০১:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হস্তক্ষেপে ঘুরে দাঁড়াল ইয়েন, আরও পদক্ষেপের ইঙ্গিত সিন্ধু পানি চুক্তি: ছয় দশক পর বদলে যাওয়া বাস্তবতায় নতুন হিসাবের সময় ভাঁজযোগ্য আইফোনের উৎপাদন দিনে মাত্র কয়েকশ, বাজারে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা ট্রাম্পের নতুন দাবি: ইউক্রেনকে দেওয়া শত শত বিলিয়ন ডলার ইউরোপের কাছ থেকে ফেরত চান রাশিয়ার নাশকতায় ইউরোপে বাড়ছে সংঘাতের ঝুঁকি, চাপে ন্যাটো ছয় মাসের যুদ্ধে আরও আত্মবিশ্বাসী ইরান, বাড়তে পারে সংঘাত পেন্টাগনে ফাঁস ঠেকাতে ৫০ কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা, ইরান যুদ্ধের তথ্য ঘিরে নজিরবিহীন তদন্ত যে ‘ইয়েনটাউন’ একদিন ছিল ভবিষ্যৎ, ৩০ বছর পর ৪কে-তে ফিরছে ‘Swallowtail Butterfly’

ইশকুল (পর্ব-০৩)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অক্টোবর ২০২৪
  • 163
আর্কাদি গাইদার

প্রথম পরিচ্ছেদ

ঘণ্টাঘরের মিনারের মাথায় উঠতে ভারি ভালো লাগত আমার। একমাত্র ইস্টারের সময়ই বাচ্চাদের ঘণ্টাঘরে উঠতে দেয়া হত। ওপরে যেতে অন্ধকার সরু সরু, সি’ড়ি বেয়ে উঠতে হত অনেকটা। দেয়ালে পাথরের কুলুঙ্গির ভিতর থেকে শোনা যেত পায়রার মিষ্টি-মিষ্টি বকবকম। সি’ড়িতে এত অসংখ্য বাঁক থাকত যে উঠতে গিয়ে মাথা ঘুরত। ঘণ্টাঘরের ওপর থেকে দেখতে পাওয়া যেত পুরো শহর: পাহাড়ের নিচে দিয়ে বয়ে-যাওয়া তেশা নদী, পুরনো ময়দা-কল, ছাগুলে দ্বীপ, ঝোপঝাড়, তার আরও ওধারে খাদের খোয়াই আর শহর-ঘেরা নীল বনরেখা।
আমার বাবা ছিলেন দ্বাদশ সাইবেরিয়ান রাইফেল রেজিমেন্টের সৈনিক। ওই রেজিমেন্ট ছিল তখন জার্মান ফ্রন্টের রিগা আঞ্চলিক অংশে।
ব্যবহারিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ি তখন। আমার মা ছিলেন হাসপাতালে ডাক্তারের সহকারী। সবসময়ে ব্যস্ত থাকতেন তিনি। আমি বেড়ে উঠেছিলুম নিজের মতো করে একরকম। প্রতি সপ্তায় ক্লাসের রিপোর্ট-কার্ড সই করাতে মা-র কাছে নিয়ে যেতুম। বিভিন্ন বিষয়ের নম্বরের ওপর চোখ বুলোতে বুলোতে ড্রইং কিংবা হাতের লেখায় খারাপ নম্বর দেখলে মাথা নাড়তেন মা,বলতেন:
‘এ কী!’
আমার কী দোষ, মা? আঁকতে না পারলে আমি কী করব? মাস্টারমশাইকে আমি ঘোড়া এ’কে দেখালুম, তা তিনি বললেন, এটা ঘোড়া নয় শুয়োর। পরের বার ওই আঁকাটাই তাঁকে দেখিয়ে বললুম, শুয়োর এ’কেছি, মাস্টারমশাই। কিন্তু তিনি চটে উঠে বললেন, এটা শুয়োরও নয়, ঘোড়াও নয়, এটা যে কী তা শয়তানই জানে। আমার দ্বারা শিল্পী হওয়া হবে না, মা।’
‘আচ্ছা, আচ্ছা, ঠিক আছে। কিন্তু হাতের লেখায় আবার গণ্ডগোল কেন? দেখি তো তোমার এক্সারসাইজ-খাতা। হায় হায়, এ কী বিতিকিচ্ছি ব্যাপার! প্রত্যেক লাইনে, কালি ধ্যাবড়ানো, আবার পাতার ফাঁকে একটা থ্যাঁতলানো গুবরে-পোকা। উহ, কী জঘন্য!’
জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর

