০১:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা যুদ্ধ থামছে না কেন? অপরাধ যখন ধর্মের পরিচয় পায় ঝলমলে শিল্পে আত্মভালোবাসার বার্তা দিচ্ছেন সারা শাকিল শতায়ু বাবা-মায়ের সন্তানদের আয়ু ও সুস্বাস্থ্যের সম্ভাবনা বেশি শিক্ষিত, দক্ষ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণদেরই ফাঁদে ফেলছে মানবপাচারকারীরা পাকিস্তান-রাশিয়া সম্পর্ক: অবহেলিত হলেও কেন বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ, সুযোগ নিয়ে থাকছে প্রশ্ন গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য, জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে হচ্ছে না

কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ রূপকথা, এবার সামনে মেসির আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চমকের জন্ম দিয়েছে আফ্রিকার ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে এসে তারা জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২-এ। মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার এই দেশ এখন মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার, যার নেতৃত্বে আছেন লিওনেল মেসি।

বিশ্বমঞ্চে ছোট দেশের বড় স্বপ্ন

আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থিত ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের আয়তন মাত্র দেড় হাজার বর্গমাইলের মতো। এত ছোট দেশ এর আগে কখনও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে পারেনি। প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই সেই ইতিহাস বদলে দিয়েছে ‘ব্লু শার্কস’ নামে পরিচিত দলটি।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে তাদের সম্ভাবনা ছিল খুবই কম। কারণ গ্রুপপর্বেই তাদের প্রতিপক্ষ ছিল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে ও ইউরোপের বর্তমান শক্তিশালী দল স্পেন। তবু মাঠে নেমে সব হিসাব পাল্টে দেয় কেপ ভার্দে।

একের পর এক চমক

স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু হয় কেপ ভার্দের বিস্ময়কর যাত্রা। এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে তারা আরও বড় চমক দেখায়।

গ্রুপের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষেও সমতা ধরে রেখে তারা অপেক্ষা করতে থাকে অন্য ম্যাচের ফলের জন্য। শেষ পর্যন্ত উরুগুয়ের পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নকআউট পর্বে ওঠার আনন্দে ফেটে পড়ে পুরো দল।

ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। তারা বারবার উচ্চারণ করছিল, “এক শতাংশ, এক শতাংশ”, নিজেদের ক্ষীণ সম্ভাবনাকেই স্মরণ করে।

আর্জেন্টিনাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে যা বললেন কেপ ভার্দের কোচ

লিংকডইনে খুঁজে পাওয়া ফুটবলার

এই দলের গল্পে রয়েছে আরেকটি ব্যতিক্রমী অধ্যায়। কয়েক বছর আগে কেপ ভার্দে এমন একজন ফুটবলারের খোঁজ পায়, যার বাবার জন্ম এই দেশেই। কিন্তু তিনি তখন আয়ারল্যান্ডে থাকতেন, ব্যাংকে কাজ করতেন এবং স্থানীয় ক্লাব ফুটবলে খেলতেন।

প্রথমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেশাদার নেটওয়ার্কে পাঠানো বার্তা তিনি বুঝতেই পারেননি। পরে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি জাতীয় দলে যোগ দিতে সম্মত হন। সেই ফুটবলার এখন কেপ ভার্দের ইতিহাস গড়া দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের একজন।

প্রবাসী তারকাদের অসাধারণ অবদান

কেপ ভার্দের ২৬ সদস্যের দলে ১৫ জন খেলোয়াড়ের জন্ম দেশের বাইরে। পর্তুগাল, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এসব ফুটবলার পারিবারিক সূত্রে কেপ ভার্দের হয়ে খেলছেন।

স্পেনের বিপক্ষে দলের নায়ক ছিলেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। তিনি একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে গোলশূন্য ড্র এনে দেন।

অন্যদিকে উরুগুয়ের বিপক্ষে ইতিহাস গড়া গুরুত্বপূর্ণ গোলটি করেন হেলিও ভারেলা। পর্তুগালে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার বর্তমানে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে খেলছেন।

এবার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা

কেপ ভার্দের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

গ্রুপপর্বে ড্র করেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও নকআউট পর্বে সেই সুযোগ নেই। এখানে জিততে পারলেই পরের ধাপ, আর হারলেই শেষ হয়ে যাবে বিশ্বকাপের স্বপ্ন।

