০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

কুমিল্লার মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: মা-বাবা-ভাই-বোন হারিয়ে বাকরুদ্ধ ছোট্ট আবরার

কুমিল্লার সড়কে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল একটি পরিবার। সেই পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১২ বছরের আবরার এখন বাকরুদ্ধ। যে শিশুটি কিছুক্ষণ আগেও ভেবেছিল তার মা-বাবা-ভাই-বোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, সে-ই হঠাৎ জানতে পারে—এই পৃথিবীতে সে একাই বেঁচে আছে।

দুর্ঘটনার নির্মম মুহূর্ত

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় একটি প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দেয় যাত্রীবাহী বাস। মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে যায় গাড়িটি। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায় আবরার। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখনও সে জানতো না, তার পুরো পরিবার আর নেই।

প্রাইভেটকারে বাসের ধাক্কা, একই পরিবারের ৪ জনসহ কুমিল্লায় নিহত বেড়ে পাঁচ

হাসপাতালের বেডেই বদলে যায় জীবন

দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবরারকে জানানো হয়েছিল—তার পরিবারের সদস্যরা আহত। কিন্তু রাতের দিকে যখন স্বজনরা মরদেহ নিতে যায়, তখনই প্রকাশ পায় নির্মম সত্য।

এই খবর জানার পর থেকেই আবরার কথা বলা বন্ধ করে দেয়। স্বজনদের ভাষায়, শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে শিশুটি।

ঈদের আনন্দ থেকে শোকের অন্ধকার

জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নানা বাড়িতে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরছিল আবরার ও তার পরিবার। পথে এই দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই ভেঙে যায় তাদের জীবনের সব স্বপ্ন।

আবরারের বড় ভাই হুজাইফা নানা বাড়িতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যায়। কিন্তু আবরারের চোখের সামনে শেষ হয়ে যায় তার বাবা-মা, ভাই ও বোনের জীবন।

নিহতদের পরিচয়

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আবরারের বাবা মুফতি আব্দুল মোমিন, মা দিল আফরোজ আক্তার, বোন লাবিবা এবং ছোট ভাই আরশাদ। এছাড়া প্রাণ হারান প্রাইভেটকারের চালক জামাল হোসেন।

পরিবারটির গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ছাতারপাইয়া গ্রামে। ঢাকায় মোহাম্মদপুরে বসবাস করতেন তারা। আবরারের বাবা একটি মাদ্রাসার মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

দুর্ঘটনার কারণ ও আইনি পদক্ষেপ

হাইওয়ে পুলিশের তথ্যে জানা যায়, কালাকচুয়ার একটি হোটেলে যাত্রাবিরতির পর প্রাইভেটকারটি যখন মহাসড়কে উঠছিল, তখন চট্টগ্রামগামী একটি বাস সজোরে ধাক্কা দেয়।

দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশ - উইকিপিডিয়া

স্বজনদের ক্ষোভ ও দাবি

আবরারের মামা জানান, বেপরোয়া বাসচালনার কারণেই একটি পরিবার একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তিনি দ্রুত চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও সামনে এনে দিল দেশের সড়ক নিরাপত্তার ভয়াবহ চিত্র, যেখানে এক মুহূর্তের অসতর্কতায় ঝরে যায় একাধিক প্রাণ, ভেঙে যায় অসংখ্য পরিবার।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

কুমিল্লার মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: মা-বাবা-ভাই-বোন হারিয়ে বাকরুদ্ধ ছোট্ট আবরার

১১:৫৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লার সড়কে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল একটি পরিবার। সেই পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১২ বছরের আবরার এখন বাকরুদ্ধ। যে শিশুটি কিছুক্ষণ আগেও ভেবেছিল তার মা-বাবা-ভাই-বোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, সে-ই হঠাৎ জানতে পারে—এই পৃথিবীতে সে একাই বেঁচে আছে।

দুর্ঘটনার নির্মম মুহূর্ত

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় একটি প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দেয় যাত্রীবাহী বাস। মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে যায় গাড়িটি। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায় আবরার। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখনও সে জানতো না, তার পুরো পরিবার আর নেই।

প্রাইভেটকারে বাসের ধাক্কা, একই পরিবারের ৪ জনসহ কুমিল্লায় নিহত বেড়ে পাঁচ

হাসপাতালের বেডেই বদলে যায় জীবন

দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবরারকে জানানো হয়েছিল—তার পরিবারের সদস্যরা আহত। কিন্তু রাতের দিকে যখন স্বজনরা মরদেহ নিতে যায়, তখনই প্রকাশ পায় নির্মম সত্য।

এই খবর জানার পর থেকেই আবরার কথা বলা বন্ধ করে দেয়। স্বজনদের ভাষায়, শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে শিশুটি।

ঈদের আনন্দ থেকে শোকের অন্ধকার

জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে নানা বাড়িতে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরছিল আবরার ও তার পরিবার। পথে এই দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই ভেঙে যায় তাদের জীবনের সব স্বপ্ন।

আবরারের বড় ভাই হুজাইফা নানা বাড়িতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যায়। কিন্তু আবরারের চোখের সামনে শেষ হয়ে যায় তার বাবা-মা, ভাই ও বোনের জীবন।

নিহতদের পরিচয়

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আবরারের বাবা মুফতি আব্দুল মোমিন, মা দিল আফরোজ আক্তার, বোন লাবিবা এবং ছোট ভাই আরশাদ। এছাড়া প্রাণ হারান প্রাইভেটকারের চালক জামাল হোসেন।

পরিবারটির গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ছাতারপাইয়া গ্রামে। ঢাকায় মোহাম্মদপুরে বসবাস করতেন তারা। আবরারের বাবা একটি মাদ্রাসার মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

দুর্ঘটনার কারণ ও আইনি পদক্ষেপ

হাইওয়ে পুলিশের তথ্যে জানা যায়, কালাকচুয়ার একটি হোটেলে যাত্রাবিরতির পর প্রাইভেটকারটি যখন মহাসড়কে উঠছিল, তখন চট্টগ্রামগামী একটি বাস সজোরে ধাক্কা দেয়।

দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হলেও চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশ - উইকিপিডিয়া

স্বজনদের ক্ষোভ ও দাবি

আবরারের মামা জানান, বেপরোয়া বাসচালনার কারণেই একটি পরিবার একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তিনি দ্রুত চালক ও সহকারীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও সামনে এনে দিল দেশের সড়ক নিরাপত্তার ভয়াবহ চিত্র, যেখানে এক মুহূর্তের অসতর্কতায় ঝরে যায় একাধিক প্রাণ, ভেঙে যায় অসংখ্য পরিবার।