ইশকুল (পর্ব-০৩)

০৮:০৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অক্টোবর ২০২৪
আর্কাদি গাইদার

প্রথম পরিচ্ছেদ

ঘণ্টাঘরের মিনারের মাথায় উঠতে ভারি ভালো লাগত আমার। একমাত্র ইস্টারের সময়ই বাচ্চাদের ঘণ্টাঘরে উঠতে দেয়া হত। ওপরে যেতে অন্ধকার সরু সরু, সি’ড়ি বেয়ে উঠতে হত অনেকটা। দেয়ালে পাথরের কুলুঙ্গির ভিতর থেকে শোনা যেত পায়রার মিষ্টি-মিষ্টি বকবকম। সি’ড়িতে এত অসংখ্য বাঁক থাকত যে উঠতে গিয়ে মাথা ঘুরত। ঘণ্টাঘরের ওপর থেকে দেখতে পাওয়া যেত পুরো শহর: পাহাড়ের নিচে দিয়ে বয়ে-যাওয়া তেশা নদী, পুরনো ময়দা-কল, ছাগুলে দ্বীপ, ঝোপঝাড়, তার আরও ওধারে খাদের খোয়াই আর শহর-ঘেরা নীল বনরেখা।
আমার বাবা ছিলেন দ্বাদশ সাইবেরিয়ান রাইফেল রেজিমেন্টের সৈনিক। ওই রেজিমেন্ট ছিল তখন জার্মান ফ্রন্টের রিগা আঞ্চলিক অংশে।
ব্যবহারিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ি তখন। আমার মা ছিলেন হাসপাতালে ডাক্তারের সহকারী। সবসময়ে ব্যস্ত থাকতেন তিনি। আমি বেড়ে উঠেছিলুম নিজের মতো করে একরকম। প্রতি সপ্তায় ক্লাসের রিপোর্ট-কার্ড সই করাতে মা-র কাছে নিয়ে যেতুম। বিভিন্ন বিষয়ের নম্বরের ওপর চোখ বুলোতে বুলোতে ড্রইং কিংবা হাতের লেখায় খারাপ নম্বর দেখলে মাথা নাড়তেন মা,বলতেন:
‘এ কী!’
আমার কী দোষ, মা? আঁকতে না পারলে আমি কী করব? মাস্টারমশাইকে আমি ঘোড়া এ’কে দেখালুম, তা তিনি বললেন, এটা ঘোড়া নয় শুয়োর। পরের বার ওই আঁকাটাই তাঁকে দেখিয়ে বললুম, শুয়োর এ’কেছি, মাস্টারমশাই। কিন্তু তিনি চটে উঠে বললেন, এটা শুয়োরও নয়, ঘোড়াও নয়, এটা যে কী তা শয়তানই জানে। আমার দ্বারা শিল্পী হওয়া হবে না, মা।’
‘আচ্ছা, আচ্ছা, ঠিক আছে। কিন্তু হাতের লেখায় আবার গণ্ডগোল কেন? দেখি তো তোমার এক্সারসাইজ-খাতা। হায় হায়, এ কী বিতিকিচ্ছি ব্যাপার! প্রত্যেক লাইনে, কালি ধ্যাবড়ানো, আবার পাতার ফাঁকে একটা থ্যাঁতলানো গুবরে-পোকা। উহ, কী জঘন্য!’