০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের অঙ্ক দুই বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক দায়ের চাপের মধ্যে সরকারকে এই বড় অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ঋণ পরিশোধের সাম্প্রতিক চিত্র
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বুধবার প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশ মূল ও সুদ মিলিয়ে মোট দুই দশমিক এক নয় বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে। এই অঙ্কটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দুইশ দশ মিলিয়ন ডলার বেশি।

বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরেই বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমশ বেড়েছে। শুধু গত অর্থবছরেই দেশকে চার বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে হয়েছে। এতে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য নতুন অর্থের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।

ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের ভারসাম্য
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা দেশগুলোর কাছ থেকে প্রায় দুই দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণ ছাড় পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে একই সময়ে আগের নেওয়া ঋণ পরিশোধেই ব্যয় হয়েছে প্রায় দুই দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার। ফলে প্রাপ্ত অর্থের বড় অংশ নতুন উন্নয়ন কার্যক্রমে নয়, বরং পুরোনো ঋণ শোধেই ব্যয় হয়েছে।

নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতির হ্রাস
এই সময়ে নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি এসেছে মোট এক দশমিক নয় নয় বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের দুই দশমিক তিন শূন্য বিলিয়ন ডলারের তুলনায় কম। ডিসেম্বর মাসে একাই সাতশ সত্তর মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ।

প্রধান ঋণদাতা দেশ ও সংস্থা
জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে ঋণ ছাড়ের ক্ষেত্রে রাশিয়া ছিল শীর্ষে, দেশটি পাঁচশ ছিয়াত্তর মিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে। এর পরেই রয়েছে বিশ্বব্যাংক, যারা পাঁচশ পঞ্চাশ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ছাড় করেছে পাঁচশ বিশ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া চীন থেকে এসেছে দুইশ বিশ মিলিয়ন ডলার, ভারত দিয়েছে একশ পাঁচ মিলিয়ন ডলার এবং জাপান ছাড় করেছে একশ বিশ মিলিয়ন ডলার।

নতুন প্রতিশ্রুতির ঘাটতি
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সূত্র জানায়, ভারত, চীন, রাশিয়া ও জাপানের মতো প্রধান দ্বিপক্ষীয় অংশীদাররা এই ছয় মাসে কোনো নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবে আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির আওতায় অর্থ ছাড় অব্যাহত রেখেছে তারা। একইভাবে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকও এই সময়ে বাংলাদেশকে নতুন কোনো ঋণ প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় চাপ
কর্মকর্তারা বলছেন, ঋণ ছাড় ও ঋণ পরিশোধের ব্যবধান ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসায় দেশের বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ছে। এর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও চাপ অব্যাহত রয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

০৯:১৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের অঙ্ক দুই বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক দায়ের চাপের মধ্যে সরকারকে এই বড় অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ঋণ পরিশোধের সাম্প্রতিক চিত্র
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বুধবার প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশ মূল ও সুদ মিলিয়ে মোট দুই দশমিক এক নয় বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে। এই অঙ্কটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দুইশ দশ মিলিয়ন ডলার বেশি।

বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরেই বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমশ বেড়েছে। শুধু গত অর্থবছরেই দেশকে চার বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে হয়েছে। এতে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য নতুন অর্থের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।

ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের ভারসাম্য
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা দেশগুলোর কাছ থেকে প্রায় দুই দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণ ছাড় পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে একই সময়ে আগের নেওয়া ঋণ পরিশোধেই ব্যয় হয়েছে প্রায় দুই দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার। ফলে প্রাপ্ত অর্থের বড় অংশ নতুন উন্নয়ন কার্যক্রমে নয়, বরং পুরোনো ঋণ শোধেই ব্যয় হয়েছে।

নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতির হ্রাস
এই সময়ে নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি এসেছে মোট এক দশমিক নয় নয় বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের দুই দশমিক তিন শূন্য বিলিয়ন ডলারের তুলনায় কম। ডিসেম্বর মাসে একাই সাতশ সত্তর মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ।

প্রধান ঋণদাতা দেশ ও সংস্থা
জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে ঋণ ছাড়ের ক্ষেত্রে রাশিয়া ছিল শীর্ষে, দেশটি পাঁচশ ছিয়াত্তর মিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে। এর পরেই রয়েছে বিশ্বব্যাংক, যারা পাঁচশ পঞ্চাশ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ছাড় করেছে পাঁচশ বিশ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া চীন থেকে এসেছে দুইশ বিশ মিলিয়ন ডলার, ভারত দিয়েছে একশ পাঁচ মিলিয়ন ডলার এবং জাপান ছাড় করেছে একশ বিশ মিলিয়ন ডলার।

নতুন প্রতিশ্রুতির ঘাটতি
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সূত্র জানায়, ভারত, চীন, রাশিয়া ও জাপানের মতো প্রধান দ্বিপক্ষীয় অংশীদাররা এই ছয় মাসে কোনো নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তবে আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির আওতায় অর্থ ছাড় অব্যাহত রেখেছে তারা। একইভাবে এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকও এই সময়ে বাংলাদেশকে নতুন কোনো ঋণ প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় চাপ
কর্মকর্তারা বলছেন, ঋণ ছাড় ও ঋণ পরিশোধের ব্যবধান ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসায় দেশের বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ছে। এর সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও চাপ অব্যাহত রয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।