০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

খরার মাঝেও ফলন, চরাঞ্চলে নতুন স্বপ্ন জাগাল গাউ সয়াবিন

বাংলাদেশের কৃষিতে এক নতুন অধ্যায় রচিত হলো। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের উদ্ভাবিত দেশের প্রথম খরা সহনশীল সয়াবিন জাত ‘গাউ সয়াবিন’ চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে। দীর্ঘ গবেষণা, মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে উদ্ভাবিত এই জাত ইতোমধ্যে জাতীয় বীজ বোর্ডের অনুমোদন পেয়েছে।

তিন বছরের গবেষণা, পাঁচ বছরের মাঠপরীক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ মান্নানের নেতৃত্বে এই সাফল্য অর্জিত হয়। প্রায় আড়াই শতাধিক জার্মপ্লাজম নিয়ে তিন বছর ধরে মূল্যায়নের পর খরা সহনশীল এই জাত নির্বাচন করা হয়। তাইওয়ানের এশিয়ান ভেজিটেবল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সংগৃহীত উপাদানের ভিত্তিতে গবেষণা এগোয়।

পরবর্তীতে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ভোলায় পাঁচ বছর ধরে মাঠপর্যায়ে সফল পরীক্ষা শেষে জাতটি আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত হয়।

রায়পুরে সয়াবিন চাষে স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

খরাতেও টিকে থাকার অসাধারণ সক্ষমতা

গাউ সয়াবিন ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জমির আর্দ্রতা থাকলেও ভালো ফলন দিতে সক্ষম। উপকূলীয় চরাঞ্চলে যেখানে অনিয়মিত বৃষ্টি ও লবণাক্ততা বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে এই জাত নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

প্রতিটি গাছে ৮০ থেকে ১০০টি শুঁটি ধরে। এক হাজার বীজের ওজন প্রায় ২৩০ গ্রাম। প্রতি হেক্টরে ফলন ৩ দশমিক ২ থেকে ৩ দশমিক ৮ টন পর্যন্ত হতে পারে, যা প্রচলিত জাতের তুলনায় বেশি।

পুষ্টিগুণ ও পোলট্রি শিল্পে সম্ভাবনা

এই সয়াবিনে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ উচ্চমানের প্রোটিন এবং ১৮ থেকে ২০ শতাংশ তেল রয়েছে। এতে থাকা প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান অপুষ্টি দূরীকরণে সহায়ক। হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে এতে ট্রিপসিনের মাত্রা কম, ফলে পোলট্রি খাদ্যে প্রোটিন শোষণ বাড়ে। এ কারণে দেশের পোলট্রি শিল্পেও এই জাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

Soybean Cultivation

দ্রুত পরিপক্বতা, দ্রুত লাভ

গাউ সয়াবিন মাত্র তিন মাস থেকে তিন মাস দশ দিনের মধ্যে পরিপক্ব হয়। ফলে কৃষকরা স্বল্প সময়ে ফসল ঘরে তুলতে পারেন এবং একই জমিতে অতিরিক্ত আবাদ পরিকল্পনার সুযোগ পান।

অধ্যাপক ড. এম এ মান্নান বলেন, উপকূলীয় চরাঞ্চলের অনিশ্চিত আবহাওয়া ও খরাপ্রবণ মাটিতে সয়াবিন চাষ সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এই নতুন জাত সেই ঝুঁকি কমিয়ে কৃষকদের সামনে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জে কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এই উদ্ভাবনকে দেশের কৃষিতে ষষ্ঠ বিপ্লবাত্মক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

খরার মাঝেও ফলন, চরাঞ্চলে নতুন স্বপ্ন জাগাল গাউ সয়াবিন

০৫:২৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের কৃষিতে এক নতুন অধ্যায় রচিত হলো। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের উদ্ভাবিত দেশের প্রথম খরা সহনশীল সয়াবিন জাত ‘গাউ সয়াবিন’ চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে। দীর্ঘ গবেষণা, মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে উদ্ভাবিত এই জাত ইতোমধ্যে জাতীয় বীজ বোর্ডের অনুমোদন পেয়েছে।

তিন বছরের গবেষণা, পাঁচ বছরের মাঠপরীক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ মান্নানের নেতৃত্বে এই সাফল্য অর্জিত হয়। প্রায় আড়াই শতাধিক জার্মপ্লাজম নিয়ে তিন বছর ধরে মূল্যায়নের পর খরা সহনশীল এই জাত নির্বাচন করা হয়। তাইওয়ানের এশিয়ান ভেজিটেবল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সংগৃহীত উপাদানের ভিত্তিতে গবেষণা এগোয়।

পরবর্তীতে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ভোলায় পাঁচ বছর ধরে মাঠপর্যায়ে সফল পরীক্ষা শেষে জাতটি আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত হয়।

রায়পুরে সয়াবিন চাষে স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

খরাতেও টিকে থাকার অসাধারণ সক্ষমতা

গাউ সয়াবিন ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জমির আর্দ্রতা থাকলেও ভালো ফলন দিতে সক্ষম। উপকূলীয় চরাঞ্চলে যেখানে অনিয়মিত বৃষ্টি ও লবণাক্ততা বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে এই জাত নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

প্রতিটি গাছে ৮০ থেকে ১০০টি শুঁটি ধরে। এক হাজার বীজের ওজন প্রায় ২৩০ গ্রাম। প্রতি হেক্টরে ফলন ৩ দশমিক ২ থেকে ৩ দশমিক ৮ টন পর্যন্ত হতে পারে, যা প্রচলিত জাতের তুলনায় বেশি।

পুষ্টিগুণ ও পোলট্রি শিল্পে সম্ভাবনা

এই সয়াবিনে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ উচ্চমানের প্রোটিন এবং ১৮ থেকে ২০ শতাংশ তেল রয়েছে। এতে থাকা প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান অপুষ্টি দূরীকরণে সহায়ক। হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে এতে ট্রিপসিনের মাত্রা কম, ফলে পোলট্রি খাদ্যে প্রোটিন শোষণ বাড়ে। এ কারণে দেশের পোলট্রি শিল্পেও এই জাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

Soybean Cultivation

দ্রুত পরিপক্বতা, দ্রুত লাভ

গাউ সয়াবিন মাত্র তিন মাস থেকে তিন মাস দশ দিনের মধ্যে পরিপক্ব হয়। ফলে কৃষকরা স্বল্প সময়ে ফসল ঘরে তুলতে পারেন এবং একই জমিতে অতিরিক্ত আবাদ পরিকল্পনার সুযোগ পান।

অধ্যাপক ড. এম এ মান্নান বলেন, উপকূলীয় চরাঞ্চলের অনিশ্চিত আবহাওয়া ও খরাপ্রবণ মাটিতে সয়াবিন চাষ সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এই নতুন জাত সেই ঝুঁকি কমিয়ে কৃষকদের সামনে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জে কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এই উদ্ভাবনকে দেশের কৃষিতে ষষ্ঠ বিপ্লবাত্মক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।