০২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

ইসরায়েলি বসতি বাড়ছে, সংকুচিত হচ্ছে পশ্চিম তীরের পথঘাট

ভোরের আলোয় রামাল্লাহর আশপাশের পাহাড় গুলো যখন ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল, তখনই পথ বদলাতে বাধ্য হন কয়েকজন ফিলিস্তিনি পথচারী। শতাব্দী পুরোনো ঝরনার দিকে নামা মাটির পথে সামনে পড়ে যায় নতুন বসতি স্থাপনকারীদের তাবু। সংঘাত এড়াতে হাঁটা ছোট করে ঘুরে যেতে হয়। পশ্চিম তীরে এখন এই অভিজ্ঞতা আর ব্যতিক্রম নয়, বরং নিয়মিত বাস্তবতা।

সংকুচিত ভূমি, বদলে যাওয়া হাঁটার অভ্যাস
একসময় ফিলিস্তিনিরা গ্রাম থেকে গ্রামে দীর্ঘ পথ হেঁটে যেতেন। এখন নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সেই সরল পথ গুলো ভেঙে বৃত্তাকারে সীমিত হয়ে গেছে। অভিজ্ঞ পথচারী জামাল আরুরি বলেন, আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খোলা ভূমিতে হাঁটা যেত, এখন এক জায়গায় ঘুরপাক খেতে হয়। বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও ভয়ই এই পরিবর্তনের মূল কারণ।

নতুন বসতি, পুরোনো পথের মৃত্যু
পশ্চিম তীরের উপত্যকা জুড়ে নতুন নতুন বসতি গড়ে উঠছে। এসব বসতি প্রায়ই সরকারি অনুমোদন ছাড়াই তৈরি হলেও অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সহায়তা পায়। এর ফলে আশপাশের ভূমি কার্যত ফিলিস্তিনিদের জন্য নিষিদ্ধ এলাকায় পরিণত হচ্ছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই হাজার তেইশ সাল থেকে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জমির নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে বসতি স্থাপনকারীদের হাতে।

Israeli settlers attack more Palestinians as olive harvest violence surges

হেঁটে চলার আগে নতুন ধরনের প্রস্তুতি
এখন পশ্চিম তীরে হাঁটতে বেরোনোর আগে শুধু জুতা বা খাবার নয়, পথের নিরাপত্তাও যাচাই করতে হয়। নতুন রাস্তা, সামরিক টহল বা ড্রোনের উপস্থিতি আগেই দেখে নিতে হয়। অনেক সময় মাঝপথে নতুন কাঁচা রাস্তা বা বসতি পড়লে নীরবে ফিরে আসাই একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায়।

কমিউনিটির ক্ষয় ও টিকে থাকার লড়াই
এই বিস্তারের সবচেয়ে বড় আঘাত পড়েছে পশুপালক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ওপর। ভয় ও চাপের মুখে বহু পরিবার তাদের বসতি ছেড়ে চলে গেছে। পথচারীরাও দূরের পাহাড় বা উপত্যকা এড়িয়ে শহরের প্রান্তে সীমাবদ্ধ থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। তবু আরুরি ও তাঁর সঙ্গীরা হাঁটা চালিয়ে যেতে চান। তাঁদের কাছে প্রতিটি হাঁটা মানে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়া, ভূমির সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা।

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

ইসরায়েলি বসতি বাড়ছে, সংকুচিত হচ্ছে পশ্চিম তীরের পথঘাট

০১:০৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

ভোরের আলোয় রামাল্লাহর আশপাশের পাহাড় গুলো যখন ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল, তখনই পথ বদলাতে বাধ্য হন কয়েকজন ফিলিস্তিনি পথচারী। শতাব্দী পুরোনো ঝরনার দিকে নামা মাটির পথে সামনে পড়ে যায় নতুন বসতি স্থাপনকারীদের তাবু। সংঘাত এড়াতে হাঁটা ছোট করে ঘুরে যেতে হয়। পশ্চিম তীরে এখন এই অভিজ্ঞতা আর ব্যতিক্রম নয়, বরং নিয়মিত বাস্তবতা।

সংকুচিত ভূমি, বদলে যাওয়া হাঁটার অভ্যাস
একসময় ফিলিস্তিনিরা গ্রাম থেকে গ্রামে দীর্ঘ পথ হেঁটে যেতেন। এখন নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সেই সরল পথ গুলো ভেঙে বৃত্তাকারে সীমিত হয়ে গেছে। অভিজ্ঞ পথচারী জামাল আরুরি বলেন, আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খোলা ভূমিতে হাঁটা যেত, এখন এক জায়গায় ঘুরপাক খেতে হয়। বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও ভয়ই এই পরিবর্তনের মূল কারণ।

নতুন বসতি, পুরোনো পথের মৃত্যু
পশ্চিম তীরের উপত্যকা জুড়ে নতুন নতুন বসতি গড়ে উঠছে। এসব বসতি প্রায়ই সরকারি অনুমোদন ছাড়াই তৈরি হলেও অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সহায়তা পায়। এর ফলে আশপাশের ভূমি কার্যত ফিলিস্তিনিদের জন্য নিষিদ্ধ এলাকায় পরিণত হচ্ছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই হাজার তেইশ সাল থেকে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জমির নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে বসতি স্থাপনকারীদের হাতে।

Israeli settlers attack more Palestinians as olive harvest violence surges

হেঁটে চলার আগে নতুন ধরনের প্রস্তুতি
এখন পশ্চিম তীরে হাঁটতে বেরোনোর আগে শুধু জুতা বা খাবার নয়, পথের নিরাপত্তাও যাচাই করতে হয়। নতুন রাস্তা, সামরিক টহল বা ড্রোনের উপস্থিতি আগেই দেখে নিতে হয়। অনেক সময় মাঝপথে নতুন কাঁচা রাস্তা বা বসতি পড়লে নীরবে ফিরে আসাই একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায়।

কমিউনিটির ক্ষয় ও টিকে থাকার লড়াই
এই বিস্তারের সবচেয়ে বড় আঘাত পড়েছে পশুপালক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ওপর। ভয় ও চাপের মুখে বহু পরিবার তাদের বসতি ছেড়ে চলে গেছে। পথচারীরাও দূরের পাহাড় বা উপত্যকা এড়িয়ে শহরের প্রান্তে সীমাবদ্ধ থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। তবু আরুরি ও তাঁর সঙ্গীরা হাঁটা চালিয়ে যেতে চান। তাঁদের কাছে প্রতিটি হাঁটা মানে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়া, ভূমির সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা।