০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

কার্গিল যুদ্ধের প্রবীণ সেনাসদস্য  মোহাম্মদ দাউদ আলি’র  নাম পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বাদ, প্রশ্নের মুখে তাঁর নাগরিকত্ব

মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনা হাবিলদার মোহাম্মদ দাউদ আলি, যিনি ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধসহ দুই দশকের বেশি সময় দেশের সেবা করেছেন, এখন নিজের পরিচয় প্রমাণের লড়াইয়ে নেমেছেন। ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ার পর তিনি এই সংকটে পড়েছেন। ৬৪ বছর বয়সী দাউদ আলি ২০০১ সালে মর্টার শেল বিস্ফোরণে কানে স্থায়ী আঘাতও পান।

দাউদ আলির কথায়, তিনি ২১ বছর, ১ মাস ১ দিন দেশসেবা করেছেন। অথচ আজ তাঁর এবং তাঁর পরিবারের নাগরিকত্বই প্রশ্নের মুখে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬০ লাখের বেশি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের পর ২৭ লাখেরও বেশি ভোটারের নাম ‘বাতিল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে, তারা আপিল ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাবেন। তবে এ জন্য গঠিত ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল এখনো কাজ শুরু করেনি।

কীভাবে শুরু হলো জটিলতা

দাউদ আলির সমস্যার শুরু হয়, যখন তিনি জানতে পারেন যে সরকারি নথিতে অসঙ্গতির কারণে তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর বাবার নামের বানানে ভুল থাকায় জটিলতা আরও বেড়েছে। এর সঙ্গে আরেকটি বিষয় পরিস্থিতিকে কঠিন করেছে। তাঁর মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকলেও তিনি ২০০৮ সালে মারা যান।

West Bengal SIR Appeals: EC Establishes 19 Appellate Tribunals

পরিবারের অন্য সদস্যরাও বাদ

শুধু দাউদ আলি নন, তাঁর সন্তানদের নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

দাউদ আলি বলেন, তাঁর মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল। তাঁকে বহরমপুরে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। তিনি সব নথি জমা দেন। কিন্তু এরপর শুধু তাঁর নামই নয়, তাঁর এক ছেলে ও দুই মেয়ের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়ে।

তিনি আরও বলেন, তাঁর নাম বাদ যাওয়ার কারণেই তাঁর ছেলে ও দুই মেয়ের নামও কেটে দেওয়া হয়েছে।

এখন ভোটার তালিকায় শুধু তাঁর স্ত্রী মিনুয়ারা খাতুনের নাম রয়েছে।

আইনি লড়াইয়েও অগ্রগতি নেই

দাউদ আলি জানিয়েছেন, তিনি আইনি পথে এগিয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলাও করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাতে কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাঁর ভাষায়, এখন তিনি বুঝতে পারছেন না আর কী করবেন বা কার কাছে যাবেন।

হতাশা আরও গভীর

Served nation for 21 yrs, now my nationality is being doubted': Kargil war  veteran out of Bengal voter roll | Kolkata News - The Indian Express

এই ঘটনার সবচেয়ে কষ্টের জায়গা শুধু দাপ্তরিক জটিলতা নয়, বরং গভীর হতাশাবোধ। দীর্ঘ সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পর আজ তাঁকে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, যদি তাঁর মতো একজন মানুষের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষ কী ধরনের ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

একটি ঘটনার বড় বার্তা

দাউদ আলির ঘটনা দেখিয়ে দেয়, নথিপত্রে সামান্য ভুল এবং প্রশাসনিক বিলম্ব কত বড় মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে। একটি ছোট অসঙ্গতিই কখনও কখনও একজন মানুষের দীর্ঘদিনের সেবা, পরিচয় ও নিজের দেশে নিজের জায়গাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

কার্গিল যুদ্ধের প্রবীণ সেনাসদস্য  মোহাম্মদ দাউদ আলি’র  নাম পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বাদ, প্রশ্নের মুখে তাঁর নাগরিকত্ব

০১:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনা হাবিলদার মোহাম্মদ দাউদ আলি, যিনি ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধসহ দুই দশকের বেশি সময় দেশের সেবা করেছেন, এখন নিজের পরিচয় প্রমাণের লড়াইয়ে নেমেছেন। ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ার পর তিনি এই সংকটে পড়েছেন। ৬৪ বছর বয়সী দাউদ আলি ২০০১ সালে মর্টার শেল বিস্ফোরণে কানে স্থায়ী আঘাতও পান।

দাউদ আলির কথায়, তিনি ২১ বছর, ১ মাস ১ দিন দেশসেবা করেছেন। অথচ আজ তাঁর এবং তাঁর পরিবারের নাগরিকত্বই প্রশ্নের মুখে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬০ লাখের বেশি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের পর ২৭ লাখেরও বেশি ভোটারের নাম ‘বাতিল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে, তারা আপিল ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাবেন। তবে এ জন্য গঠিত ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল এখনো কাজ শুরু করেনি।

কীভাবে শুরু হলো জটিলতা

দাউদ আলির সমস্যার শুরু হয়, যখন তিনি জানতে পারেন যে সরকারি নথিতে অসঙ্গতির কারণে তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর বাবার নামের বানানে ভুল থাকায় জটিলতা আরও বেড়েছে। এর সঙ্গে আরেকটি বিষয় পরিস্থিতিকে কঠিন করেছে। তাঁর মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকলেও তিনি ২০০৮ সালে মারা যান।

West Bengal SIR Appeals: EC Establishes 19 Appellate Tribunals

পরিবারের অন্য সদস্যরাও বাদ

শুধু দাউদ আলি নন, তাঁর সন্তানদের নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

দাউদ আলি বলেন, তাঁর মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল। তাঁকে বহরমপুরে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। তিনি সব নথি জমা দেন। কিন্তু এরপর শুধু তাঁর নামই নয়, তাঁর এক ছেলে ও দুই মেয়ের নামও তালিকা থেকে বাদ পড়ে।

তিনি আরও বলেন, তাঁর নাম বাদ যাওয়ার কারণেই তাঁর ছেলে ও দুই মেয়ের নামও কেটে দেওয়া হয়েছে।

এখন ভোটার তালিকায় শুধু তাঁর স্ত্রী মিনুয়ারা খাতুনের নাম রয়েছে।

আইনি লড়াইয়েও অগ্রগতি নেই

দাউদ আলি জানিয়েছেন, তিনি আইনি পথে এগিয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলাও করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাতে কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাঁর ভাষায়, এখন তিনি বুঝতে পারছেন না আর কী করবেন বা কার কাছে যাবেন।

হতাশা আরও গভীর

Served nation for 21 yrs, now my nationality is being doubted': Kargil war  veteran out of Bengal voter roll | Kolkata News - The Indian Express

এই ঘটনার সবচেয়ে কষ্টের জায়গা শুধু দাপ্তরিক জটিলতা নয়, বরং গভীর হতাশাবোধ। দীর্ঘ সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পর আজ তাঁকে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, যদি তাঁর মতো একজন মানুষের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষ কী ধরনের ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

একটি ঘটনার বড় বার্তা

দাউদ আলির ঘটনা দেখিয়ে দেয়, নথিপত্রে সামান্য ভুল এবং প্রশাসনিক বিলম্ব কত বড় মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে। একটি ছোট অসঙ্গতিই কখনও কখনও একজন মানুষের দীর্ঘদিনের সেবা, পরিচয় ও নিজের দেশে নিজের জায়গাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিতে পারে।