০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

কানাডায় ‘বিগফুট’ রহস্যে নতুন বিতর্ক, বনজঙ্গলে কি সত্যিই ঘুরে বেড়ায় অজানা প্রাণী?

কানাডার অন্টারিও প্রদেশে সাম্প্রতিক কয়েকটি রহস্যময় প্রাণী দেখার দাবি আবারও আলোচনায় এনে দিয়েছে উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে আলোচিত লোককাহিনির চরিত্র ‘বিগফুট’ বা ‘স্যাসকোয়াচ’-কে। বিশাল আকৃতির, মানুষের মতো দেখতে এবং বানরের বৈশিষ্ট্যধারী এই প্রাণীর অস্তিত্ব নিয়ে বহু দশক ধরে বিতর্ক চললেও নতুন দাবিগুলো আবারও কৌতূহল জাগিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

সম্প্রতি কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, তারা বনাঞ্চলের কাছে অস্বাভাবিক বড় আকৃতির প্রাণী দেখেছেন। একজন জানান, বনভূমিতে হাঁটার সময় হঠাৎ চারপাশের পাখির ডাক থেমে যায় এবং পরিবেশ অস্বাভাবিক নীরব হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণ পর তিনি গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসা বিশাল এক ছায়ামূর্তি দেখতে পান। তার ভাষায়, দৃশ্যটি এতটাই অপ্রত্যাশিত ছিল যে মুহূর্তেই ভয় পেয়ে যান তিনি। পরে প্রাণীটি আবার বনের ভেতরে হারিয়ে যায়।

পরদিন আরেক ব্যক্তি দাবি করেন, সূর্যোদয়ের সময় তিনি দুটি অদ্ভুত প্রাণী দেখতে পান। তার মতে, একটি ছিল বড় এবং অন্যটি তুলনামূলক ছোট। তারা আবর্জনার স্তূপে খাবার খুঁজছিল। প্রাণীগুলোকে ভয় দেখাতে কাঠে আঘাত করলে বিপরীত দিক থেকেও একই ধরনের শব্দ ফিরে আসে, যা তাকে আতঙ্কিত করে তোলে।

নতুন দাবির বিশেষত্ব কোথায়

এসব ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো স্থান নির্বাচন। যে এলাকায় প্রাণী দেখার দাবি উঠেছে, সেটি ঘন বনভূমির জন্য পরিচিত নয়। বরং এটি কৃষিকাজনির্ভর অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ফলে সেখানে এমন প্রাণীর উপস্থিতির দাবি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে।

উত্তর আমেরিকাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার মানুষ স্যাসকোয়াচ দেখার দাবি করে আসছেন। এসব তথ্য সংরক্ষণের জন্য বিশেষ তথ্যভাণ্ডারও রয়েছে, যেখানে কয়েক হাজার ঘটনার নথি জমা হয়েছে। তবে এত কিছুর পরও প্রাণীটির অস্তিত্বের কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

লোককাহিনি থেকে জনপ্রিয় সংস্কৃতি

ইউরোপীয়দের আগমনের বহু আগে উত্তর আমেরিকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর গল্প ও মৌখিক ঐতিহ্যে মানুষের মতো বিশাল বনবাসী প্রাণীর উল্লেখ পাওয়া যায়। অনেক সম্প্রদায় বিশ্বাস করত, এসব প্রাণী বাস্তব ও আধ্যাত্মিক জগতের মধ্যে চলাচল করতে পারে। আবার কোথাও এগুলোকে শিশুদের সতর্ক করার জন্য ব্যবহৃত কিংবদন্তি চরিত্র হিসেবে দেখা হতো।

বিশ শতকের শুরুতে এসব গল্প বৃহত্তর সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা, পায়ের ছাপ এবং রহস্যময় শব্দের ঘটনাগুলো স্যাসকোয়াচকে জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশে পরিণত করে। বিশেষ করে ১৯৬৭ সালে ধারণ করা একটি অস্পষ্ট ভিডিওতে মানুষের মতো হাঁটা এক বিশাল প্রাণীর দৃশ্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

Sasquatch 'sightings' reignite fervour and scepticism about ape-like beast | Canada | The Guardian

বিজ্ঞান কী বলছে

বিজ্ঞানীরা এখনো স্যাসকোয়াচের অস্তিত্বের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাননি। আজ পর্যন্ত কোনো হাড়, মৃতদেহ বা জিনগত নমুনা উদ্ধার হয়নি। ফলে অধিকাংশ গবেষক এ ধরনের দাবিকে সন্দেহের চোখে দেখেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক পরিবেশে জীবন্ত কিছুর উপস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করতে অভ্যস্ত। অনেক সময় অন্ধকার, কুয়াশা, ঘন বন বা ভয়ের পরিবেশে সাধারণ কোনো বস্তু বা প্রাণীকেও মানুষ ভিন্নভাবে উপলব্ধি করতে পারে। এ কারণেই রহস্যময় অভিজ্ঞতার জন্ম হতে পারে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্যাসকোয়াচ দেখার অধিকাংশ ঘটনার সঙ্গে কালো ভালুকের উপস্থিতির মিল রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, দূর থেকে দেখা বড় আকারের ভালুককে অনেক সময় মানুষ অজানা প্রাণী বলে ভুল করতে পারেন।

রহস্যের শেষ কোথায়

বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাব সত্ত্বেও কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে স্যাসকোয়াচের গল্প এখনও জীবন্ত। বিশেষ করে দূরবর্তী উপকূলীয় ও বনাঞ্চল ঘেরা এলাকায় রহস্যময় শব্দ, অদ্ভুত ছায়া কিংবা ব্যাখ্যাতীত ঘটনার গল্প প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ছে।

অনেকে বিশ্বাস করেন, এসব কাহিনি প্রকৃতির প্রতি মানুষের আকর্ষণ এবং অজানাকে জানার চিরন্তন কৌতূহলের প্রতিফলন। অন্যদিকে সংশয়বাদীরা মনে করেন, স্যাসকোয়াচের রহস্য আসলে মানুষের কল্পনা, ভুল পর্যবেক্ষণ এবং লোককথার মিশ্রণ।

তবে সত্য যা-ই হোক, কানাডার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও প্রমাণ করেছে যে ‘বিগফুট’ রহস্য এখনও মানুষের কৌতূহল জাগিয়ে রাখার ক্ষমতা হারায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

কানাডায় ‘বিগফুট’ রহস্যে নতুন বিতর্ক, বনজঙ্গলে কি সত্যিই ঘুরে বেড়ায় অজানা প্রাণী?

০৭:৩৬:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

কানাডার অন্টারিও প্রদেশে সাম্প্রতিক কয়েকটি রহস্যময় প্রাণী দেখার দাবি আবারও আলোচনায় এনে দিয়েছে উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে আলোচিত লোককাহিনির চরিত্র ‘বিগফুট’ বা ‘স্যাসকোয়াচ’-কে। বিশাল আকৃতির, মানুষের মতো দেখতে এবং বানরের বৈশিষ্ট্যধারী এই প্রাণীর অস্তিত্ব নিয়ে বহু দশক ধরে বিতর্ক চললেও নতুন দাবিগুলো আবারও কৌতূহল জাগিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

সম্প্রতি কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, তারা বনাঞ্চলের কাছে অস্বাভাবিক বড় আকৃতির প্রাণী দেখেছেন। একজন জানান, বনভূমিতে হাঁটার সময় হঠাৎ চারপাশের পাখির ডাক থেমে যায় এবং পরিবেশ অস্বাভাবিক নীরব হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণ পর তিনি গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসা বিশাল এক ছায়ামূর্তি দেখতে পান। তার ভাষায়, দৃশ্যটি এতটাই অপ্রত্যাশিত ছিল যে মুহূর্তেই ভয় পেয়ে যান তিনি। পরে প্রাণীটি আবার বনের ভেতরে হারিয়ে যায়।

পরদিন আরেক ব্যক্তি দাবি করেন, সূর্যোদয়ের সময় তিনি দুটি অদ্ভুত প্রাণী দেখতে পান। তার মতে, একটি ছিল বড় এবং অন্যটি তুলনামূলক ছোট। তারা আবর্জনার স্তূপে খাবার খুঁজছিল। প্রাণীগুলোকে ভয় দেখাতে কাঠে আঘাত করলে বিপরীত দিক থেকেও একই ধরনের শব্দ ফিরে আসে, যা তাকে আতঙ্কিত করে তোলে।

