসুরভুক্ত আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ের জাতীয় সংসদে এটি অনুমোদিত হতে হবে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ও রাজনৈতিক বার্তা
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা উপস্থিত ছিলেন। মেরকোসুরভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরাও এতে যোগ দেন। তবে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা সরাসরি উপস্থিত না থেকে তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠান।
ভন ডার লেয়েন বলেন, এই চুক্তি বিশ্ববাসীর কাছে একটি শক্ত বার্তা দিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এটি শুল্কের বদলে ন্যায্য বাণিজ্য এবং বিচ্ছিন্নতার বদলে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের পথ বেছে নেওয়ার স্পষ্ট সিদ্ধান্ত।

দীর্ঘ ২৫ বছর পর ইইউ ও মেরকোসুরের ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি |  আন্তর্জাতিক | Citizens Voice

ইউরোপে উদ্বেগ ও বিরোধিতা
ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ গত সপ্তাহেই চুক্তির বিষয়ে সম্মতি জানালেও কৃষক ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, সস্তা দক্ষিণ আমেরিকান কৃষিপণ্যের আমদানি বেড়ে গেলে ইউরোপীয় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। একই সঙ্গে বন উজাড় ও পরিবেশগত ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চুক্তির গুরুত্ব
চুক্তি স্বাক্ষরের দিনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি না পেলে ইউরোপের কয়েকটি দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা বলেন, বর্তমান অস্থির বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই চুক্তি দুই অঞ্চলের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং নিজেদের মূল্যবোধ অক্ষুন্ন রাখার সুযোগ দেবে।

ইইউ ও দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদন – বাণিজ্য প্রতিদিন

মেরকোসুরের অবস্থান ও ব্রাজিলের প্রত্যাশা
মেরকোসুরের কিছু কর্মকর্তা চুক্তির নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম নিয়ে সংরক্ষণ প্রকাশ করলেও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা শুক্রবার রিও ডি জেনেইরোতে বলেন, এই চুক্তি উভয় পক্ষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াবে। ব্রাজিল সরকার জানিয়েছে, এটি বাজার সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে লুলার কৌশলের প্রতিফলন। এর পাশাপাশি দেশটি সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা ও ভিয়েতনামের সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে এবং ভারতের সঙ্গে শুল্ক সুবিধা চুক্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

বাণিজ্যের পরিসংখ্যান ও বাজারের আকার
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মেরকোসুর মিলিয়ে প্রায় ৭০ কোটি মানুষের একটি বাজার তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১১ বিলিয়ন ইউরো। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মূলত যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক পণ্য ও পরিবহন সরঞ্জাম রপ্তানি করে। অন্যদিকে মেরকোসুর দেশগুলোর রপ্তানিতে কৃষিপণ্য, খনিজ, কাঠের পাল্প ও কাগজের আধিক্য রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মেরকোসুরের ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি, ২৫ বছরের আলোচনার অবসান

০১:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ২৫ বছরের টানা আলোচনা ও টানাপোড়েনের পর অবশেষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ আমেরিকার জোট মেরকোসুর একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছে। প্যারাগুয়ের আসুনসিওনে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তির পথ খুলে দিল।

চুক্তির মূল লক্ষ্য ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া
এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য দুই অঞ্চলের মধ্যে শুল্ক কমানো এবং পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো। তবে চুক্তিটি কার্যকর করতে হলে এখনো ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সম্মতি প্রয়োজন। পাশাপাশি মেরকোসুরভুক্ত আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ের জাতীয় সংসদে এটি অনুমোদিত হতে হবে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ও রাজনৈতিক বার্তা
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা উপস্থিত ছিলেন। মেরকোসুরভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরাও এতে যোগ দেন। তবে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা সরাসরি উপস্থিত না থেকে তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠান।
ভন ডার লেয়েন বলেন, এই চুক্তি বিশ্ববাসীর কাছে একটি শক্ত বার্তা দিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এটি শুল্কের বদলে ন্যায্য বাণিজ্য এবং বিচ্ছিন্নতার বদলে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের পথ বেছে নেওয়ার স্পষ্ট সিদ্ধান্ত।

দীর্ঘ ২৫ বছর পর ইইউ ও মেরকোসুরের ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি |  আন্তর্জাতিক | Citizens Voice

ইউরোপে উদ্বেগ ও বিরোধিতা
ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ গত সপ্তাহেই চুক্তির বিষয়ে সম্মতি জানালেও কৃষক ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, সস্তা দক্ষিণ আমেরিকান কৃষিপণ্যের আমদানি বেড়ে গেলে ইউরোপীয় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। একই সঙ্গে বন উজাড় ও পরিবেশগত ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চুক্তির গুরুত্ব
চুক্তি স্বাক্ষরের দিনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি না পেলে ইউরোপের কয়েকটি দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা বলেন, বর্তমান অস্থির বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই চুক্তি দুই অঞ্চলের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং নিজেদের মূল্যবোধ অক্ষুন্ন রাখার সুযোগ দেবে।

ইইউ ও দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদন – বাণিজ্য প্রতিদিন

মেরকোসুরের অবস্থান ও ব্রাজিলের প্রত্যাশা
মেরকোসুরের কিছু কর্মকর্তা চুক্তির নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম নিয়ে সংরক্ষণ প্রকাশ করলেও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা শুক্রবার রিও ডি জেনেইরোতে বলেন, এই চুক্তি উভয় পক্ষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াবে। ব্রাজিল সরকার জানিয়েছে, এটি বাজার সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে লুলার কৌশলের প্রতিফলন। এর পাশাপাশি দেশটি সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা ও ভিয়েতনামের সঙ্গে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে এবং ভারতের সঙ্গে শুল্ক সুবিধা চুক্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

বাণিজ্যের পরিসংখ্যান ও বাজারের আকার
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মেরকোসুর মিলিয়ে প্রায় ৭০ কোটি মানুষের একটি বাজার তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১১ বিলিয়ন ইউরো। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মূলত যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক পণ্য ও পরিবহন সরঞ্জাম রপ্তানি করে। অন্যদিকে মেরকোসুর দেশগুলোর রপ্তানিতে কৃষিপণ্য, খনিজ, কাঠের পাল্প ও কাগজের আধিক্য রয়েছে।