০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

ইবোলা নিয়ন্ত্রণে দেরি হলে কঙ্গো-উগান্ডার অর্থনীতিতে বিলিয়ন ডলারের ধাক্কা

আফ্রিকার গ্রেট লেকস অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা পরিস্থিতি শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য নয়, অর্থনীতি ও উন্নয়নের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ বলছে, দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি) ও উগান্ডাকে প্রাণহানির পাশাপাশি বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত ৭১ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ডিআরসিতে নিশ্চিত ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৯ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৬০০। অন্যদিকে উগান্ডায় আক্রান্ত ২০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। প্রত্যন্ত অঞ্চলে তথ্য সংগ্রহের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রুয়ান্ডা ও বুরুন্ডিতে এখনো কোনো নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত না হলেও সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ডিআরসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকা সীমান্তগুলোতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

Ebola outbreak could cost Africa up to $3.6 billion, UN says | Reuters

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়ছে চাপ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা ছড়িয়ে পড়লে স্বাস্থ্যসেবার বড় অংশ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে অন্যান্য সংক্রামক রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে সামগ্রিকভাবে রোগ ও মৃত্যুর হার বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য উন্নয়নের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ডিআরসিতে ইবোলাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ৩৬০ এবং উগান্ডায় ৫২০ জনে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু কার্যকরভাবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৪৯০ ও ৩০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হতে পারে। ২০২৭ সালে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কাও রয়েছে।

অতিরিক্ত অর্থায়ন ছাড়া ঝুঁকি কমবে না

দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রোগ শনাক্তকরণ, পরীক্ষাগার সক্ষমতা, চিকিৎসা কেন্দ্র, জনসচেতনতা এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। এজন্য ২০২৬ সালে ডিআরসির স্বাস্থ্য ব্যয় অন্তত ১৮২ কোটি মার্কিন ডলার এবং উগান্ডার ১১৭ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করার প্রয়োজন হতে পারে।

বর্তমান ব্যয়ের তুলনায় ডিআরসিতে অতিরিক্ত ৫৪ কোটি এবং উগান্ডায় ১৭ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দের প্রয়োজন হবে। দুই দেশ মিলিয়ে অতিরিক্ত প্রয়োজনীয় অর্থ দাঁড়ায় ৭১ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া বড় আকারের মহামারি মোকাবিলার তুলনায় অনেক কম ব্যয়বহুল এবং এতে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।

Ebola Makes Deadly Comeback in Congo

অর্থনীতি ও বাণিজ্যেও বড় প্রভাব

ইবোলার প্রভাবে মানুষের চলাচল কমে যায়, সীমান্তে বিধিনিষেধ আরোপ হয় এবং পরিবহন ও বাণিজ্য ব্যাহত হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষি, সেবা ও সীমান্তভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে।

অনেক ব্যবসা আনুষ্ঠানিক খাত ছেড়ে অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থায় চলে যাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায়ও কমে যায়। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে এই পরিস্থিতির কারণে ডিআরসি প্রায় ৭ কোটি মার্কিন ডলার এবং উগান্ডা প্রায় ৬ কোটি মার্কিন ডলার রাজস্ব হারাতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির ওপর জোর

বিশেষজ্ঞদের মতে, জরুরি অর্থায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। রোগ নজরদারি, আধুনিক পরীক্ষাগার, দক্ষ কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী এবং সীমান্তজুড়ে সমন্বিত প্রস্তুতি ভবিষ্যতের মহামারি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তাদের মতে, মহামারি মোকাবিলাকে শুধু স্বাস্থ্যগত বিষয় হিসেবে নয়, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে। দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপই প্রাণহানি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

ইবোলা নিয়ন্ত্রণে দেরি হলে কঙ্গো-উগান্ডার অর্থনীতিতে বিলিয়ন ডলারের ধাক্কা

১০:৩৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

আফ্রিকার গ্রেট লেকস অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা পরিস্থিতি শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য নয়, অর্থনীতি ও উন্নয়নের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ বলছে, দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি) ও উগান্ডাকে প্রাণহানির পাশাপাশি বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত ৭১ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ডিআরসিতে নিশ্চিত ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৯ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৬০০। অন্যদিকে উগান্ডায় আক্রান্ত ২০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। প্রত্যন্ত অঞ্চলে তথ্য সংগ্রহের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রুয়ান্ডা ও বুরুন্ডিতে এখনো কোনো নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত না হলেও সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ডিআরসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকা সীমান্তগুলোতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

Ebola outbreak could cost Africa up to $3.6 billion, UN says | Reuters

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়ছে চাপ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা ছড়িয়ে পড়লে স্বাস্থ্যসেবার বড় অংশ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে অন্যান্য সংক্রামক রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে সামগ্রিকভাবে রোগ ও মৃত্যুর হার বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য উন্নয়নের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ডিআরসিতে ইবোলাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ৩৬০ এবং উগান্ডায় ৫২০ জনে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু কার্যকরভাবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৪৯০ ও ৩০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হতে পারে। ২০২৭ সালে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কাও রয়েছে।

অতিরিক্ত অর্থায়ন ছাড়া ঝুঁকি কমবে না

দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রোগ শনাক্তকরণ, পরীক্ষাগার সক্ষমতা, চিকিৎসা কেন্দ্র, জনসচেতনতা এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। এজন্য ২০২৬ সালে ডিআরসির স্বাস্থ্য ব্যয় অন্তত ১৮২ কোটি মার্কিন ডলার এবং উগান্ডার ১১৭ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করার প্রয়োজন হতে পারে।

বর্তমান ব্যয়ের তুলনায় ডিআরসিতে অতিরিক্ত ৫৪ কোটি এবং উগান্ডায় ১৭ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দের প্রয়োজন হবে। দুই দেশ মিলিয়ে অতিরিক্ত প্রয়োজনীয় অর্থ দাঁড়ায় ৭১ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া বড় আকারের মহামারি মোকাবিলার তুলনায় অনেক কম ব্যয়বহুল এবং এতে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।

Ebola Makes Deadly Comeback in Congo

অর্থনীতি ও বাণিজ্যেও বড় প্রভাব

ইবোলার প্রভাবে মানুষের চলাচল কমে যায়, সীমান্তে বিধিনিষেধ আরোপ হয় এবং পরিবহন ও বাণিজ্য ব্যাহত হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষি, সেবা ও সীমান্তভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে।

অনেক ব্যবসা আনুষ্ঠানিক খাত ছেড়ে অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থায় চলে যাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায়ও কমে যায়। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে এই পরিস্থিতির কারণে ডিআরসি প্রায় ৭ কোটি মার্কিন ডলার এবং উগান্ডা প্রায় ৬ কোটি মার্কিন ডলার রাজস্ব হারাতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির ওপর জোর

বিশেষজ্ঞদের মতে, জরুরি অর্থায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। রোগ নজরদারি, আধুনিক পরীক্ষাগার, দক্ষ কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী এবং সীমান্তজুড়ে সমন্বিত প্রস্তুতি ভবিষ্যতের মহামারি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তাদের মতে, মহামারি মোকাবিলাকে শুধু স্বাস্থ্যগত বিষয় হিসেবে নয়, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে। দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপই প্রাণহানি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে।