০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

গাজায় স্থায়ী শান্তির উদ্যোগে ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডে যোগ দিল পাকিস্তান

গাজায় যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা ও যুদ্ধপরবর্তী পুনর্গঠনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গঠিত শান্তি বোর্ডে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের মতে, এই উদ্যোগ গাজায় স্থায়ী শান্তির পথে বাস্তব অগ্রগতি আনতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণে পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের কাঠামোর মধ্যে গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব ও রাষ্ট্রকে শান্তি বোর্ডে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সেই প্রেক্ষিতেই পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এতে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।

গাজা যুদ্ধবিরতি ও পুনর্গঠনে ভূমিকার প্রত্যাশা

পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শান্তি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথে বাস্তব পদক্ষেপ, ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা বাড়ানো এবং বিধ্বস্ত ভূখণ্ড পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হবে বলে পাকিস্তান আশাবাদী। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক বৈধতা ও জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

দুই রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি সমর্থন

পাকিস্তান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সময়নির্ধারিত ও বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও সংলগ্ন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এই উদ্যোগের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত। উনিশশো সাতষট্টি সালের আগের সীমান্তের ভিত্তিতে এবং আল কুদস শরিফকে রাজধানী রেখে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের অবস্থানেও ইসলামাবাদ অনড় রয়েছে।

শান্তি বোর্ডের কাঠামো ও বিতর্ক

এই শান্তি বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সুইজারল্যান্ডের দাভোসে দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে গাজা পুনর্গঠনের জন্য বোর্ডটি ভাবা হলেও, এর কার্যপরিধি শুধু গাজায় সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। বোর্ডের সদস্য ও ভূমিকা নিয়ে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের কাঠামো জাতিসংঘের ভূমিকা দুর্বল করতে পারে এবং বিদেশি ভূখণ্ডের ওপর তত্ত্বাবধানের ধারণা ঔপনিবেশিক কাঠামোর স্মৃতি জাগায়।

ট্রাম্পের মন্তব্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে এই শান্তি বোর্ড জাতিসংঘের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। যদিও তিনি একই সঙ্গে বলেন, জাতিসংঘের সম্ভাবনা অনেক এবং সেটিকে কাজ চালিয়ে যেতে দেওয়া উচিত। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

গাজায় বাস্তব পরিস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া অক্টোবরের সমঝোতা প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির বাইরে খুব বেশি অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। সংঘর্ষ কমলেও পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান বলছে, শান্তি বোর্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে তারা ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে গঠনমূলক অবদান রাখতে চায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

গাজায় স্থায়ী শান্তির উদ্যোগে ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডে যোগ দিল পাকিস্তান

১০:০০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

গাজায় যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা ও যুদ্ধপরবর্তী পুনর্গঠনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গঠিত শান্তি বোর্ডে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের মতে, এই উদ্যোগ গাজায় স্থায়ী শান্তির পথে বাস্তব অগ্রগতি আনতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণে পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের কাঠামোর মধ্যে গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব ও রাষ্ট্রকে শান্তি বোর্ডে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সেই প্রেক্ষিতেই পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এতে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।

গাজা যুদ্ধবিরতি ও পুনর্গঠনে ভূমিকার প্রত্যাশা

পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শান্তি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথে বাস্তব পদক্ষেপ, ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা বাড়ানো এবং বিধ্বস্ত ভূখণ্ড পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হবে বলে পাকিস্তান আশাবাদী। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক বৈধতা ও জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

দুই রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি সমর্থন

পাকিস্তান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সময়নির্ধারিত ও বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও সংলগ্ন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই এই উদ্যোগের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত। উনিশশো সাতষট্টি সালের আগের সীমান্তের ভিত্তিতে এবং আল কুদস শরিফকে রাজধানী রেখে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের অবস্থানেও ইসলামাবাদ অনড় রয়েছে।

শান্তি বোর্ডের কাঠামো ও বিতর্ক

এই শান্তি বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সুইজারল্যান্ডের দাভোসে দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে গাজা পুনর্গঠনের জন্য বোর্ডটি ভাবা হলেও, এর কার্যপরিধি শুধু গাজায় সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। বোর্ডের সদস্য ও ভূমিকা নিয়ে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের কাঠামো জাতিসংঘের ভূমিকা দুর্বল করতে পারে এবং বিদেশি ভূখণ্ডের ওপর তত্ত্বাবধানের ধারণা ঔপনিবেশিক কাঠামোর স্মৃতি জাগায়।

ট্রাম্পের মন্তব্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে এই শান্তি বোর্ড জাতিসংঘের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। যদিও তিনি একই সঙ্গে বলেন, জাতিসংঘের সম্ভাবনা অনেক এবং সেটিকে কাজ চালিয়ে যেতে দেওয়া উচিত। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

গাজায় বাস্তব পরিস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া অক্টোবরের সমঝোতা প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির বাইরে খুব বেশি অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। সংঘর্ষ কমলেও পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান বলছে, শান্তি বোর্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে তারা ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে গঠনমূলক অবদান রাখতে চায়।