নতুন দাবির বিশেষত্ব কোথায়

এসব ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো স্থান নির্বাচন। যে এলাকায় প্রাণী দেখার দাবি উঠেছে, সেটি ঘন বনভূমির জন্য পরিচিত নয়। বরং এটি কৃষিকাজনির্ভর অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। ফলে সেখানে এমন প্রাণীর উপস্থিতির দাবি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে।

উত্তর আমেরিকাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার মানুষ স্যাসকোয়াচ দেখার দাবি করে আসছেন। এসব তথ্য সংরক্ষণের জন্য বিশেষ তথ্যভাণ্ডারও রয়েছে, যেখানে কয়েক হাজার ঘটনার নথি জমা হয়েছে। তবে এত কিছুর পরও প্রাণীটির অস্তিত্বের কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

লোককাহিনি থেকে জনপ্রিয় সংস্কৃতি

ইউরোপীয়দের আগমনের বহু আগে উত্তর আমেরিকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর গল্প ও মৌখিক ঐতিহ্যে মানুষের মতো বিশাল বনবাসী প্রাণীর উল্লেখ পাওয়া যায়। অনেক সম্প্রদায় বিশ্বাস করত, এসব প্রাণী বাস্তব ও আধ্যাত্মিক জগতের মধ্যে চলাচল করতে পারে। আবার কোথাও এগুলোকে শিশুদের সতর্ক করার জন্য ব্যবহৃত কিংবদন্তি চরিত্র হিসেবে দেখা হতো।

বিশ শতকের শুরুতে এসব গল্প বৃহত্তর সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা, পায়ের ছাপ এবং রহস্যময় শব্দের ঘটনাগুলো স্যাসকোয়াচকে জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশে পরিণত করে। বিশেষ করে ১৯৬৭ সালে ধারণ করা একটি অস্পষ্ট ভিডিওতে মানুষের মতো হাঁটা এক বিশাল প্রাণীর দৃশ্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

Sasquatch 'sightings' reignite fervour and scepticism about ape-like beast | Canada | The Guardian

বিজ্ঞান কী বলছে

বিজ্ঞানীরা এখনো স্যাসকোয়াচের অস্তিত্বের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাননি। আজ পর্যন্ত কোনো হাড়, মৃতদেহ বা জিনগত নমুনা উদ্ধার হয়নি। ফলে অধিকাংশ গবেষক এ ধরনের দাবিকে সন্দেহের চোখে দেখেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক পরিবেশে জীবন্ত কিছুর উপস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করতে অভ্যস্ত। অনেক সময় অন্ধকার, কুয়াশা, ঘন বন বা ভয়ের পরিবেশে সাধারণ কোনো বস্তু বা প্রাণীকেও মানুষ ভিন্নভাবে উপলব্ধি করতে পারে। এ কারণেই রহস্যময় অভিজ্ঞতার জন্ম হতে পারে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্যাসকোয়াচ দেখার অধিকাংশ ঘটনার সঙ্গে কালো ভালুকের উপস্থিতির মিল রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, দূর থেকে দেখা বড় আকারের ভালুককে অনেক সময় মানুষ অজানা প্রাণী বলে ভুল করতে পারেন।

রহস্যের শেষ কোথায়

বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাব সত্ত্বেও কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে স্যাসকোয়াচের গল্প এখনও জীবন্ত। বিশেষ করে দূরবর্তী উপকূলীয় ও বনাঞ্চল ঘেরা এলাকায় রহস্যময় শব্দ, অদ্ভুত ছায়া কিংবা ব্যাখ্যাতীত ঘটনার গল্প প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ছে।

অনেকে বিশ্বাস করেন, এসব কাহিনি প্রকৃতির প্রতি মানুষের আকর্ষণ এবং অজানাকে জানার চিরন্তন কৌতূহলের প্রতিফলন। অন্যদিকে সংশয়বাদীরা মনে করেন, স্যাসকোয়াচের রহস্য আসলে মানুষের কল্পনা, ভুল পর্যবেক্ষণ এবং লোককথার মিশ্রণ।

তবে সত্য যা-ই হোক, কানাডার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও প্রমাণ করেছে যে ‘বিগফুট’ রহস্য এখনও মানুষের কৌতূহল জাগিয়ে রাখার ক্ষমতা হারায়নি।