০১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হস্তক্ষেপে ঘুরে দাঁড়াল ইয়েন, আরও পদক্ষেপের ইঙ্গিত সিন্ধু পানি চুক্তি: ছয় দশক পর বদলে যাওয়া বাস্তবতায় নতুন হিসাবের সময় ভাঁজযোগ্য আইফোনের উৎপাদন দিনে মাত্র কয়েকশ, বাজারে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা ট্রাম্পের নতুন দাবি: ইউক্রেনকে দেওয়া শত শত বিলিয়ন ডলার ইউরোপের কাছ থেকে ফেরত চান রাশিয়ার নাশকতায় ইউরোপে বাড়ছে সংঘাতের ঝুঁকি, চাপে ন্যাটো ছয় মাসের যুদ্ধে আরও আত্মবিশ্বাসী ইরান, বাড়তে পারে সংঘাত

ইরানের বিপর্যয়: গণআন্দোলন স্থায়ী রূপ নিচ্ছে, পতন নিকট

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান আজ যেন অর্ধচেতনা অবস্থায় লড়াকু এক মৃতদেহ; অস্ত্র হাতে ধরেই সাধারণ জনগণের ওপর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। গত কয়েক মাসে দামপতন সাধিত হয়েছে; মুদ্রা মূল্য কমে গেছে প্রচণ্ড, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সঙ্কট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা দেশ চালানোর অক্ষমতায় পড়েছে এবং জনগণের অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটছে। সরকার যতক্ষণ টিকে আছে, তা কেবল ক্ষণস্থায়ী; এর রাজনৈতিক স্থায়িত্ব প্রশ্নবিদ্ধ। সংঘাত স্থির না হলে এই সরকার অচিরেই পতিত হবে এবং পরিবর্তনের ঝোঁক আরও তীব্র হবে — এর সম্ভাবনা বাস্তবসম্মত।

দীর্ঘ অধিকার হরণ এবং প্রতিবাদের ইতিহাস

ইরানের জনগণ বহু বছর ধরেই এই ধর্মীয় শাসনা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ঘরে বাইরে প্রতিবাদ করে আসছে। শুরু হয়েছিল বলপ্রয়োগী হাজিব বোর্ষণের বিরুদ্ধে নারীদের পথে নেমে প্রতিরোধ গড়ে তোলা থেকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের আক্ষেপ বেড়ে ওঠে যখন জীবনযাত্রার ক্ষোভ, রাজনৈতিক স্বৈরাচার এবং মৌলিক স্বাধীনতার উপর সীমাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ মাত্রা নেয়। আনন্দ-উৎসব বন্ধ হয়, সমালোচনামূলক শব্দ নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাবেশ ভেঙে দেয়া হয় এবং সংস্কৃতি জীবন নির্বিঘ্নে বিরক্ত হয়ে পড়ে।

সামাজিক বিপর্যয় ও সাংস্কৃতিক সংকট

ইরানের শহরগুলো যেন এক বিশাল সমাধিস্তূপে পরিণত হয়েছে; শোক ও নীরবতা এখানকার প্রধান জীবনযাত্রার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাচীন পারস্যের ইতিহাসকে উপেক্ষা করে তা পাঠ্যক্রম থেকে বিলুপ্ত করার ফলে সামাজিক-ঐতিহাসিক সংযোগ ক্ষুন্ন হয়েছে। তবুও ইরানের শিল্পীরা সাহিত্য ও সিনেমায় অসামান্য সৃষ্টি করে চলেছেন এবং সৃষ্টিশীল শক্তি দেশটিকে সজীব রেখেছে। এই সৃজনশীলতা বিদেশি শক্তিগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়েছে, যারা ইরানকে দুর্বল করতে চেয়েছিল।

Death Toll Reaches 37 In Abadan Building Collapse As Iranians Continue  Protests

নতুন পর্যায়ের জনগণ-আন্দোলন

“মহসা আমিনী আন্দোলন” থেকে শুরু করে “নারী, জীবন, স্বাধীনতা” বিক্ষোভ ইরানের নতুন শিক্ষিত প্রজন্মের প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পরিস্থিতি এই দীর্ঘসময়ের সংগ্রামের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। অনির্বচনীয় অবস্থার কারণে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ দু’টোই রাস্তায় নেমেছে এবং প্রচলিত সরকারের বিরোধিতা আরও তীব্র রূপ নিচ্ছে। ইন্টারনেট ও ফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করে এবং নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে সরকার ভয় সৃষ্টি করতে চাইছে; তবুও প্রতিবাদে উদ্যম কমেনি। হাজার হাজার হতাহত ও আটক বিমান মাঝেও জনগণ নিরবে হামেশাই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ

রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়লে ইরান বা ভয়াবহ রাজনৈতিক সংস্কার কাটিয়ে আবারো নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনাকে ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক মোড় ঘুরানোর মতো মনে করছেন। ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া কঠিন, তবে মর্গগুলোতে ভিড়, শোকাহত পরিবারগুলোর ছবি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে এবং নতুন অধ্যায় লেখার আগ্রহী ইরানীরা নিরুপায়।

