০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

ইরানে সহিংসতার ছায়া: জনতার আন্দোলন ও প্রশাসনের কঠোর জবাব

ইরানের রাস্তাঘাটের ছবি এক বারও যে শান্ত নয়, তা ২০২৬ সালের প্রথম দিকে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে দেশের ইতিহাসে বহুবার জন আন্দোলন হয়েছে, কিন্তু জানুয়ারির এই আন্দোলন তার মাত্রা ও তীব্রতার কারণে আলাদা। জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার, রাজনৈতিক স্বচ্ছতা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল। লাখ লাখ মানুষ শহরগুলোতে ভিড় করেছে, যেখানে তারা সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করছিল।

অধিকার রক্ষায় সোচ্চার মানুষদের এই দাবি প্রশাসনের চোখে বিপদসঙ্কেত। জানুয়ারির ৮ তারিখে ইরানি কর্তৃপক্ষ পুরো দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেয়। এরপর যা ঘটে তা ইতিহাসে বিরল, এক তীব্র হত্যাযজ্ঞে রূপ নেয়। বিশেষত তেহরানের রাস্তাগুলোতে হাজার হাজার মানুষ গুলিবর্ষণের শিকার হয়। মৃতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি, তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অনুমান অনুযায়ী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশব্যাপী ৩০,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া কেবল সহিংস নয়, বরং মানুষের মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী ট্রাক-মাউন্টেড মেশিনগানসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে, সাধারণ মানুষকে বাড়িতে সীমাবদ্ধ করতে চায়। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ফলে তথ্য প্রবাহও বন্ধ থাকে, ফলে নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা সঠিকভাবে জানা যায় না। এই পরিস্থিতিতে জনগণ অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকটের চাপও দেশের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি মানুষের অসন্তোষকে বাড়িয়ে তুলেছে। এই ক্ষোভ রাস্তায় এসেছে এবং সরকারের কঠোর প্রতিক্রিয়া মানুষকে আরও ক্ষুব্ধ করেছে। একদিকে জনসাধারণ জীবন-অধিকার ও মৌলিক অধিকার আদায়ে লড়ছে, অন্যদিকে প্রশাসন নিপীড়ন চালাচ্ছে।

জনপ্রিয় ও অভিজ্ঞ ইরানি লেখকরা মনে করছেন, এই আন্দোলন ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পুর্শন ও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য বোঝাতে এই আন্দোলন এক মাইলফলক। তারা বলছেন, “এই ঘটনা শেষ অধ্যায় হতে পারে না, তবে এটি অবশ্যই শেষ মরশুম।” ইরানের ভবিষ্যৎ কেবল রাজনৈতিক নেতাদের হাতে নয়, সাধারণ মানুষের ইচ্ছাশক্তি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

ইরানে সহিংসতার ছায়া: জনতার আন্দোলন ও প্রশাসনের কঠোর জবাব

১০:০০:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরানের রাস্তাঘাটের ছবি এক বারও যে শান্ত নয়, তা ২০২৬ সালের প্রথম দিকে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে দেশের ইতিহাসে বহুবার জন আন্দোলন হয়েছে, কিন্তু জানুয়ারির এই আন্দোলন তার মাত্রা ও তীব্রতার কারণে আলাদা। জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার, রাজনৈতিক স্বচ্ছতা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল। লাখ লাখ মানুষ শহরগুলোতে ভিড় করেছে, যেখানে তারা সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করছিল।

অধিকার রক্ষায় সোচ্চার মানুষদের এই দাবি প্রশাসনের চোখে বিপদসঙ্কেত। জানুয়ারির ৮ তারিখে ইরানি কর্তৃপক্ষ পুরো দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেয়। এরপর যা ঘটে তা ইতিহাসে বিরল, এক তীব্র হত্যাযজ্ঞে রূপ নেয়। বিশেষত তেহরানের রাস্তাগুলোতে হাজার হাজার মানুষ গুলিবর্ষণের শিকার হয়। মৃতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি, তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অনুমান অনুযায়ী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশব্যাপী ৩০,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া কেবল সহিংস নয়, বরং মানুষের মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী ট্রাক-মাউন্টেড মেশিনগানসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে, সাধারণ মানুষকে বাড়িতে সীমাবদ্ধ করতে চায়। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ফলে তথ্য প্রবাহও বন্ধ থাকে, ফলে নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা সঠিকভাবে জানা যায় না। এই পরিস্থিতিতে জনগণ অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকটের চাপও দেশের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি মানুষের অসন্তোষকে বাড়িয়ে তুলেছে। এই ক্ষোভ রাস্তায় এসেছে এবং সরকারের কঠোর প্রতিক্রিয়া মানুষকে আরও ক্ষুব্ধ করেছে। একদিকে জনসাধারণ জীবন-অধিকার ও মৌলিক অধিকার আদায়ে লড়ছে, অন্যদিকে প্রশাসন নিপীড়ন চালাচ্ছে।

জনপ্রিয় ও অভিজ্ঞ ইরানি লেখকরা মনে করছেন, এই আন্দোলন ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পুর্শন ও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য বোঝাতে এই আন্দোলন এক মাইলফলক। তারা বলছেন, “এই ঘটনা শেষ অধ্যায় হতে পারে না, তবে এটি অবশ্যই শেষ মরশুম।” ইরানের ভবিষ্যৎ কেবল রাজনৈতিক নেতাদের হাতে নয়, সাধারণ মানুষের ইচ্ছাশক্তি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে।