০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

কিয়োটোর বাঁশশিল্পে নতুন প্রাণ, শতবর্ষের ঐতিহ্য ধরে রাখছেন তাকাশি মিকি

জাপানের প্রাচীন শহর কিয়োটোতে এখনও টিকে আছে শতাব্দী পুরোনো বাঁশশিল্পের ঐতিহ্য। আধুনিক যুগে প্লাস্টিক ও কৃত্রিম উপকরণের ভিড়ে যখন বাঁশের ব্যবহার কমে যাচ্ছে, তখন সেই হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতিকে নতুন করে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন কিয়োটোর কারিগর তাকাশি মিকি।

কিয়োটোর মিনামি ওয়ার্ডে অবস্থিত তার পারিবারিক প্রতিষ্ঠান প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো। পাঁচ প্রজন্ম ধরে চলা এই ব্যবসার বর্তমান কর্ণধার ৫২ বছর বয়সী তাকাশি মিকি। তিনি শুধু বাঁশ বিক্রি করেন না, বরং বাঁশ সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ, নকশা তৈরি এবং চূড়ান্ত পণ্য প্রস্তুত—সবকিছুই নিজ হাতে তদারকি করেন।

ঐতিহ্যবাহী বিশেষ প্রক্রিয়া

মিকির কাজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিশেষভাবে বাঁশ প্রক্রিয়াজাত করা। মাদাকে নামের এক ধরনের বাঁশকে দূর-ইনফ্রারেড তাপে গরম করা হয়। তাপের কারণে বাঁশের ভেতরের তেল বাইরে উঠে আসে এবং দ্রুত কাপড় দিয়ে তা মুছে ফেলা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে শুকিয়ে ও সংরক্ষণ করে তৈরি করা হয় উজ্জ্বল ও টেকসই সাদা বাঁশ, যা কিয়োটোর বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী বাঁশ উপকরণগুলোর একটি।

Nagaokakyo, Kyoto and Takano Chikko: Where the Tradition of Bamboo Thrives  – Millennium Gallery JP

কিয়োটো অঞ্চলে এই ধরনের চারটি বিশেষ বাঁশ উপাদান দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। এগুলো মন্দির, বাগান, চা অনুষ্ঠানের সামগ্রী এবং বিভিন্ন হস্তশিল্পে ব্যবহৃত হয়।

মন্দির ও রাজপ্রাসাদের জন্য কাজ

মিকির প্রতিষ্ঠানের বড় একটি কাজ হলো মন্দির ও ঐতিহাসিক স্থাপনার জন্য বাঁশের বেড়া নির্মাণ। কিয়োটোর বিখ্যাত মন্দিরগুলো নিয়মিত তাদের কাছ থেকে বাঁশের বেড়া তৈরি করায়। সম্প্রতি তারা কাতসুরা ইম্পেরিয়াল ভিলার জন্য বিশেষ নকশার বাঁশের বেড়ার কাজ শেষ করেছে। প্রতিটি প্রকল্পের নকশা আলাদা এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়।

বাঁশের প্রতি মানুষের আধ্যাত্মিক টান

তাকাশি মিকির মতে, বাঁশ শুধু একটি গাছ নয়, বরং জাপানি সংস্কৃতির গভীরে থাকা এক প্রতীক। তিনি বলেন, খুব অল্প সময়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা এবং একে অপরকে সহায়তা করার বৈশিষ্ট্যের কারণে অতীতের মানুষ বাঁশকে জীবনের পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখত।

জাপানের বহু পুরোনো গল্প, চা অনুষ্ঠান, ক্যালিগ্রাফি ও মার্শাল আর্টের সঙ্গেও বাঁশের সম্পর্ক রয়েছে। এক সময় ঝুড়ি, মাছ ধরার ছিপ, চপস্টিকসহ দৈনন্দিন নানা কাজে বাঁশ ব্যবহার হতো। কিন্তু আধুনিক উপকরণের কারণে সেই ব্যবহার অনেক কমে গেছে।

Kyoto Wants You Back, but It Has Some Polite Suggestions - The New York  Times

পর্যটকদের কাছেও বাড়ছে চাহিদা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ করতে জাপানের বিলাসবহুল হোটেলগুলোও বাঁশের ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী ব্যবহার শুরু করেছে। কিয়োটোর বড় বড় হোটেলের জন্য বিকেলের চা পরিবেশনের স্ট্যান্ড, চপস্টিক এবং বিশাল বাঁশের বেড়া তৈরি করেছে মিকির প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া বাঁশশিল্পীদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এখন নিজেই চা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করছেন তিনি। তার প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কর্মশালার আয়োজনও করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বাঁশ দিয়ে চামচ ও ঝুড়ি বানানোর অভিজ্ঞতা নিতে পারেন।

ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখার লড়াই

মিকির বিশ্বাস, বাঁশের ব্যবহার বাড়ানো মানে শুধু একটি শিল্পকে টিকিয়ে রাখা নয়, বরং জাপানের সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তাই নতুন কারিগর তৈরি এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যেতে চান তিনি।

বাঁশের মতোই শক্ত কিন্তু নমনীয় এই ঐতিহ্যকে আগামীতেও বাঁচিয়ে রাখাই এখন তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

