০১:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হস্তক্ষেপে ঘুরে দাঁড়াল ইয়েন, আরও পদক্ষেপের ইঙ্গিত সিন্ধু পানি চুক্তি: ছয় দশক পর বদলে যাওয়া বাস্তবতায় নতুন হিসাবের সময় ভাঁজযোগ্য আইফোনের উৎপাদন দিনে মাত্র কয়েকশ, বাজারে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা ট্রাম্পের নতুন দাবি: ইউক্রেনকে দেওয়া শত শত বিলিয়ন ডলার ইউরোপের কাছ থেকে ফেরত চান রাশিয়ার নাশকতায় ইউরোপে বাড়ছে সংঘাতের ঝুঁকি, চাপে ন্যাটো ছয় মাসের যুদ্ধে আরও আত্মবিশ্বাসী ইরান, বাড়তে পারে সংঘাত পেন্টাগনে ফাঁস ঠেকাতে ৫০ কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা, ইরান যুদ্ধের তথ্য ঘিরে নজিরবিহীন তদন্ত যে ‘ইয়েনটাউন’ একদিন ছিল ভবিষ্যৎ, ৩০ বছর পর ৪কে-তে ফিরছে ‘Swallowtail Butterfly’

ইশকুল (পর্ব-৩৬)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৪
  • 117

আর্কাদি গাইদার

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

‘অন্তত এখনও পর্যন্ত কিছু হয় নি,’ সৈনিকটি বললেন। ‘উনি আপনাদের শুভকামনা জানিয়েছেন আর আমাকে এই প্যাকেটটা আপনাকে দিতে বলেছেন।

এটা ডাকে পাঠাতে ভরসা পান নি। আজকাল তো ডাকের ওপর নির্ভর করা যায় मा।

মা খামখানা ছিড়লেন। নাঃ, খামের মধ্যে একখানাও ফোটোগ্রাফ নেই, খালি তেলকালিমাখা আর ঘন-করে-লেখ্য এক বান্ডিল কাগজ। তার মধ্যে একখানা কাগজে আবার এক টুকরো মাটি মাখানো আর সাঁটা ঘাসের শুকনো সবুজ এক চিলতে ডগাও।

আমার প্যাকেটটাও খুলে ফেললুম। দেখি, তার মধ্যে রয়েছে একটা ছোট্ট মাওজার পিস্তল। সঙ্গে বাড়তি একটা ক্লিপ। ‘তোমার বাবা ভেবেছেন কী! এটা কি একটা খেলনা হল!’ মা অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন।

‘তা হোক,’ সৈনিকটি বললেন। ‘আপনার ছেলে বোকাহাবা কি খেপা নয় তো? দেখুন না, কেমন আমার মাথায়-মাথায় হয়ে উঠেছে। এটা এখন ও কিছুদিন লুকিয়ে রাখুক। খুব ভালো পিস্তল, বুঝলেন না? আলেক্সেই এক জার্মান ট্রেন্ডে এটা পেয়েছিল। যন্তরটা চমৎকার। পরে কাজে লাগতে পারে।’ ঠান্ডা, মসৃণ হাতলটায় একবার হাত বুলিয়ে, মাওজারটা যত্ন করে আবার কাপড়ে মুড়ে দেরাজের একটা টানায় রেখে দিলুম।

সৈনিক আমাদের সঙ্গে চা খেলেন এরপর। গ্লাসের পর গ্লাস চা খেতে-খেতে বাবার বিষয়ে আর যুদ্ধ সম্বন্ধে কত কথাই না বললেন। আমি খেলুম আধ গ্লাস আর মা তাঁর কাপ ছালেন না পর্যন্ত। তারপর মা শিশি-বোতলের কাঁড়ি হাঁটকে কোথা থেকে ছোট্ট এক বোতল অ্যালকোহল বের করে সৈনিকটিকে খেতে দিলেন। চোখ কচেকে উনি জল মিশিয়ে পাতলা করে নিয়ে আস্তে-আন্তে গ্লাসের সবটুকু খেয়ে ফেললেন। একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে মাথা নাড়লেন তারপর।

গ্লাসটা একপাশে ঠেলে দিয়ে বললেন, ‘জীবনটা কেমন যেন নয়ছয় হয়ে গেছে। দেশ-গাঁ থেকে চিঠি পেয়েছি, খেত খামার উচ্ছন্নে গেছে। কিন্তু আমি তার কী করতে পারি? বলে আমরাই ফ্রন্টে মাসের পর মাস উপোস করে থেকেছি। মনে হত, জঘন্য নরকে পচে মরছি। ভাবতুম, কবে এ যন্তন্না শেষ হবে। যা হোক একটা কিছু এস্পার- ওস্পার হয়ে যাক। মানুষের পক্ষে যতদূর সহ্য করা সম্ভব লোকে তা করছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, কেটলিতে ঘোলাটে চায়ের জল যেমন ফোটে তেমনি ভেতরটায় সবকিছু যেন টগবগ করে ফুটছে। মনে হয়, ধৃত, সব কিছু ছুড়ে ফেলে দিয়ে গটগট করে চলে যাওয়ার সাহস যদি আমার থাকত।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর

ইশকুল (পর্ব-৩৬)

০৮:০০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৪

আর্কাদি গাইদার

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

‘অন্তত এখনও পর্যন্ত কিছু হয় নি,’ সৈনিকটি বললেন। ‘উনি আপনাদের শুভকামনা জানিয়েছেন আর আমাকে এই প্যাকেটটা আপনাকে দিতে বলেছেন।

এটা ডাকে পাঠাতে ভরসা পান নি। আজকাল তো ডাকের ওপর নির্ভর করা যায় मा।

মা খামখানা ছিড়লেন। নাঃ, খামের মধ্যে একখানাও ফোটোগ্রাফ নেই, খালি তেলকালিমাখা আর ঘন-করে-লেখ্য এক বান্ডিল কাগজ। তার মধ্যে একখানা কাগজে আবার এক টুকরো মাটি মাখানো আর সাঁটা ঘাসের শুকনো সবুজ এক চিলতে ডগাও।

আমার প্যাকেটটাও খুলে ফেললুম। দেখি, তার মধ্যে রয়েছে একটা ছোট্ট মাওজার পিস্তল। সঙ্গে বাড়তি একটা ক্লিপ। ‘তোমার বাবা ভেবেছেন কী! এটা কি একটা খেলনা হল!’ মা অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন।

‘তা হোক,’ সৈনিকটি বললেন। ‘আপনার ছেলে বোকাহাবা কি খেপা নয় তো? দেখুন না, কেমন আমার মাথায়-মাথায় হয়ে উঠেছে। এটা এখন ও কিছুদিন লুকিয়ে রাখুক। খুব ভালো পিস্তল, বুঝলেন না? আলেক্সেই এক জার্মান ট্রেন্ডে এটা পেয়েছিল। যন্তরটা চমৎকার। পরে কাজে লাগতে পারে।’ ঠান্ডা, মসৃণ হাতলটায় একবার হাত বুলিয়ে, মাওজারটা যত্ন করে আবার কাপড়ে মুড়ে দেরাজের একটা টানায় রেখে দিলুম।

সৈনিক আমাদের সঙ্গে চা খেলেন এরপর। গ্লাসের পর গ্লাস চা খেতে-খেতে বাবার বিষয়ে আর যুদ্ধ সম্বন্ধে কত কথাই না বললেন। আমি খেলুম আধ গ্লাস আর মা তাঁর কাপ ছালেন না পর্যন্ত। তারপর মা শিশি-বোতলের কাঁড়ি হাঁটকে কোথা থেকে ছোট্ট এক বোতল অ্যালকোহল বের করে সৈনিকটিকে খেতে দিলেন। চোখ কচেকে উনি জল মিশিয়ে পাতলা করে নিয়ে আস্তে-আন্তে গ্লাসের সবটুকু খেয়ে ফেললেন। একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে মাথা নাড়লেন তারপর।

গ্লাসটা একপাশে ঠেলে দিয়ে বললেন, ‘জীবনটা কেমন যেন নয়ছয় হয়ে গেছে। দেশ-গাঁ থেকে চিঠি পেয়েছি, খেত খামার উচ্ছন্নে গেছে। কিন্তু আমি তার কী করতে পারি? বলে আমরাই ফ্রন্টে মাসের পর মাস উপোস করে থেকেছি। মনে হত, জঘন্য নরকে পচে মরছি। ভাবতুম, কবে এ যন্তন্না শেষ হবে। যা হোক একটা কিছু এস্পার- ওস্পার হয়ে যাক। মানুষের পক্ষে যতদূর সহ্য করা সম্ভব লোকে তা করছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, কেটলিতে ঘোলাটে চায়ের জল যেমন ফোটে তেমনি ভেতরটায় সবকিছু যেন টগবগ করে ফুটছে। মনে হয়, ধৃত, সব কিছু ছুড়ে ফেলে দিয়ে গটগট করে চলে যাওয়ার সাহস যদি আমার থাকত।