০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

কিউবার ক্ষমতায় চাপ: ট্রাম্পের শর্তে প্রেসিডেন্ট অপসারণের ইঙ্গিত

কিউবার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার চলমান আলোচনায় নতুন মোড় দেখা যাচ্ছে। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেলকে ক্ষমতা ছাড়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই প্রস্তাবের লক্ষ্য পুরো শাসনব্যবস্থা বদলানো নয়, বরং নেতৃত্বে প্রতীকী পরিবর্তন আনা।

আলোচনায় চাপ ও কৌশল

কয়েক মাস ধরে চলা দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তারা কিউবার কমিউনিস্ট কাঠামো পুরোপুরি ভাঙতে চাইছে না, বরং বর্তমান প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মতে, অর্থনৈতিক সংস্কারের পথ খুলে যেতে পারে, যা বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে সম্ভব নয়।

Faded flags hang above. A bright light illuminates a painting of a bearded person and a TV screen showing a speaker.

এই অবস্থানকে সরাসরি আলটিমেটাম হিসেবে না তুলে, বরং একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আরও সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক হিসাব

প্রেসিডেন্ট অপসারণ ঘটলে তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় প্রতীকী জয় হিসেবে বিবেচিত হবে। এতে তিনি দেশীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান নিতে পারবেন এবং দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ এক বামপন্থী সরকারের নেতাকে সরানোর দাবি করতে পারবেন।

তবে এই পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবান বংশোদ্ভূতদের একটি অংশ সন্তুষ্ট নাও হতে পারে। তারা কেবল নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়, বরং পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার রূপান্তর দেখতে চায়।

A person in a white t-shirt with a distressed American flag design holds a tray of cookies and money, with a serious expression.

কিউবার অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা

মিগেল দিয়াজ-কানেল ২০১৮ সাল থেকে কিউবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কাস্ত্রো পরিবারের বাইরে প্রথম নেতা হলেও প্রকৃত ক্ষমতা এখনও পুরনো কাঠামোর হাতেই রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত। দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক খাতেও শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব প্রবল।

তার শাসনামলে ২০২১ সালে বড় ধরনের বিক্ষোভ দেখা যায়, যা কঠোর দমন-পীড়নের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। একই সময়ে অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হয়ে ওঠে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।

অর্থনীতি ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব

Cuban official decries ‘massive punishment’ by US oil blockade

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত তেল অবরোধ কিউবার অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেশের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। সম্প্রতি পুরো দেশে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাও এই সংকটকে আরও স্পষ্ট করেছে।

কিউবার নেতৃত্ব এই সংকটের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে। তাদের মতে, অর্থনৈতিক অবরোধই বর্তমান দুরবস্থার মূল কারণ।

ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা

যদি প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তন আসে, তাহলে কে নেতৃত্বে আসবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কিউবার প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নতুন মুখ সামনে আনার চেষ্টা চলছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কাস্ত্রো পরিবারের সদস্যদের প্রভাব এখনও অটুট থাকলেও তারা সরাসরি সামনে না এসে পর্দার আড়ালে থেকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

কিউবার ক্ষমতায় চাপ: ট্রাম্পের শর্তে প্রেসিডেন্ট অপসারণের ইঙ্গিত

১১:৫৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

কিউবার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার চলমান আলোচনায় নতুন মোড় দেখা যাচ্ছে। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেলকে ক্ষমতা ছাড়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই প্রস্তাবের লক্ষ্য পুরো শাসনব্যবস্থা বদলানো নয়, বরং নেতৃত্বে প্রতীকী পরিবর্তন আনা।

আলোচনায় চাপ ও কৌশল

কয়েক মাস ধরে চলা দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তারা কিউবার কমিউনিস্ট কাঠামো পুরোপুরি ভাঙতে চাইছে না, বরং বর্তমান প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মতে, অর্থনৈতিক সংস্কারের পথ খুলে যেতে পারে, যা বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে সম্ভব নয়।

Faded flags hang above. A bright light illuminates a painting of a bearded person and a TV screen showing a speaker.

এই অবস্থানকে সরাসরি আলটিমেটাম হিসেবে না তুলে, বরং একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আরও সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক হিসাব

প্রেসিডেন্ট অপসারণ ঘটলে তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় প্রতীকী জয় হিসেবে বিবেচিত হবে। এতে তিনি দেশীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান নিতে পারবেন এবং দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ এক বামপন্থী সরকারের নেতাকে সরানোর দাবি করতে পারবেন।

তবে এই পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবান বংশোদ্ভূতদের একটি অংশ সন্তুষ্ট নাও হতে পারে। তারা কেবল নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়, বরং পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার রূপান্তর দেখতে চায়।

A person in a white t-shirt with a distressed American flag design holds a tray of cookies and money, with a serious expression.

কিউবার অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা

মিগেল দিয়াজ-কানেল ২০১৮ সাল থেকে কিউবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কাস্ত্রো পরিবারের বাইরে প্রথম নেতা হলেও প্রকৃত ক্ষমতা এখনও পুরনো কাঠামোর হাতেই রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত। দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক খাতেও শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব প্রবল।

তার শাসনামলে ২০২১ সালে বড় ধরনের বিক্ষোভ দেখা যায়, যা কঠোর দমন-পীড়নের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। একই সময়ে অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হয়ে ওঠে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।

অর্থনীতি ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব

Cuban official decries ‘massive punishment’ by US oil blockade

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত তেল অবরোধ কিউবার অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেশের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। সম্প্রতি পুরো দেশে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাও এই সংকটকে আরও স্পষ্ট করেছে।

কিউবার নেতৃত্ব এই সংকটের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে। তাদের মতে, অর্থনৈতিক অবরোধই বর্তমান দুরবস্থার মূল কারণ।

ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা

যদি প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তন আসে, তাহলে কে নেতৃত্বে আসবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কিউবার প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নতুন মুখ সামনে আনার চেষ্টা চলছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কাস্ত্রো পরিবারের সদস্যদের প্রভাব এখনও অটুট থাকলেও তারা সরাসরি সামনে না এসে পর্দার আড়ালে থেকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।