০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

কর্মস্থলে মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে সিঙ্গাপুর, দুই সপ্তাহের নিরাপত্তা বিরতির আহ্বান

মাত্র চার সপ্তাহে পাঁচটি পৃথক কর্মস্থল দুর্ঘটনায় সাত শ্রমিকের মৃত্যু সিঙ্গাপুরে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত কর্মস্থলে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি। এই পরিস্থিতিতে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা জোরদারে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।

কর্তৃপক্ষের মতে, অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

দুই সপ্তাহের নিরাপত্তা বিরতি

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৬ জুন থেকে সব কর্মস্থলে স্বেচ্ছামূলক দুই সপ্তাহের ‘নিরাপত্তা বিরতি’ পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের কাজের পদ্ধতি পর্যালোচনা, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং শ্রমিক ও তদারককারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষভাবে যানবাহন-সংশ্লিষ্ট কাজ, ব্যক্তিগত অসতর্কতা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

May be an image of one or more people and text that says "SAFETY TIME ου SAVEIY NL POUMG FOLI"

বাড়ছে জরিমানা ও শাস্তি

নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রথমবারের অপরাধের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। পুনরাবৃত্তি বা গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।

এছাড়া কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনার ন্যূনতম মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। গুরুতর দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নতুন অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব ব্যবস্থা আপাতত জুলাইয়ের শেষ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এগুলোর মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে।

নিরাপত্তার দায় সবার

সরকার বলছে, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব নিয়োগকর্তাদের। পর্যাপ্ত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নিরাপদ কর্মপদ্ধতি এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে প্রতিষ্ঠানগুলোকেই।

May be an image of text that says "CTICE ELECTRICAL SAFETY BAD BADPRACTICE PRACTICE 공과 SAFE SAFEOUSE SOUSE LETD C 2는"

একই সঙ্গে তদারককারী ও শ্রমিকদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। কোনো ঝুঁকি বা অনিরাপদ পরিস্থিতি চোখে পড়লে তা দ্রুত জানানো এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান

শ্রমবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত এক মন্ত্রী বলেছেন, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। ঝুঁকি বড় দুর্ঘটনায় রূপ নেওয়ার আগেই ব্যবস্থাপনা ও তদারককারীদের হস্তক্ষেপ করতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো সময়সীমা, ব্যবসায়িক লক্ষ্য বা চুক্তি মানুষের জীবনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না।

শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এই নিরাপত্তা বিরতি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিজেদের কার্যক্রম নতুনভাবে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা নির্ভয়ে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ তুলে ধরতে পারেন।

তাদের মতে, অনেক দুর্ঘটনাই শুরুতেই ঝুঁকির বিষয়টি চিহ্নিত করা গেলে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

No photo description available.

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

কর্মস্থলে মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে সিঙ্গাপুর, দুই সপ্তাহের নিরাপত্তা বিরতির আহ্বান

১০:৫৯:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

মাত্র চার সপ্তাহে পাঁচটি পৃথক কর্মস্থল দুর্ঘটনায় সাত শ্রমিকের মৃত্যু সিঙ্গাপুরে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত কর্মস্থলে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি। এই পরিস্থিতিতে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা জোরদারে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।

কর্তৃপক্ষের মতে, অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

দুই সপ্তাহের নিরাপত্তা বিরতি

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৬ জুন থেকে সব কর্মস্থলে স্বেচ্ছামূলক দুই সপ্তাহের ‘নিরাপত্তা বিরতি’ পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের কাজের পদ্ধতি পর্যালোচনা, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং শ্রমিক ও তদারককারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষভাবে যানবাহন-সংশ্লিষ্ট কাজ, ব্যক্তিগত অসতর্কতা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

May be an image of one or more people and text that says "SAFETY TIME ου SAVEIY NL POUMG FOLI"

বাড়ছে জরিমানা ও শাস্তি

নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রথমবারের অপরাধের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। পুনরাবৃত্তি বা গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।

এছাড়া কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনার ন্যূনতম মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। গুরুতর দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নতুন অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব ব্যবস্থা আপাতত জুলাইয়ের শেষ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এগুলোর মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে।

নিরাপত্তার দায় সবার

সরকার বলছে, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব নিয়োগকর্তাদের। পর্যাপ্ত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নিরাপদ কর্মপদ্ধতি এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে প্রতিষ্ঠানগুলোকেই।

May be an image of text that says "CTICE ELECTRICAL SAFETY BAD BADPRACTICE PRACTICE 공과 SAFE SAFEOUSE SOUSE LETD C 2는"

একই সঙ্গে তদারককারী ও শ্রমিকদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। কোনো ঝুঁকি বা অনিরাপদ পরিস্থিতি চোখে পড়লে তা দ্রুত জানানো এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান

শ্রমবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত এক মন্ত্রী বলেছেন, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। ঝুঁকি বড় দুর্ঘটনায় রূপ নেওয়ার আগেই ব্যবস্থাপনা ও তদারককারীদের হস্তক্ষেপ করতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো সময়সীমা, ব্যবসায়িক লক্ষ্য বা চুক্তি মানুষের জীবনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না।

শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এই নিরাপত্তা বিরতি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিজেদের কার্যক্রম নতুনভাবে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা নির্ভয়ে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ তুলে ধরতে পারেন।

তাদের মতে, অনেক দুর্ঘটনাই শুরুতেই ঝুঁকির বিষয়টি চিহ্নিত করা গেলে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

No photo description available.