০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

গাজা চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হতে পারে আগামী বছরের শুরুতেই, বলছে তুরস্ক

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ আগামী বছরের শুরুতেই কার্যকর হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তুরস্ক। যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, এই ধাপের মূল লক্ষ্য হবে গাজার শাসনভার একটি ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া।

আলোচনার অগ্রগতি ও তুরস্কের অবস্থান
ডামাস্কাসে এক সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদান জানান, চুক্তির পরবর্তী ধাপে যেতে যেসব বাধা রয়েছে, সেগুলো নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধবিরতি টেকসই করতে হলে গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব ফিলিস্তিনিদের হাতেই ফিরতে হবে। তুরস্ক এই প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।

পশ্চিম তীরে বসতি অনুমোদনে ক্ষোভ
এই প্রেক্ষাপটে আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইত অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন উনিশটি ইহুদি বসতি অনুমোদনের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন এবং একটি সংযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে নস্যাৎ করার চেষ্টা। তিনি আরও বলেন, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা কার্যত রাষ্ট্রের মদদে পরিচালিত সন্ত্রাসের শামিল।

মানবিক সহায়তায় নতুন সংকটের আশঙ্কা
ইসরায়েলের নতুন নিবন্ধন নীতির কারণে গাজা ও পশ্চিম তীরে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো। নতুন নিয়মে বহু বেসরকারি সংস্থার আবেদন বাতিল হয়েছে, যাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে গাজায় কাজ করছে। সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে খাদ্য, চিকিৎসা ও শিশু সুরক্ষাসহ জরুরি সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

সহায়তা প্রবাহ এখনও অপ্রতুল
যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে প্রতিদিন ছয়শ ট্রাক সহায়তা প্রবেশের কথা থাকলেও বাস্তবে একশ থেকে তিনশ ট্রাকের বেশি ঢুকছে না বলে জাতিসংঘ ও বেসরকারি সংস্থাগুলো জানিয়েছে। বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে থাকা গাজায় এই সীমিত সহায়তা মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে যথেষ্ট নয়।

গাজায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা
নিবন্ধন বাতিল হওয়া সংস্থাগুলোর মধ্যে শিশু সহায়তায় পরিচিত একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনও রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক কর্মীরা সরে যেতে বাধ্য হলেও স্থানীয় কর্মী ও অংশীদারদের মাধ্যমে শিশুদের মানসিক সহায়তা ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

গাজা চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হতে পারে আগামী বছরের শুরুতেই, বলছে তুরস্ক

০৬:৫০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ আগামী বছরের শুরুতেই কার্যকর হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তুরস্ক। যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, এই ধাপের মূল লক্ষ্য হবে গাজার শাসনভার একটি ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া।

আলোচনার অগ্রগতি ও তুরস্কের অবস্থান
ডামাস্কাসে এক সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদান জানান, চুক্তির পরবর্তী ধাপে যেতে যেসব বাধা রয়েছে, সেগুলো নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধবিরতি টেকসই করতে হলে গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব ফিলিস্তিনিদের হাতেই ফিরতে হবে। তুরস্ক এই প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।

পশ্চিম তীরে বসতি অনুমোদনে ক্ষোভ
এই প্রেক্ষাপটে আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইত অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন উনিশটি ইহুদি বসতি অনুমোদনের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন এবং একটি সংযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে নস্যাৎ করার চেষ্টা। তিনি আরও বলেন, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা কার্যত রাষ্ট্রের মদদে পরিচালিত সন্ত্রাসের শামিল।

মানবিক সহায়তায় নতুন সংকটের আশঙ্কা
ইসরায়েলের নতুন নিবন্ধন নীতির কারণে গাজা ও পশ্চিম তীরে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো। নতুন নিয়মে বহু বেসরকারি সংস্থার আবেদন বাতিল হয়েছে, যাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে গাজায় কাজ করছে। সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে খাদ্য, চিকিৎসা ও শিশু সুরক্ষাসহ জরুরি সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

সহায়তা প্রবাহ এখনও অপ্রতুল
যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে প্রতিদিন ছয়শ ট্রাক সহায়তা প্রবেশের কথা থাকলেও বাস্তবে একশ থেকে তিনশ ট্রাকের বেশি ঢুকছে না বলে জাতিসংঘ ও বেসরকারি সংস্থাগুলো জানিয়েছে। বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে থাকা গাজায় এই সীমিত সহায়তা মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে যথেষ্ট নয়।

গাজায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা
নিবন্ধন বাতিল হওয়া সংস্থাগুলোর মধ্যে শিশু সহায়তায় পরিচিত একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনও রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক কর্মীরা সরে যেতে বাধ্য হলেও স্থানীয় কর্মী ও অংশীদারদের মাধ্যমে শিশুদের মানসিক সহায়তা ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা করা হবে।