তবু ইতিহাস গড়া এই ছোট্ট দেশের কাছে বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই এক অবিস্মরণীয় যাত্রায় পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তারা কি আরও একটি বিস্ময়ের জন্ম দিতে পারে, নাকি আর্জেন্টিনাই থামিয়ে দেবে ‘ব্লু শার্কস’-এর রূপকথা।

কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ যাত্রা, শেষ ৩২-এ উঠে এবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নতুন চ্যালেঞ্জে নামছে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা

কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ রূপকথা, এবার সামনে মেসির আর্জেন্টিনা

০৯:০১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চমকের জন্ম দিয়েছে আফ্রিকার ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে এসে তারা জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২-এ। মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার এই দেশ এখন মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার, যার নেতৃত্বে আছেন লিওনেল মেসি।

বিশ্বমঞ্চে ছোট দেশের বড় স্বপ্ন

আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থিত ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের আয়তন মাত্র দেড় হাজার বর্গমাইলের মতো। এত ছোট দেশ এর আগে কখনও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে পারেনি। প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই সেই ইতিহাস বদলে দিয়েছে ‘ব্লু শার্কস’ নামে পরিচিত দলটি।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে তাদের সম্ভাবনা ছিল খুবই কম। কারণ গ্রুপপর্বেই তাদের প্রতিপক্ষ ছিল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে ও ইউরোপের বর্তমান শক্তিশালী দল স্পেন। তবু মাঠে নেমে সব হিসাব পাল্টে দেয় কেপ ভার্দে।

একের পর এক চমক

স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু হয় কেপ ভার্দের বিস্ময়কর যাত্রা। এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে তারা আরও বড় চমক দেখায়।

গ্রুপের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষেও সমতা ধরে রেখে তারা অপেক্ষা করতে থাকে অন্য ম্যাচের ফলের জন্য। শেষ পর্যন্ত উরুগুয়ের পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নকআউট পর্বে ওঠার আনন্দে ফেটে পড়ে পুরো দল।

ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। তারা বারবার উচ্চারণ করছিল, “এক শতাংশ, এক শতাংশ”, নিজেদের ক্ষীণ সম্ভাবনাকেই স্মরণ করে।

আর্জেন্টিনাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে যা বললেন কেপ ভার্দের কোচ

লিংকডইনে খুঁজে পাওয়া ফুটবলার

এই দলের গল্পে রয়েছে আরেকটি ব্যতিক্রমী অধ্যায়। কয়েক বছর আগে কেপ ভার্দে এমন একজন ফুটবলারের খোঁজ পায়, যার বাবার জন্ম এই দেশেই। কিন্তু তিনি তখন আয়ারল্যান্ডে থাকতেন, ব্যাংকে কাজ করতেন এবং স্থানীয় ক্লাব ফুটবলে খেলতেন।

প্রথমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেশাদার নেটওয়ার্কে পাঠানো বার্তা তিনি বুঝতেই পারেননি। পরে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি জাতীয় দলে যোগ দিতে সম্মত হন। সেই ফুটবলার এখন কেপ ভার্দের ইতিহাস গড়া দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের একজন।

প্রবাসী তারকাদের অসাধারণ অবদান

কেপ ভার্দের ২৬ সদস্যের দলে ১৫ জন খেলোয়াড়ের জন্ম দেশের বাইরে। পর্তুগাল, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এসব ফুটবলার পারিবারিক সূত্রে কেপ ভার্দের হয়ে খেলছেন।

স্পেনের বিপক্ষে দলের নায়ক ছিলেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। তিনি একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে গোলশূন্য ড্র এনে দেন।

অন্যদিকে উরুগুয়ের বিপক্ষে ইতিহাস গড়া গুরুত্বপূর্ণ গোলটি করেন হেলিও ভারেলা। পর্তুগালে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার বর্তমানে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে খেলছেন।

এবার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা

কেপ ভার্দের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

গ্রুপপর্বে ড্র করেই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও নকআউট পর্বে সেই সুযোগ নেই। এখানে জিততে পারলেই পরের ধাপ, আর হারলেই শেষ হয়ে যাবে বিশ্বকাপের স্বপ্ন।

তবু ইতিহাস গড়া এই ছোট্ট দেশের কাছে বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই এক অবিস্মরণীয় যাত্রায় পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তারা কি আরও একটি বিস্ময়ের জন্ম দিতে পারে, নাকি আর্জেন্টিনাই থামিয়ে দেবে ‘ব্লু শার্কস’-এর রূপকথা।

কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ যাত্রা, শেষ ৩২-এ উঠে এবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নতুন চ্যালেঞ্জে নামছে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি।