০১:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা যুদ্ধ থামছে না কেন? অপরাধ যখন ধর্মের পরিচয় পায় ঝলমলে শিল্পে আত্মভালোবাসার বার্তা দিচ্ছেন সারা শাকিল শতায়ু বাবা-মায়ের সন্তানদের আয়ু ও সুস্বাস্থ্যের সম্ভাবনা বেশি শিক্ষিত, দক্ষ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণদেরই ফাঁদে ফেলছে মানবপাচারকারীরা পাকিস্তান-রাশিয়া সম্পর্ক: অবহেলিত হলেও কেন বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ, সুযোগ নিয়ে থাকছে প্রশ্ন গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য, জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে হচ্ছে না

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ধসের মুখে, বাধ্যতামূলক নিয়োগ বিলম্বে বাড়ছে সংকট

ইসরায়েলের সামরিক কাঠামো এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান। জনবল সংকট চরমে পৌঁছেছে, আর সেই পরিস্থিতিতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

জনবল সংকটে ধসের আশঙ্কা

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান আইয়াল জামির মন্ত্রিসভাকে সরাসরি সতর্ক করে জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী ধসের দিকে এগোচ্ছে। তিনি একাধিক সতর্ক সংকেত তুলে ধরে বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা জনবল সংকট এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

IDF chief warns of 'collapse' as Israel delays ultra-Orthodox draft – media

বাধ্যতামূলক নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন

ইসরায়েলে সাধারণত নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক হলেও হারেদি সম্প্রদায়ের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে এর বাইরে ছিলেন। উচ্চ আদালত সেই ছাড় বাতিল করলেও এখনো পর্যন্ত সরকার তাদের বাধ্যতামূলক নিয়োগ কার্যকর করেনি। এই বিলম্বের পেছনে রাজনৈতিক চাপ বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জোট সরকারের ভেতরে থাকা হারেদি দলগুলো এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে এবং প্রয়োজনে সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকিও দিয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চাপ বাড়ছে

ইসরায়েল একাধিক ফ্রন্টে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক অভিযান—সব মিলিয়ে সেনাবাহিনীর ওপর চাপ বহুগুণে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন সেনা নিয়োগ না হওয়ায় পুরনো রিজার্ভ সদস্যদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যাদের অনেকেই ২০২৩ সাল থেকে টানা দায়িত্ব পালন করছেন।

চরম সেনা-সংকট, যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে ইসরায়েলি বাহিনী: সেনাপ্রধান

বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা

সরকারের এই অবস্থান নিয়ে বিরোধী দলগুলো তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলছে, যথেষ্ট সংখ্যক সৈন্য না থাকলে কোনো যুদ্ধই কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বিরোধী নেতারা সতর্ক করে দিয়েছেন, এই সংকট অব্যাহত থাকলে দেশের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। একই সঙ্গে রিজার্ভ সেনাদের ক্লান্তি ও মানসিক চাপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকির সতর্কবার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার দিকেও ইঙ্গিত করছে। বাধ্যতামূলক নিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা এবং জনবল সংকট মিলিয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা কাঠামো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ধসের মুখে, বাধ্যতামূলক নিয়োগ বিলম্বে বাড়ছে সংকট

১২:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

ইসরায়েলের সামরিক কাঠামো এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান। জনবল সংকট চরমে পৌঁছেছে, আর সেই পরিস্থিতিতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

জনবল সংকটে ধসের আশঙ্কা

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান আইয়াল জামির মন্ত্রিসভাকে সরাসরি সতর্ক করে জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী ধসের দিকে এগোচ্ছে। তিনি একাধিক সতর্ক সংকেত তুলে ধরে বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা জনবল সংকট এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

IDF chief warns of 'collapse' as Israel delays ultra-Orthodox draft – media

বাধ্যতামূলক নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন

ইসরায়েলে সাধারণত নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক হলেও হারেদি সম্প্রদায়ের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে এর বাইরে ছিলেন। উচ্চ আদালত সেই ছাড় বাতিল করলেও এখনো পর্যন্ত সরকার তাদের বাধ্যতামূলক নিয়োগ কার্যকর করেনি। এই বিলম্বের পেছনে রাজনৈতিক চাপ বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জোট সরকারের ভেতরে থাকা হারেদি দলগুলো এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে এবং প্রয়োজনে সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকিও দিয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চাপ বাড়ছে

ইসরায়েল একাধিক ফ্রন্টে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক অভিযান—সব মিলিয়ে সেনাবাহিনীর ওপর চাপ বহুগুণে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন সেনা নিয়োগ না হওয়ায় পুরনো রিজার্ভ সদস্যদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যাদের অনেকেই ২০২৩ সাল থেকে টানা দায়িত্ব পালন করছেন।

চরম সেনা-সংকট, যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে ইসরায়েলি বাহিনী: সেনাপ্রধান

বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা

সরকারের এই অবস্থান নিয়ে বিরোধী দলগুলো তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলছে, যথেষ্ট সংখ্যক সৈন্য না থাকলে কোনো যুদ্ধই কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। বিরোধী নেতারা সতর্ক করে দিয়েছেন, এই সংকট অব্যাহত থাকলে দেশের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। একই সঙ্গে রিজার্ভ সেনাদের ক্লান্তি ও মানসিক চাপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকির সতর্কবার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার দিকেও ইঙ্গিত করছে। বাধ্যতামূলক নিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা এবং জনবল সংকট মিলিয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা কাঠামো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।