০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

ইহুদিবিরোধী মনোভাব ‘মহামারি’ হয়ে ছড়াচ্ছে, সামাল দিতে হিমশিম লন্ডন পুলিশ

লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিনে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদারে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ৩০০ পুলিশ সদস্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার স্যার মার্ক রাউলি। তিনি সমাজে ইহুদিবিরোধী মনোভাবকে “মহামারি” হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন, বর্তমান সম্পদ দিয়ে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাউলি জানান, হামলার পরপরই তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। সেখানে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ ও আগ্নেয়াস্ত্র ইউনিটের সমন্বয়ে একটি আলাদা দল গঠনের কথা বলা হয়েছে, যারা ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তাঁর ভাষায়, “আমরা এখন সমস্যার লক্ষণ মোকাবিলা করছি, কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।”

সম্পদের ঘাটতি ও বাহিনীর সংকোচন
গত তিন বছরে মেট পুলিশের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৩,৩০০ কমেছে। রাউলি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ না পেলে আগামী বছরেও একই হারে পুলিশ সদস্য কমে যেতে পারে। এতে করে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা আরও কঠিন হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা দিতে লন্ডনের বিভিন্ন এলাকা থেকে পুলিশ এনে কাজ চালাতে হচ্ছে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। তাই দ্রুত নতুন নিয়োগ ও অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন বলে তিনি জোর দেন।

সমাবেশ নিষিদ্ধের চিন্তা
আগামী ১৬ মে নির্ধারিত প্রো-প্যালেস্টাইন নাকবা দিবসের মিছিল এবং ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসনের সমাবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাউলি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ না থাকলে এসব কর্মসূচি নিষিদ্ধ করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করার কথাও ভাবছেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের আইনে, বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিছিল নিষিদ্ধ করতে পারেন। তবে স্থির অবস্থানের বিক্ষোভ পুরোপুরি বন্ধ করা যায় না, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সরকার ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে ইহুদিবিরোধী ঘটনার মাত্রা “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” এবং এটি মোকাবিলায় সরাসরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। একইসঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারও বজায় রাখতে হবে বলে তারা মনে করে।

অন্যদিকে বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করে বলেছে, পর্যাপ্ত অর্থায়ন না থাকায় পুলিশ বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে অপরাধ ও ইহুদিবিরোধী হামলা বাড়ছে এবং জননিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

সমাজে গভীর সংকটের ইঙ্গিত
রাউলি মনে করেন, কেবল আইন প্রয়োগ দিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। সমাজে ইহুদিবিরোধী মনোভাব যে হারে ছড়িয়ে পড়ছে, তা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এই সমস্যার শিকড় সমাজের ভেতরে, সেটি না বদলালে শুধু পুলিশ দিয়ে সবকিছু সামাল দেওয়া যাবে না।”

গোল্ডার্স গ্রিনের ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে দুই ইহুদি ব্যক্তিকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই পুরো যুক্তরাজ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

ইহুদিবিরোধী মনোভাব ‘মহামারি’ হয়ে ছড়াচ্ছে, সামাল দিতে হিমশিম লন্ডন পুলিশ

০৫:৩৯:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিনে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদারে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ৩০০ পুলিশ সদস্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার স্যার মার্ক রাউলি। তিনি সমাজে ইহুদিবিরোধী মনোভাবকে “মহামারি” হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন, বর্তমান সম্পদ দিয়ে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাউলি জানান, হামলার পরপরই তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। সেখানে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ ও আগ্নেয়াস্ত্র ইউনিটের সমন্বয়ে একটি আলাদা দল গঠনের কথা বলা হয়েছে, যারা ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তাঁর ভাষায়, “আমরা এখন সমস্যার লক্ষণ মোকাবিলা করছি, কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।”

সম্পদের ঘাটতি ও বাহিনীর সংকোচন
গত তিন বছরে মেট পুলিশের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৩,৩০০ কমেছে। রাউলি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ না পেলে আগামী বছরেও একই হারে পুলিশ সদস্য কমে যেতে পারে। এতে করে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা আরও কঠিন হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা দিতে লন্ডনের বিভিন্ন এলাকা থেকে পুলিশ এনে কাজ চালাতে হচ্ছে। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। তাই দ্রুত নতুন নিয়োগ ও অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন বলে তিনি জোর দেন।

সমাবেশ নিষিদ্ধের চিন্তা
আগামী ১৬ মে নির্ধারিত প্রো-প্যালেস্টাইন নাকবা দিবসের মিছিল এবং ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসনের সমাবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাউলি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ না থাকলে এসব কর্মসূচি নিষিদ্ধ করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করার কথাও ভাবছেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের আইনে, বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিছিল নিষিদ্ধ করতে পারেন। তবে স্থির অবস্থানের বিক্ষোভ পুরোপুরি বন্ধ করা যায় না, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সরকার ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে ইহুদিবিরোধী ঘটনার মাত্রা “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” এবং এটি মোকাবিলায় সরাসরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। একইসঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারও বজায় রাখতে হবে বলে তারা মনে করে।

অন্যদিকে বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করে বলেছে, পর্যাপ্ত অর্থায়ন না থাকায় পুলিশ বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ছে। এতে অপরাধ ও ইহুদিবিরোধী হামলা বাড়ছে এবং জননিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

সমাজে গভীর সংকটের ইঙ্গিত
রাউলি মনে করেন, কেবল আইন প্রয়োগ দিয়ে এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। সমাজে ইহুদিবিরোধী মনোভাব যে হারে ছড়িয়ে পড়ছে, তা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এই সমস্যার শিকড় সমাজের ভেতরে, সেটি না বদলালে শুধু পুলিশ দিয়ে সবকিছু সামাল দেওয়া যাবে না।”

গোল্ডার্স গ্রিনের ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে দুই ইহুদি ব্যক্তিকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই পুরো যুক্তরাজ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।