মুক্তি, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জনের এই সংগ্রাম আরও বিস্তৃত হবে — ইরানের ভবিষ্যৎ পথে এই সংগ্রামই নতুন আলোর পথ প্রশস্ত করবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

ইরানের বিপর্যয়: গণআন্দোলন স্থায়ী রূপ নিচ্ছে, পতন নিকট

০৭:১৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান আজ যেন অর্ধচেতনা অবস্থায় লড়াকু এক মৃতদেহ; অস্ত্র হাতে ধরেই সাধারণ জনগণের ওপর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। গত কয়েক মাসে দামপতন সাধিত হয়েছে; মুদ্রা মূল্য কমে গেছে প্রচণ্ড, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সঙ্কট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা দেশ চালানোর অক্ষমতায় পড়েছে এবং জনগণের অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটছে। সরকার যতক্ষণ টিকে আছে, তা কেবল ক্ষণস্থায়ী; এর রাজনৈতিক স্থায়িত্ব প্রশ্নবিদ্ধ। সংঘাত স্থির না হলে এই সরকার অচিরেই পতিত হবে এবং পরিবর্তনের ঝোঁক আরও তীব্র হবে — এর সম্ভাবনা বাস্তবসম্মত।

দীর্ঘ অধিকার হরণ এবং প্রতিবাদের ইতিহাস

ইরানের জনগণ বহু বছর ধরেই এই ধর্মীয় শাসনা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ঘরে বাইরে প্রতিবাদ করে আসছে। শুরু হয়েছিল বলপ্রয়োগী হাজিব বোর্ষণের বিরুদ্ধে নারীদের পথে নেমে প্রতিরোধ গড়ে তোলা থেকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের আক্ষেপ বেড়ে ওঠে যখন জীবনযাত্রার ক্ষোভ, রাজনৈতিক স্বৈরাচার এবং মৌলিক স্বাধীনতার উপর সীমাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ মাত্রা নেয়। আনন্দ-উৎসব বন্ধ হয়, সমালোচনামূলক শব্দ নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাবেশ ভেঙে দেয়া হয় এবং সংস্কৃতি জীবন নির্বিঘ্নে বিরক্ত হয়ে পড়ে।

সামাজিক বিপর্যয় ও সাংস্কৃতিক সংকট

ইরানের শহরগুলো যেন এক বিশাল সমাধিস্তূপে পরিণত হয়েছে; শোক ও নীরবতা এখানকার প্রধান জীবনযাত্রার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাচীন পারস্যের ইতিহাসকে উপেক্ষা করে তা পাঠ্যক্রম থেকে বিলুপ্ত করার ফলে সামাজিক-ঐতিহাসিক সংযোগ ক্ষুন্ন হয়েছে। তবুও ইরানের শিল্পীরা সাহিত্য ও সিনেমায় অসামান্য সৃষ্টি করে চলেছেন এবং সৃষ্টিশীল শক্তি দেশটিকে সজীব রেখেছে। এই সৃজনশীলতা বিদেশি শক্তিগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়েছে, যারা ইরানকে দুর্বল করতে চেয়েছিল।

Death Toll Reaches 37 In Abadan Building Collapse As Iranians Continue  Protests

নতুন পর্যায়ের জনগণ-আন্দোলন

“মহসা আমিনী আন্দোলন” থেকে শুরু করে “নারী, জীবন, স্বাধীনতা” বিক্ষোভ ইরানের নতুন শিক্ষিত প্রজন্মের প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পরিস্থিতি এই দীর্ঘসময়ের সংগ্রামের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। অনির্বচনীয় অবস্থার কারণে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ দু’টোই রাস্তায় নেমেছে এবং প্রচলিত সরকারের বিরোধিতা আরও তীব্র রূপ নিচ্ছে। ইন্টারনেট ও ফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করে এবং নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে সরকার ভয় সৃষ্টি করতে চাইছে; তবুও প্রতিবাদে উদ্যম কমেনি। হাজার হাজার হতাহত ও আটক বিমান মাঝেও জনগণ নিরবে হামেশাই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ

রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়লে ইরান বা ভয়াবহ রাজনৈতিক সংস্কার কাটিয়ে আবারো নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনাকে ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক মোড় ঘুরানোর মতো মনে করছেন। ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া কঠিন, তবে মর্গগুলোতে ভিড়, শোকাহত পরিবারগুলোর ছবি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে এবং নতুন অধ্যায় লেখার আগ্রহী ইরানীরা নিরুপায়।

মুক্তি, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জনের এই সংগ্রাম আরও বিস্তৃত হবে — ইরানের ভবিষ্যৎ পথে এই সংগ্রামই নতুন আলোর পথ প্রশস্ত করবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।