কিয়োটোর বাঁশশিল্পে নতুন প্রাণ, শতবর্ষের ঐতিহ্য ধরে রাখছেন তাকাশি মিকি

১২:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

জাপানের প্রাচীন শহর কিয়োটোতে এখনও টিকে আছে শতাব্দী পুরোনো বাঁশশিল্পের ঐতিহ্য। আধুনিক যুগে প্লাস্টিক ও কৃত্রিম উপকরণের ভিড়ে যখন বাঁশের ব্যবহার কমে যাচ্ছে, তখন সেই হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতিকে নতুন করে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন কিয়োটোর কারিগর তাকাশি মিকি।

কিয়োটোর মিনামি ওয়ার্ডে অবস্থিত তার পারিবারিক প্রতিষ্ঠান প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো। পাঁচ প্রজন্ম ধরে চলা এই ব্যবসার বর্তমান কর্ণধার ৫২ বছর বয়সী তাকাশি মিকি। তিনি শুধু বাঁশ বিক্রি করেন না, বরং বাঁশ সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ, নকশা তৈরি এবং চূড়ান্ত পণ্য প্রস্তুত—সবকিছুই নিজ হাতে তদারকি করেন।

ঐতিহ্যবাহী বিশেষ প্রক্রিয়া

মিকির কাজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিশেষভাবে বাঁশ প্রক্রিয়াজাত করা। মাদাকে নামের এক ধরনের বাঁশকে দূর-ইনফ্রারেড তাপে গরম করা হয়। তাপের কারণে বাঁশের ভেতরের তেল বাইরে উঠে আসে এবং দ্রুত কাপড় দিয়ে তা মুছে ফেলা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে শুকিয়ে ও সংরক্ষণ করে তৈরি করা হয় উজ্জ্বল ও টেকসই সাদা বাঁশ, যা কিয়োটোর বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী বাঁশ উপকরণগুলোর একটি।

Nagaokakyo, Kyoto and Takano Chikko: Where the Tradition of Bamboo Thrives  – Millennium Gallery JP

কিয়োটো অঞ্চলে এই ধরনের চারটি বিশেষ বাঁশ উপাদান দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। এগুলো মন্দির, বাগান, চা অনুষ্ঠানের সামগ্রী এবং বিভিন্ন হস্তশিল্পে ব্যবহৃত হয়।

মন্দির ও রাজপ্রাসাদের জন্য কাজ

মিকির প্রতিষ্ঠানের বড় একটি কাজ হলো মন্দির ও ঐতিহাসিক স্থাপনার জন্য বাঁশের বেড়া নির্মাণ। কিয়োটোর বিখ্যাত মন্দিরগুলো নিয়মিত তাদের কাছ থেকে বাঁশের বেড়া তৈরি করায়। সম্প্রতি তারা কাতসুরা ইম্পেরিয়াল ভিলার জন্য বিশেষ নকশার বাঁশের বেড়ার কাজ শেষ করেছে। প্রতিটি প্রকল্পের নকশা আলাদা এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়।

বাঁশের প্রতি মানুষের আধ্যাত্মিক টান

তাকাশি মিকির মতে, বাঁশ শুধু একটি গাছ নয়, বরং জাপানি সংস্কৃতির গভীরে থাকা এক প্রতীক। তিনি বলেন, খুব অল্প সময়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা এবং একে অপরকে সহায়তা করার বৈশিষ্ট্যের কারণে অতীতের মানুষ বাঁশকে জীবনের পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখত।

জাপানের বহু পুরোনো গল্প, চা অনুষ্ঠান, ক্যালিগ্রাফি ও মার্শাল আর্টের সঙ্গেও বাঁশের সম্পর্ক রয়েছে। এক সময় ঝুড়ি, মাছ ধরার ছিপ, চপস্টিকসহ দৈনন্দিন নানা কাজে বাঁশ ব্যবহার হতো। কিন্তু আধুনিক উপকরণের কারণে সেই ব্যবহার অনেক কমে গেছে।

Kyoto Wants You Back, but It Has Some Polite Suggestions - The New York  Times

পর্যটকদের কাছেও বাড়ছে চাহিদা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ করতে জাপানের বিলাসবহুল হোটেলগুলোও বাঁশের ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী ব্যবহার শুরু করেছে। কিয়োটোর বড় বড় হোটেলের জন্য বিকেলের চা পরিবেশনের স্ট্যান্ড, চপস্টিক এবং বিশাল বাঁশের বেড়া তৈরি করেছে মিকির প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া বাঁশশিল্পীদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এখন নিজেই চা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করছেন তিনি। তার প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কর্মশালার আয়োজনও করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বাঁশ দিয়ে চামচ ও ঝুড়ি বানানোর অভিজ্ঞতা নিতে পারেন।

ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখার লড়াই

মিকির বিশ্বাস, বাঁশের ব্যবহার বাড়ানো মানে শুধু একটি শিল্পকে টিকিয়ে রাখা নয়, বরং জাপানের সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তাই নতুন কারিগর তৈরি এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যেতে চান তিনি।

বাঁশের মতোই শক্ত কিন্তু নমনীয় এই ঐতিহ্যকে আগামীতেও বাঁচিয়ে রাখাই এখন তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।